হাইকোর্টের রায়ের পর আপিল শুনানি শুরু

জেল হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের পর সরকারের করা আপিলের শুনানি শুরু হয়েছে। প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ শুনানি গ্রহণ করেন। পরে আপিল বিভাগ আগামী ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করে। আপিল শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক সাতজন সাক্ষীর বক্তব্য তুলে ধরে বলেন, বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর যাতে গণতান্ত্রিক সরকার আর ক্ষমতায় আসতে না পারে সেটা নিশ্চিত করতেই কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। এই মামলার দুটি দিক আছে। একটি হচ্ছে, অপরাধ সংগঠন, অন্যটি ষড়যন্ত্র। সশস্ত্র সেনা কর্মকর্তারা কারাগারে এসে চার নেতাকে গুলি করে। পরে অপর একটি দল এসে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করে। বঙ্গভবনে ষড়যন্ত্রের বৈঠক থেকে এই দুই দল সেনা কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়। তাই এ দিকটিও বিবেচনায় রাখতে হবে। কারা সেখানে যাবে— সেটাও বঙ্গভবনের বৈঠকে চূড়ান্ত হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম বলেন, এ মামলায় বঙ্গভবন ও কারাগার খুবই গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। হাইকোর্টের রায়ের ‘অসঙ্গতি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ৩ নভেম্বর সামরিক অভ্যুত্থান হয়েছে। তাই বঙ্গভবন থেকে বের হওয়া প্রায় অসম্ভব। টেলিফোন সংযোগ কাটা ছিল তাই কথোপকথনের সুযোগ ছিল না বলে যে তথ্য উল্লেখ করা হচ্ছে তা বিভ্রান্তিকর তথ্য। শুনানিতে কারা মহাপরিদর্শক এটিএম নুরুজ্জামান, উপ কারা-মহাপরিদর্শক কাজী আব্দুল আউয়াল (মামলার বাদী), জেলার মো. আমিনুর রহমান, ডেপুটি জেলার মোহাম্মদ আব্দুর রউফ, কারাগারের নিরাপত্তা প্রহরী মহব্বত আলী, আলাউদ্দিন শিকদার ও মো. ইসমাইল হোসেনের সাক্ষ্য তুলে ধরা হয়। এরা সকলেই সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী। শুনানিকালে আসামির পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন উপস্থিত ছিলেন। পরে আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, এ মামলায় হাইকোর্ট আপিলকারী সকল আসামিকে খালাস দিয়ে একমাত্র রিসালদার মোসলেহ উদ্দিনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। আমরা এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিলে বলেছি, হাইকোর্টের রায় পক্ষপাতদুষ্ট ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। কারণ হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, একজন হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। একজন হত্যাকাণ্ড ঘটায়নি—সেটা প্রমাণ করার জন্যই সাতজন সাক্ষীর বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়েছে। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ ীয় কারাগারে জাতীয় চারনেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমেদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামরুজ্জামানকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর দায়রা জজের দেয়া রায়ে রিসালদার মোসলেম উদ্দিন (পলাতক), দফাদার মারফত আলী শাহ (পলাতক) ও এল ডি (দফাদার) আবুল হাসেম মৃধাকে (পলাতক) মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল হলে হাইকোর্ট ২০০৮ সালে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি দফাদার মারফত আলী শাহ ও আবুল হাশেম মৃধাকে খালাস দেন। রায়ে মোসলেমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারের লিভ টু আপিল ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি আপিল বিভাগ মঞ্জুর করে।