বোর্ডের পাশে আছে ফ্রাঞ্চাইজিগুলো

পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা না আসায় বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) দলগুলো যতোটা বিপদে পড়বে বলে ভাবা গিয়েছিল, ততোটা অন্তত শঙ্কিত নয় দল মালিকগুলো। খুলনা রয়েল বেঙ্গল ও রংপুর রাইডার্স ছাড়া বাকি পাঁচ দল পাকিস্তানি ছাড়া বিপিএলের জন্য নিজেদের একরকম প্রস্তুতই করে ফেলেছে। তাদের ভাষ্য পরিষ্কার, তারা বিকল্প খুঁজবে, তবে কেউ মরিয়া নয়। আর সাত দলেরই সামগ্রিক প্রতিক্রিয়া হল, বিসিবির এই সিদ্ধান্তে তাদের ক্ষতি হলেও তারা বোর্ডের পাশে থাকছে। মুখে যে যাই বলুন, পাকিস্তানিরা না আসায় সাতটি দলই কমবেশি ধাক্কা খেয়েছে। বিপিএল দ্বিতীয় আসরের নিলামে ওঠা ৫১ জন পাকিস্তানি খেলোয়াড়ের মধ্যে ২৭ জন খেলোয়াড় বিক্রি হয়েছিলেন। সাত দলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাকিস্তানি আছে খুলনা রয়েল বেঙ্গল দলে। সাত পাকিস্তানি নিয়েছে তারা। শোয়েব মালিক, উমর আকমল, ওয়াইজ জিয়া, উমর আমিন, আহমেদ শেহজাদ, হারিস সোহেল এবং বিল্লাল ভাটিকে নিয়েছে খুলনা রয়েলস। স্বভাবতই সবচেয়ে বিপাকেও পড়েছে এই দলটি। একমাত্র তারাই পাকিস্তানিদের হারিয়ে খেলা পেছানোর জন্যও বিপিএল কমিটির কাছে মিনতি করছে। খুলনা দলটির পরিচালক আশফাকুর রহিম বলেন, ‘আমরা সাগরে পড়ে গেছি। এত স্বল্প সময়ের মধ্যে বিকল্প খেলোয়াড় যোগার করাটাও অসম্ভব ব্যাপার। আমাদেরকে একটু সময় দিতে হবে। আমরা বিপিএল গভর্নিং কমিটির কাছে জানাবো যেন আমাদের খেলাটা পিছিয়ে দেয়া হয়’। তবে বাকি দলগুলোর কেউ এরকম মরিয়া কথাবার্তা বলছে না। যেমন রংপুরও বেশ ঝামেলায় আছে। তারা বিপিএলের জন্য চার পাকিস্তানি শারজিল খান, আনোয়ার আলি, রাজা আলী দার ও জোহাইব খানকে কিনেছিল। রংপুরের কর্মকর্তারা মানছেন, বিকল্প জোগাড় করতে কষ্ট হচ্ছে; তবে কাজটা অসম্ভব না। দলটির উপদেষ্টা ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন তারা বিকল্প খেলোয়াড় খুঁজছেন। এ ছাড়া বাকি দলগুলোর খুব একটা দুশ্চিন্তা নেই। যেমন চিটাগাং কিংসের ইমরান নাজির ও ওহাব রিয়াজ ছিলেন পাকিস্তানি। কিন্তু এই দলটি আপাতত বিকল্প খেলোয়াড় নিয়ে খুব একটা ভাবছেই না। চিটাগাং কিংসের মালিক সামির কাদির বলেন, ‘নাজির ও রিয়াজের ভালো বিকল্প আমাদের হাতেই রয়েছে। তাই আপাতত বাড়তি কোন খেলোয়াড় খুঁজছি না’। বিকল্প খোঁজ করছিল দুরন্ত রাজশাহী। তাদের হয়ে পাকিস্তানের আব্দুল রাজ্জাক, মোহাম্মদ সামি, শাহজাদ ও খালেদ লতিফের খেলার কথা ছিল। তারা ইতিমধ্যে সমাধানও অনেকটা করে ফেলেছে। দলটির চেয়ারম্যান জানালেন, ইতোমধ্যে চারজন খেলোয়াড় তারা চূড়ান্ত করেছে। এরমধ্যে তারা অস্ট্রেলিয়ার সায়মন ক্যাটিচ, শ্রীলংকার জিহান মুবারক ও দিলশান মুনাদিরা এবং ইংল্যান্ডের মঈন আলিকে নিশ্চিত করেছে। বিপিএল শুরুর পর আরো খেলোয়াড় দলে নিবে বলে জানান দলটির চেয়ারম্যান। সিলেট রয়েলস নিয়েছিল আজিম ঘুম্মান ও জুলফিকার বাবরকে। বরিশাল বার্নার্সের হয়ে খেলার কথা উমর গুল, হাম্মাদ আজম, কামরান আকমল ও সাঈদ আজমলের। সিলেট ইতিমধ্যে বিকল্প হিসেবে এলটন চিগুম্বুরা, মোহাম্মদ নবী, সুলেমান বেন, ডার্ক ন্যানেস, চন্দরপল ও পল স্টালিংকে একরকম নিশ্চিত করেছে। বরিশাল বার্নার্েসর কোচ সারোয়ার ইমরানও বললেন, ‘আমরা বিকল্প খেলোয়াড় খুঁজছি’। তবে এই বিকল্প খোঁজ করতে গিয়ে পানিতে পড়ে গেছেন, এমন কথা নেই তার কণ্ঠে। পাকিস্তানিদের সংখ্যার দিক থেকে সবচেয়ে কম কিনেছিল ঢাকা গ্লাডিয়েটর্স। গত আসরের সবচেয়ে বেশি টাকা আয় করা এবং এ আসরেও চড়া দামে বিক্রি হওয়া শহীদ আফ্রিদি ছিল তাদের দলে। তারপরও শহীদ আফ্রিদিকে না পাওয়ার সম্ভবনায় খুব চিন্তিত নয় তারা। ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সের মিডিয়া ম্যানেজার মিনহাজ উদ্দিন বলেছেন, ‘শহীদ আফ্রিদির বিকল্প খোঁজা হচ্ছে। তবে শহীদ আফ্রিদির বিকল্প খেলোয়াড় নিয়ে আমরা অতটা চিন্তিত নই’। তবে যে যাই বলুন, বিসিবিও জানে, পাকিস্তানিরা না আসার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ফ্রাঞ্চাইজিদের। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনও সেটা স্বীকার করেছেন, ‘কিছু বিকল্প খেলোয়াড় আমরা জোগাড় করতে পেরেছি। দুই একটি ছাড়া কোন অংশে পাকিস্তান খেলোয়াড়দের চেয়ে কম নয়। ফ্রাঞ্চাইজিদের জন্য এটা বিরাট ধাক্কা তো বটে। আমার ধারণা ফ্রাঞ্চাইজিরা যে ধরনের খেলোয়াড় চাচ্ছিল আমরা তাদের কাছাকাছি খেলোয়াড় আনতে পারছি’। জানা গেছে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাইরন পোলার্ডের সাথে বিসিবির যোগাযোগ হয়েছে। খুব শীঘ্রই তিনি একটি ফ্রাঞ্চাইজির হয়ে বিপিএল খেলবেন বলে বোর্ড থেকে জানা গেছে। শ্রীলংকা থেকেও আরো তিন-চারজন নতুন খেলোয়াড় যোগ দিবে বিপিএলে।