জয়ে ফিরলো রিয়াল

লিগের বাজে ফর্মকে ঝেড়ে ফেলে কোপা ডেল রেতে রিয়াল মাদ্রিদ দেখা দিয়েছে চিরচেনা রূপেই। সান্টিয়াগো বার্নাব্যুতে কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে তারা ভ্যালেন্সিয়াকে হারিয়েছে ২-০ গোলের ব্যবধানে। এই জয়ে সেমিফাইনালের পথে এক পা দিয়ে রাখলো তারা। বিরতির ঠিক আগে ফরাসি ফরোয়ার্ড করিম বেনজামা এবং ম্যাচের ৭৪তম মিনিটে আন্দ্রেস গার্দাদোর আত্মঘাতী গোলে এই জয় আসে। লা লিগায় হতাশাজনক একটি সপ্তাহ পার করার পরে আগামী সপ্তাহে ফিরতি লেগে ভ্যালেন্সিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আগে এই জয় নিশ্চিতভাবেই রিয়ালকে মানসিকভাবেও অনেকটা এগিয়ে দেবে। কোয়ার্টার ফাইনালে বিজয়ী দল সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা অথবা মালাগার। তাদের ম্যাচটি হবে আগামী বুধবারে। এদিকে শেষ আটের অন্য লড়াইয়ে রিয়াল জারাগোজা আতিথেয়তা দেবে সেভিয়াকে আর রিয়াল বেটিস খেলতে যাবে অ্যাথলেটিকো মাদ্রিদের মাঠে। রিয়াল অধিনায়ক ইকার ক্যাসিয়াসও এই জয়কে দেখছেন লা লিগার হতাশার উপশম হিসেবে,‘এটা নিশ্চিতভাবেই দারুণ একটা ফল। কিন্তু কাপটা (কোপা ডেল রে) যেভাবে এগোয় তাতে এটা জেতা মোটেও সহজ নয়। তবে এই জয় মানসিকভাবে আমাদের এক ধাপ উপরে তুলে দেবে এবং লিগের বাজে পারফরম্যান্স ভুলতে সাহায্য করবে।’ লা লিগায় বার বার পা পিছলানো রিয়ালের লিগ জেতার আশা এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়। হোসে মরিনহোকেও তাই সমর্থকরা দাঁড় করিয়েছেন কাঠগড়ায়। রোনালদো যতই তার স্বদেশী পর্তুগিজ এই কোচের ব্যাপারে সমর্থকদের ধৈর্য ধারণ করতে বলেন না কেন মাঠে মরিনহোর নাম মাইকে উচ্চারিত হওয়ার সাথে সাথে সমর্থকরা বাঁশি বাজিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন আর ধৈর্য ধারণ করতে রাজি নন তারা। প্রতিযোগিতামূলক খেলায় এটা ছিল মরিনহোর ৬০০তম ম্যাচ। পায়ের ইনজুরি কাটিয়ে প্রায় তিন মাস পরে এই ম্যাচ দিয়ে মাঠে ফেরেন ব্রাজিলিয়ান ফুলব্যাক মার্সেলো। তবে নিষেধাজ্ঞা আর ইনজুরি মাঠে নামতে দেয়নি দুই সেন্টারব্যাক সার্জিও রামোস এবং পেপে কে। তাদের বদলে মাঠে নামা ঘানার মাইকেল এসিয়েনই মূল ভূমিকা পালন করেন রিয়ালের প্রথম গোলের পেছনে। দারুণ এক কাউন্টার অ্যাটাকে প্রতিপক্ষের সীমানায় হানা দেয়া এসিয়েন বল বাড়ান স্যামি খেদিরার দিকে। খেদিরা ফাঁকায় দাঁড়ানো বেনজামাকে বল দিলে রিয়ালকে খেলার ৩৭ মিনিটে প্রথম গোল এনে দেন বেনজামা। প্রথম গোলের পরে ব্যবধান বাড়ানোর জন্য মরিয়া রিয়ালের দ্বিতীয় গোলটি আসে প্রতিপক্ষের সৌজন্যে। ম্যাচের ৭৪ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় ফ্যাবিও কোয়েনত্রোর নিচু ক্রসকে বিপদমুক্ত করতে গিয়ে নিজেদের জালে জড়িয়ে দেন আন্দ্রেস গার্দেদো। এই গোলের পর পরই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন ভ্যালেন্সিয়ার নতুন কোচ আর্নেস্তো ভালভার্দে। ম্যাচের শেষ দিকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর দারুণ দুটি প্রচেষ্টা রুখে দেন ভ্যালেন্সিয়া গোলরক্ষক ভিনসেন্তে গুয়েইতা।