বিশ্বব্যাংক এ মাসেই পদ্মা সেতু প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারে

বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর অ্যালেন গোল্ডস্টেইন বলেছেন, পদ্মা সেতুর দুর্নীতি তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে বিশ্বব্যাংকের নিয়োগ দেয়া আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেল যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সেটি তাদের নিজস্ব। এটি বিশ্বব্যাংকের নয়। তবে বিশেষজ্ঞ দলের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিশ্বব্যাংক এ বিষয়ে তাদের নিজস্ব অবস্থান ব্যাখ্যা করবে। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে রাজধানীর বাস নেটওয়ার্ক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন বিষয়ক এক সেমিনারশেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি আরও বলেন, বিশেষজ্ঞ দলটি পুরোপুরি স্বাধীন। এ মুহূর্তে বিশেষজ্ঞ দলের বক্তব্য জানার জন্য অপেক্ষা করছে বিশ্বব্যাংক। সে বক্তব্য জানার পরই আমরা সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জানুয়ারি মাসেই বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে পারে।’ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে সৃষ্টি হওয়া সকল অনিশ্চয়তা আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে কেটে যাবে। বিশ্বব্যাংক কী ভাবছে, সেটি বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি বলবেন। সরকারের বক্তব্য অর্থ মন্ত্রণালয়, ইআরডি, দুদক বলবে। তবে সরকারের বাকি মেয়াদের মধ্যে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারব বলে আমরা আশাবাদী। এদিকে দাতাদের একটি সূত্রে জানা গেছে, বিশেষজ্ঞ দলের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ও জাইকা প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসবেন। এই বৈঠকেই দাতারা সেতুটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। সূত্র আরও জানান, বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর অ্যালেন গোল্ডস্টেইনের চলতি মাসের শেষে বাংলাদেশ থেকে বদলি হয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের চিঠি ইতিবাচক, কোথাও অসন্তুষ্টির কথা নেই :দুদক চেয়ারম্যান পদ্মাসেতুর পরামর্শক নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলার পর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিশ্বব্যাংকের পাঠানো চিঠিতে কোথাও অসন্তুষ্ট হওয়ার কথা উল্লেখ নেই বলে দাবি করেছেন দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চিঠিটি ইতিবাচক, কোথাও ‘হ্যাপি’ কিংবা ‘আনহ্যাপি’ শব্দটির উল্লেখ নেই। তবে তদন্ত সম্পর্কে তাদের কিছু প্রশ্ন রয়েছে। সে সকল প্রশ্নের উত্তর আমরা যথাসময়ে দেবো। ওই চিঠিতে বিশ্বব্যাংকের ‘প্যানেল অব এক্সপার্টস’ অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেননি, বরং তদন্তের অগ্রগতির জন্য দুদককে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন বলে তিনি জানান। এদিকে গত সোমবার অনানুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে ওই চিঠি প্রসঙ্গে দুদক কমিশনার মো. সাহাবউদ্দিন চুপ্পু বলেছিলেন, এজাহার কপি পাঠানোর পর বিশ্বব্যাংকের বিশেষজ্ঞ প্যানেল দুদকের কাছে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে গতকাল তার বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি আবারো জোর দিয়ে বলেন, ‘আমি যা বলেছি, বুঝে-শুনেই বলেছি। আই এম ক্লিয়ার টু মাই কনশাস।’ তার এই অবস্থান সম্পর্কে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘কমিশনারের বক্তব্য গণমাধ্যমে আসার পর আমি তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাই। তিনি আমাকে বলেছেন, বিশেষজ্ঞ প্যানেলের প্রতিক্রিয়া নিয়ে দুদক সন্তুষ্ট। আমিও তার মন্তব্যের সঙ্গে একমত। তবে তিনি যদি আপনাদের (সাংবাদিকদের) ভিন্ন কিছু বলে থাকেন, সেটার বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।’ দুদক চেয়ারম্যান আরো বলেন, চিঠিতে বিশ্বব্যাংকের কাছে দুদকের মামলা গ্রহণযোগ্য মনে হয়েছে এবং বিশ্বব্যাংক প্যানেল এই মামলাকে ‘পজেটিভ’ বলেছে। এটা চিঠিতে উল্লেখ আছে। আমি মনে করি, বিশ্বব্যাংক প্যানেলের চিঠি অত্যন্ত ইতিবাচক। তবে এই চিঠির ভাষা বুঝতে অত্যন্ত মেধাবী হওয়া প্রয়োজন। সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে মামলায় আসামি না করা প্রসঙ্গটি চিঠিতে উল্লেখ থাকার ব্যাপারে তিনি বলেন, প্যানেল আমাদের সঙ্গে বৈঠকে তাকে আসামি করার ব্যাপারে বলেছিলেন। কিন্তু কমিশনের কাছে তখন পর্যন্ত তাকে মামলার আসামি করার মতো যথেষ্ট তথ্য-উপাত্ত ছিল না। সেটা প্যানেলও মেনে নিয়েছিল। চিঠিতে যা রয়েছে- দুদকের একটি সূত্র জানিয়েছে, বিশ্বব্যাংকের মনোনীত আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ দলের চেয়ারম্যান লুইস মোরেনো ওকাম্পো’র দেয়া চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, তদন্ত শেষে এজাহার দেওয়া দুদকের একটি প্রাথমিক ইতিবাচক পদক্ষেপ। বিশেষজ্ঞ দলটি এজাহারটি পরীক্ষা করে দেখেছে। তবে প্রথম থেকে পর্যায়ক্রমে ঘটনা বিশ্লেষণ করার পর বিশেষজ্ঞ দলটি মনে করে, এটা প্রতিষ্ঠিত যে, দুর্নীতির অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের সঙ্গে ‘সর্বোচ্চ সরকারি কর্মকর্তা’ হিসেবে সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ব্যক্তিগতভাবে জড়িত। চিঠিতে ওকাম্পো আরও লেখেন, এসএনসি-লাভালিনের কর্মকর্তা রমেশ শাহের ডায়েরিতে এই ঘুষের কথা উল্লেখ রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের বিশেষজ্ঞ দলটি মনে করে, সম্পূর্ণ ও সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সাবেক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যাপক তদন্ত এবং অবশ্যই তাকে এজাহারভুক্ত আসামির তালিকায় সংযোজন করতে হবে। প্রসঙ্গত, লুইস গাব্রিয়েল মোরেনো ওকাম্পো নেতৃত্বাধীন ওই প্যানেল দুই দফা বাংলাদেশ সফরের পর দুদক মামলা করে। এই মামলার এজাহারের বিভিন্ন ব্যক্তি ও ঘটনার ব্যাপারে প্যানেলটি দুদককে পরামর্শ দেয়। এরপর গত ১৭ ডিসেম্বর পদ্মাসেতু দুর্নীতির মামলায় সাতজনের বিরুদ্ধে রাজধানীর বনানী থানায় মামলা দায়ের করে দুদক। মামলায় মোট আসামি করা হয় সাতজনকে। এর মধ্যে চারজন বাংলাদেশের। কিন্তু সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীর নাম এজাহারে দেয়া হয়নি। তবে তাদের অপরাধের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্তকালে খতিয়ে দেখা হবে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।