নাটোরে মুক্ত জলাশয়ে মাছ ধরতে বাধা

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার ঝাঁকড়া গ্রামে মুক্ত জলাশয়ে মাছ ধরতে দিচ্ছেন না প্রভাবশালীরা। এতে স্থানীয় শতাধিক মত্স্যজীবী পরিবারের ৬ শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত্ স্থানীয় চাকল টেঙ্গরগাড়ি বিল, রওশনপুর ও ঝাঁকড়া মাঠের খাস জলাশয় ও তুলশীকাটা নদীর জলমহালে ঝাঁকড়া মত্স্যজীবী সমবায় সমিতির সদস্যরা মাছ ধরতেন। ২/৩ বছর থেকে রওশনপুর ও ঝাঁকড়া মাঠের খাস জলাশয় ও তুলশীকাটা নদীর জলমহালে স্থানীয় মত্স্যজীবীদের মাছ ধরতে বাধা দেয় স্থানীয় প্রভাবশালী মহল। তারা উভয় জলাশয় নিজেদের লিজ নেয়া বলে প্রচার করে দখলে নিয়ে নেয়। ঝাঁকড়া মত্স্যজীবী সমবায় সমিতির সদস্যরা বাধা অমান্য করে মাছ ধরতে গেলে প্রভাবশালীদের হাতে নফসের আলী, মকবুল, ইসমাইল ও সেলিমসহ অনেকে নির্যাতনের শিকার হন। বর্তমানে মাছ ধরার মৌসুমে তারা জলাশয়ে মাছ ধরতে পারছেন না। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা খেয়ে না খেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ঝাঁকড়া গ্রামের প্রবীণ মত্স্যচাষী ইউসুফ আলী বলেছেন, তারা আর কোন কাজও জানেন না। ফলে এই বৃদ্ধ বয়সে এখন তারা তিন বেলা দু’মুঠো ভাতও খেতে পাচ্ছেন না। পরিবারের অবুঝ শিশুরা পর্যন্ত অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। এ ব্যাপারে ঝাঁকড়া মত্স্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি মোশাররফ জানান, আমরা স্থানীয় মত্স্যজীবীরা চাঁদা তুলে এ জলমহালে মাছ ছেড়েছি। কিন্তু সম্প্রতি প্রতিপক্ষ হানিফ লিজ নেয়ার দাবি করে স্থানীয় জোতদারদের সহযোগিতায় জলমহালটি দখল করে নিয়েছে। আমরা মাছ মারতে পারছি না। উপজেলা চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ একাধিকবার চেষ্টা করেও আমাদের সমস্যার সমাধান করতে পারেননি। অভিযুক্ত সোনাবাজু গ্রামের হানিফ জানান, তিনি ১৪১৮ বাংলা সনের ১ বৈশাখ থেকে পরবর্তী ৫ বছরের জন্য চাকল টেঙ্গরগাড়ি নিষ্কাশন প্রকল্পের ২০ একর কাটাখাল পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে লিজ নিয়েছেন। কিন্তু প্রতিপক্ষরা সেখান থেকে মাছ ধরে খায়। তাই এবার তিনি জলমহালের দখল বুঝে নিয়েছেন। এ ব্যাপারে নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রমজান আলী প্রামাণিক বলেছেন, লিজ না দিলে দিনে দিনে জমি বেহাত হওয়ার আশংকায় জলমহালটি লিজ দেয়া হয়েছে। জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় বিষয়টি তদন্ত করেও দেখা হচ্ছে। নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সাখাওয়াত্ হোসেন বলেছেন, জলমহাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের সম্পত্তি নয়, এটা তারা ইজারা দিতে পারে না। প্রয়োজনে সেটা জেলা প্রশাসন করতে পারে। জেলা প্রশাসন এই জলমহাল ইজারা দেয়নি। তাছাড়া ১৯৯৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত বাংলাদেশ গেজেটের ১ম খণ্ডে সরকার দেশের জেলে সম্প্রদায়ের স্বার্থ সংরক্ষণে এবং তাদের জীবিকা নির্বাহের পথ সুগম করতে নদী, খাল ও উম্মুক্ত জলমহাল ইজারা প্রথা বিলুপ্ত করে।