শেয়ারবাজার স্থিতিশীলতায় বাংলাদেশ ফান্ডের ব্যবহার নিয়ে এবিবির প্রশ্ন

পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতায় বাংলাদেশ ফান্ডের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সভাপতি মো. নুরুল আমিন। গতকাল বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী সম্মিলিত জাতীয় ঐক্য পরিষদের ছয় সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে এক বৈঠক শেষে তিনি বলেন, ব্যাংক শেয়ারবাজারের প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী হিসাবে চিহ্নিত নয়। এরপরও বাজার স্থিতিশীলতায় ব্যাংকগুলো সাধ্যমতো চেষ্টা করছে। তবে বাজার স্থিতিশীলতায় গঠিত ৫ হাজার কোটি টাকার বাংলাদেশ ফান্ড বাজারে সঠিকভাবে ব্যবহার হয়েছে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। মো. নুরুল আমিন সাংবাদিকদের আরও বলেন, বর্তমানে দেশের পুঁজিবাজারে তারল্য সঙ্কটের চেয়ে আস্থার সঙ্কটই প্রধান সমস্যা। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এমন কোনো খারাপ অবস্থায় নেই যে, পুঁজিবাজারের লেনদেন এতো নিচে নেমে যাবে। আস্থার সঙ্কটের কারণেই বিনিয়োগ আসছে না। নুরুল আমিন বলেন, ব্যাংকগুলো সরাসরি পুঁজিবাজারে কোনো কাজ করে না। মার্চেন্ট ব্যাংকের মাধ্যমে ব্যাংকগুলো পুঁজিবাজারে কাজ করে। তাছাড়া ব্যাংকের কাজ হলো মানি মার্কেট নিয়ে। এজন্য ব্যাংকের নিয়ন্ত্রকও ভিন্ন। তবে ব্যাংক পাবলিক লিস্টেড কোম্পানি এবং পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ায় তারা বিনিয়োগকারীদের কাছে দায়বদ্ধ। এ জন্য ব্যাংকগুলোও যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। এবিবি কি পুঁজিবাজার রক্ষায় আশ্বাসই দিয়ে যাবে? সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে নুরুল আমিন বলেন, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ব্যাংকগুলোর নিজস্ব ব্যাপার। আশ্বাস দেয়ার পর প্রত্যেকটি ব্যাংকের পোর্টফোলিও যাচাই করলে বুঝা যাবে কে কি করেছে। বৈঠকে বিনিয়োগকারী সম্মিলিত পরিষদের আহ্বায়ক রুহুল মো. আমিন, সদস্য সচিব আতাউল্লাহ নাঈম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু হান্নান লাবলু এবং যুগ্ম আহ্বায়ক আজাদ আহসান বাচ্চু উপস্থিত ছিলেন। এসময় তারা এবিবির সভাপতির কাছে ১২ দফা দাবি পেশ করেন। আগামী ১৮ জানুয়ারি মুদ্রানীতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে বিনিয়োগকারীদের দাবিগুলো উত্থাপন করা হবে বলে এবিবি সভাপতি উল্লেখ করেন। দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ব্যাংকের মোট আয়ের ১০ শতাংশ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের শর্ত বহাল রাখা, আমানতের সুদের হার ৮ শতাংশ নির্ধারণ করা, বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে এসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির সনদ প্রদান করা, ব্যাংকগুলোকে বাজারে ফিরিয়ে আনতে কেন্দ ীয় ব্যাংকের উদ্যোগ গ্রহণ এবং আসন্ন মুদ্রানীতি বাজারবান্ধব করা ইত্যাদি।