মু খো মু খি

অডিও বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না

আপনি তো এবার জাতীয় পুরস্কার পেলেন। এর অনুভূতিটা একটু শেয়ার করুন— পুরস্কার তো সবার জন্যই ভালো লাগার বিষয়। গতবারও যেই গানটির জন্য পেয়েছি সেই গানটিও দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে, এবারেরটিও তাই। আর দুটো গানই আমার খুবই প্রিয় গান। যার জন্য ভালোলাগাটা আরও বেশি। আর স্বাভাবিকভাবেই যেকোনো সৃষ্টির স্বীকৃতি পাওয়া গেলে অবশ্যই ভালো লাগার বিষয়। আর কাজ তো করি অনেক পরিশ্রম করে, সেই পরিশ্রমের এই স্বীকৃতি অবশ্যই আনন্দের। বরাবরই আমি কাজের ব্যাপারে সিরিয়াস। একটা গান তো একটা ফিল্মের ক্যাম্পেইনসহ এর মানের ক্ষেত্রেও অনেক বড় ভূমিকা রাখে। কিন্তু আমাদের ফিল্মের গান তেমন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে না, পেলেও হাতে গোনা দুয়েকটা। এর কারণ কী বলে মনে হয় আপনার? ফিল্মতো আসলে একটা টিম ওয়ার্ক, যেখানে অভিনয়শিল্পী, পরিচালক, প্রযোজক, ইউনিটের অন্যরাসহ শিল্পী ও কম্পোজারের ভূমিকাও থাকে এখানে। সবার কাজের উপর ভিত্তি করে একটা ফিল্মের মান ও জনপ্রিয়তা। ফিল্মের অন্যান্য জায়গায় ত্রুটি হলে কিন্তু এর খেসারত সব জায়গায়ই ছড়ায়। তারপরেও আমাদের দেশের মানুষের ব্যস্ততা বেড়েছে অনেক। সব দেশেই সংস্কৃতি লালন করে। গান শোনাটা বা বিনোদনের মধ্যে থাকার চেষ্টা করে সবচেয়ে বেশি মধ্যবিত্তরা। সেই মধ্যবিত্তরাই এখন অনেক ব্যস্ত। তারা গান শোনারও সময় পায় না। অন্যদিকে আমাদের এতগুলো মিডিয়া—কোনটা ছেড়ে কোনটা শুনবে। আর আমাদের কাজ তো সব খেয়ে ফেলে পাইরেসিই। আপনি তো গাঙচিল ছাড়লেন। এর কারণ কী? আসলে অডিও বাজারের অবস্থা খুব বেশি খারাপ, তাই তাদের সঙ্গে থাকার মনমানসিকতা হারিয়ে ফেলেছি। পাইরেসি জিনিসটা এত সহজ হয়ে গেছে যে, এইচএমভির মতো প্রতিষ্ঠানও দেউলিয়া হয়ে গেছে। এভাবেই যদি চলতে থাকে তাহলে পরবর্তীতে আমাদের অডিও শিল্পের কী হবে? আমাদেরকে সেই টেকনোলজিতে যেতে হবে, যাতে কেউ পাইরেসি করতে না পারে। একটু খরচ বেশি হয়ে যাবে। নতুবা এই অডিও বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না। এবারে আপনার বর্তমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে বলুন— আমার পরবর্তী অ্যালবামের কাজ চলছে। পূর্ণোদ্যমে কাজ চলছে এই অ্যালবামের। এখনও নাম ঠিক হয়নি। প্রিন্স মাহমুদের কথা ও সুরে এই অ্যালবামটি করছি। এ বছরের মধ্যেই অ্যালবামটি বাজারে ছাড়ব। এ ছাড়া স্টেজ শো নিয়ে সময় কাটাচ্ছি। আমাদের এখন অনেক গানের ভিডিও হচ্ছে। সম্প্রতি ৩০ থেকে ৩৫ লক্ষ টাকা খরচ করেও ভিডিও নির্মাণের খবর পাওয়া গেছে। আমাদের অডিও ইন্ডাস্ট্রিতে যখন কোনো ব্যবসাই নেই, সেখানে নিজের পকেট থেকে এত টাকা খরচ করার কারণ কী? আদৌ সে এত টাকা খরচ করেছে কি না তা নিয়ে সন্দেহ আছে। হয়তো সে বলতে ভুল করেছে অথবা ইচ্ছে করেই ভুলটা বলেছে। যাই হোক, এত টাকা খরচ করে ভিডিও বানানোর জায়গাটাই তো দেখি না। দেড়, দুই বা পাঁচ-দশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্বাভাবিক। আমিও তো আমার অ্যালবামের মিউজিক ভিডিও করব। তবে এত টাকা খরচ করার ইচ্ছে তো নেই। আর এই সময়ে এসে মিউজিক ভিডিও করাটা প্রয়োজন। স্ক্রিনে গান না এলে কোনো লাভ হয় না। তাই মিউজিক ভিডিওটা আমিও করব।