পুলিশের ওপর বোমা হামলা, গাড়িতে আগুন
প্রকাশ : ১৫ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২৮
রাজশাহীতে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে বোমা হামলা চালিয়েছে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। এসময় পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এতে পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার জামায়াতে ইসলামীর ডাকা অর্ধদিবস হরতাল চলাকালে সকাল ৭টার দিকে নগরীর বিনোদপুরে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবির কর্মীদের ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় এই হরতাল আহ্বান করা হয়। তবে রাজশাহী মহানগরী ছাড়া অন্য সাত জেলায় ঢিলেঢালাভাবে হরতাল পালিত হয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে রাজশাহী অফিস জানায়, সকাল ৭টার দিকে
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদ-পুরে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে হরতাল সমর্থনকারীরা টায়ারে আগুন ধরিয়ে বিক্ষোভ করে। পুলিশ বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে শুরু হয় ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ। এক পর্যায়ে জামায়াত-শিবিরের প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী বোমা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে পুলিশ পিছু হটতে বাধ্য হয়। এসময় তারা পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে টিয়ারসেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বিনোদপুর ছাড়াও মহানগরীর হাদিরমোড়, ডিঙ্গাডোবা, শালবাগান ও নওদাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভের চেষ্টা করে পিকেটাররা। তবে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
হরতালে মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও দোকানপাট বন্ধ ছিল। রাজশাহী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার ও আন্তঃজেলা রুটের কোনো যানবাহন ছেড়ে যায়নি। চলাচল করেনি বিআরটিসির বাস। তবে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঢাকাগামী সিল্কসিটি এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন রুটের সকল আন্তঃনগর, মেইল ও লোকাল ট্রেন যথাসময়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় এবং পৌঁছে। হরতালে নাশকতা এড়াতে ভোর পাঁচটার পর থেকে মহানগরীজুড়ে প্রায় দেড় হাজার পুলিশ ও র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়। এর মধ্যেই জামায়াত-শিবির কর্মীরা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক জড়ো হয়ে রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনের চেষ্টা করে।
বগুড়ায় গাড়ি ভাংচুর :বগুড়া প্রতিনিধি জানান, জেলায় ঢিলেঢালাভাবে হরতাল পালিত হয়েছে। হরতাল চলাকালে বাইপাস সড়কের বেলাইলে তিনটি ট্রাক ও শহরের পিটিআই মোড়ে একটি সিএনজি চালিত অটোরিক্সা ভাংচুর করেছে জামায়াত ও শিবির কর্মীরা। তারা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে পিকেটিং করেছে। এসময় পুলিশ বগুড়া সদর ও শাহজাহানপুর থেকে তাদের ৪ কর্মীকে আটক করে। হরতাল চলাকালে শহর ও মহাসড়কে যানবাহন চলাচল করেছে। বেশির ভাগ মার্কেটের দোকানপাট খোলা ছিল। শহরের কেন্দ্রস্থল সাতমাথাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন ছিল।