রফতানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ ১০টি বাণিজ্যিক মিশন

চলতি অর্থ বছরের প্রথম চার মাসে বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসে দায়িত্বরত ১০টি বাণিজ্যিক মিশন রফতানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। ব্যর্থতার কারণ জানতে চেয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। কি কারণে তারা ব্যর্থ হয়েছে সে তথ্য বিস্তারিতভাবে আগামী মাসে কমিটিকে জানাতে মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে। বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোতে ১৯টি বাণিজ্যিক মিশন রয়েছে। চলতি অর্থ বছরে বাংলাদেশের রফতানির লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ২৮ হাজার মিলিয়ন মার্কিন ডলার। সংসদ সচিবালয়ের সূত্র জানায়, গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে চলতি অর্থ বছরের রফতানির বিষয়টি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। আর আলোচনার সময় রফতানির ক্ষেত্রে ১০টি মিশনের ব্যর্থতার চিত্র বেরিয়ে আসে। কোন কোন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাসের বাণিজ্যিক মিশন রফতানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে তার নাম বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কমিটিকে অবহিত করা হয়েছে। এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে যে তথ্য দেয়া হয়েছে তাতে ১০টি বাণিজ্যিক মিশনের নাম রয়েছে। এগুলো হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, জার্মানি, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, আমষ্টারডাম, চীন, জাপান, ইরান ও ভারত। মন্ত্রণালয় কমিটিকে বলেছে, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপজুড়ে অর্থনৈতিক মন্দাই হচ্ছে রফতানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থতার প্রকৃত কারণ। তাছাড়াও আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশে উত্পাদিত পণ্যের প্রচার-প্রচারণা করতে না পারা, উত্পাদিত পণ্যের দাম কমে যাওয়া এবং এর গুণগত মান সম্পর্কে সঠিক চিত্র তুলে না ধরারও কাজ করেছে। আর সে কারণে বাংলাদেশের উত্পাদিত পণ্যের প্রচার বিদেশি ক্রেতাদের কাছে যেতে পারেনি। গতকালের বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, ১৬টি দেশে বাংলাদেশের দূতাবাসের ১৯টি বাণিজ্যিক মিশনকে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আরো বেশি সক্রিয় ভূমিকা রাখতে বলা হয়েছে। এসব মিশনের মাধ্যমে চলতি অর্থ বছরে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ হাজার ৭৬৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। গত বছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চার মাসে রফতানির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সফল হয়েছে যেসব মিশন সেগুলো হলো কানাডা, স্পেন, অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মালয়েশিয়া। দেশের বর্তমান রফতানি প্রবৃদ্ধি হচ্ছে ৭.০১ শতাংশ। সংসদীয় কমিটির সদস্যরা বিদেশে বাংলাদেশেরে পণ্যের নতুন বাজারের খোঁজ করার পরামর্শ দিয়েছেন। এ ব্যাপারে কমিটি ব্যবসায়ীদের সার্বিক সহযোগিতা করা, দেশীয় পণ্য রফতানি করে যেসব প্রতিষ্ঠান তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা এবং দেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করার কথা বলেছে। গতকালের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি এবিএম আবুল কাসেম।