বিদেশি
সংগীতে মহাকাশের অনুভূতি
প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:৫৮
মূলত উইন্টারসানের জন্ম হয় প্রচণ্ড দৃঢ় মনোবল ও ইচ্ছা থেকে। ইয়ারি মায়েনপা, ব্যান্ডের অন্যতম একজন। তার হাত ধরেই পথচলা শুরু করে উইন্টারসান। ২০০৩ সাল, ফিনল্যান্ডে যাত্রা শুরু হয় উইন্টারসানের। যাত্রার শুরুতে ইয়ারি মায়েনপা একাই ছিলেন। তার পথের সঙ্গী ছিল শুধু গান। এই গান দিয়ে তিনি অন্যরকম এক জগত্ সৃষ্টি করতে চাইতেন সব সময়ই। সব সময়ই তিনি চেয়েছিলেন এমন গান করতে, যেন গান শুনে শ্রোতার মহাশূন্যে ভেসে বেড়ানোর কথা মনে হয়। মনে হবে যেন কোথাও আর কিছু নেই, আছে শুধু গান আর মনের সেই বিস্তীর্ণ জগত্। এই ভেবেই পথচলার শুরু। আর আজ সেই শুরুটাই সফলতার সিঁড়ি বেয়ে উঠে এসেছে হাজারো সংগীতপ্রেমীদের মনে।
শুরুর গল্পটা
তিনি তার বন্ধুদের দেওয়া নামের তালিকা থেকে ব্যান্ডের নাম বাছাই করেন। পরবর্তীকালে তিনি নামের পেছনে যে ব্যাখ্যা দেন, তা থেকে জানা যায় উইন্টারসানের নামের রহস্য। ‘উইন্টার’ হলো প্রচণ্ড ঠান্ডা ও ঝড়ো আবহাওয়া এবং ফিনল্যান্ডের দুঃখ, আশাহীনতা ও জাদুর প্রতিফলন। আবার ‘সান’ হলো মহাশূন্যের সঙ্গে এক নিবিড় সম্পর্কের প্রতিফলন। উইন্টারসান ব্যান্ডের গানের কথায়ও এই বিষয়গুলো ঘুরেফিরে এসেছে।
ইয়ারি মায়েনপা ছিলেন মূলত ‘এনসিফেরাম’ নামক ব্যান্ডের সদস্য। ১৯৯৬ সাল থেকে তিনি এনসিফেরামের সঙ্গে ছিলেন। তারই একটা প্রকল্প ছিল এই উইন্টারসান। তিনি ১৯৯৫ থেকে ২০০৪ সালের মধ্যেই উইন্টারসানের জন্য গান তৈরি করেন। এরপর তিনি উইন্টারসানের ডেমো রেকর্ড নিয়ে রটেন সাউন্ড নামক ব্যান্ডের ড্রামার কাই হাহাতাকে শোনান। ডেমো শুনে কাই হাহাতা উইন্টারসানের খণ্ডকালীন ড্রামার হতে রাজি হন। এরপর তারা দুজন মিলে ‘উইন্টার ম্যাডনেস’, ‘বিয়ন্ড দ্য ডাব সাল’ এবং ‘ডেথ অ্যান্ড হিলিং’-এর ডেমো নিউক্লিয়ার ব্লাস্টের কাছে পাঠান। এরপর নিউক্লিয়ার ব্লাস্ট তাদের সঙ্গে চুক্তি করে। তবে সেখানে শর্ত থাকে যে প্রতিটা অ্যালবামের আরও তিনটা করে ডেমো পাঠাতে হবে। এ চুক্তি হওয়ার পরও মায়েনপা তার মূল ব্যান্ড এনসিফেরামের সঙ্গে কাজ করতে এবং উইন্টারসানকেই তার একটা পার্শ্ব প্রকল্প হিসেবে রাখতে চেয়েছিলেন। তবে ২০০৪ সালে এনসিফেরামের অ্যালবাম প্রকাশনা ও উইন্টারসানের অ্যালবাম রেকর্ড করার সময় যখন মিলে যাচ্ছিল, তখন তিনি এনসিফেরাম ত্যাগ করতে বাধ্য হন। বলা যায়, তাকে একরকম এনসিফেরাম থেকে বেরই করে দেওয়া হয়। এরপর ইয়ারি মায়েনপা ও কাই হাহাতা আরও বেশি করে অ্যালবামে মনোযোগ দেন। এখানে মায়েনপা নিজেই ভোকাল, গিটার, বেজ ও কি বোর্ড বাজিয়েছেন। উইন্টারসান ব্যান্ডটি মূলত মেলোডিক ডেথ মেটাল, পাওয়ার মেটাল, ফোব মেটাল ও সিম্ফোনিক মেটাল ধারার। হেভি মেটাল ব্যান্ড উইন্টারসান ভক্তদের জন্য সুখবর যে ব্যান্ডটি আবারও উঠে এসেছে সবার সামনে। সম্প্রতি দীর্ঘ বিরতির পর বিলবোর্ড শীর্ষ ২০০ অ্যালবামের তালিকায় ১০৯তম স্থান দখল করে আবার নতুনভাবে যাত্রা শুরু করল ‘উইন্টারসান’। তাদের দ্বিতীয় অ্যালবাম টাইম-এর প্রথম খণ্ড বের হওয়ার পর তারা অনেক বছর পর আবার মেটাল জগতে আলোচনায় উঠে এসেছে।