নাঙ্গলকোটে আর্সেনিকের অর্ধশতাধিক রোগী শনাক্ত

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে আর্সেনিকের ভয়াবহতা দেখা দিয়েছে। এ পর্যন্ত অন্তত অর্ধশতাধিক রোগী শনাক্ত হয়েছে। আর্সেনিকযুক্ত টিউবওয়েলের পানি পান করার কারণে এ রোগের ভয়াবহতা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে চিকিত্সকদের অভিমত। উপজেলার আদ্রা ইউপির আর্সেনিক আক্রান্ত এলাকা ঘুরে দেখা যায় পুরো আদ্রা জুড়ে বিভিন্ন গ্রাম, পাড়ায় আর্সেনিকের ভয়াবহতা বিরাজ করছে। এখানকার মেছুরা বেগম (৫০), ছখিনা বেগম (৪৫), ফজিলতের নেছা (৪৫), জান্নাতুল ফেরদাউস (৩৫), কুসুম আক্তার (৩৫), ব্যবসায়ী তাজুল ইসলাম (৫৫), কলেজ ছাত্র ফারুক (২০), আজিম (৮), উম্মে রুমা (২৫), হারুনুর রশিদ (৪৫) সবাই আর্সেনিকে আক্রান্ত। মেছুরা বেগম জানান, গত ১০ বছর ধরে আর্সেনিকের যন্ত্রণা ভোগ করে আসছি। দেড় বছর থেকে স্থানীয় স্বাস্থ্য সহকারীর মাধ্যমে ওষুধ সেবন করলেও গত ৬ মাস ওষুধ সেবন না করায় আর্সেনিকের তীব্র যন্ত্রণায় তিনি কাতর। ব্যবসায়ী তাজুল ইসলাম জানান, হাসপাতাল থেকে কিছুদিন ওষুধ প্রদান করা হলেও এখন দেয়া হয় না। তিনি দোকান থেকে ভিটামিন ওষুধ কিনে সেবন করছেন। তাদের সবার হাত, পিঠ, পায়ে আবার অনেকের পুরো শরীর জুড়ে আর্সেনিক আক্রান্তের লক্ষণ রয়েছে। উল্লেখ্য, নাঙ্গলকোটের ৮টি ইউনিয়নে আর্সেনিকের ভয়াবহতা বিরাজ করছে। তার মধ্যে জলাঞ্চলখ্যাত আদ্রা এবং জোড্ডা ইউনিয়নে আর্সেনিকে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মতে, দীর্ঘদিন থেকে আর্সেনিকে আক্রান্ত রোগীদের ধীরে-ধীরে ক্যান্সার, আলসার রোগে আক্রান্ত এবং কিডনি পর্যন্ত অকেজো হওয়ার আশঙ্কা। নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ লিয়াকত আলী বলেন, আর্সেনিকের নির্দিষ্ট কোন চিকিত্সা নেই। তবে প্রধান চিকিত্সা হচ্ছে আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েলের পানি পান করা।