দুই পড়শির রাজনৈতিক টানাপোড়েন
ইন্ডিয়ান হকি লিগে খেলা হলো না পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের
প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:২৮
ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে সৃষ্ট সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও একে অপরের সেনা সদস্যকে খুনের ঘটনার জের টানতে হলো খেলার জগেক। এ উত্তেজনার কারণে দেশে ফিরে যেতে হলো হকি ইন্ডিয়া লিগে খেলতে আসা নয় পাকিস্তানি খেলোয়াড়কে। এমনকি মুম্বাইতে পাকিস্তানের মহিলা ক্রিকেট দলের আসা নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
ভারতের নয়াদিল্লীতে গত সোমবার শুরু হয় পাঁচ দলের ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক এ হকি ইন্ডিয়া লিগ (এইচআইএল)। ইন্টারন্যাশনাল হকি ফেডারেশন (এফআইএইচ) অনুমোদিত চার সপ্তাহের এ লিগে খেলতে এসেছিলেন নয় পাকিস্তানি মোহাম্মদ ইরফান, ইমরান বাট, রিজওয়ান জুনিয়র, রশিদ মেহমুদ, ফরিদ আহমেদ, মোহাম্মদ তৌসিক, শাফকাত রসুল, রশিদ শাহ ও রিজওয়ান সিনিয়র। এদের মধ্যে রশিদ মেহমুদ, ফরিদ আহমেদ, মোহাম্মদ তৌসিক ও ইমরান বাটকে দলভুক্ত করেছিল মুম্বাইয়ের ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। দিল্লীতে খেলার কথা ছিল রিজওয়ান সিনিয়র ও রিজওয়ান জুনিয়রের। কাশিফ পাঞ্জাবের হয়ে এবং ইরফান ও শাফকাতের খেলার কথা ছিল রাচির দলটিতে।
কিন্তু সীমান্তে উত্তেজনার প্রেক্ষিতে ভারতে পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের উপস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ দেখা দেয়। এরই জেরে মঙ্গলবার এ খেলোয়াড়দের হকি লিগটি থেকে প্রত্যাহার করে নেয়ার পর তাদের দেশে ফিরে যেতে বলা হয়। অবশ্য এ খেলোয়াড়দের কেউই সোমবারের উদ্বোধনী ম্যাচে অংশ নেননি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন তারা আর এ লিগে অংশ নেবেন না।
হকি ইন্ডিয়ার প্রধান ও লিগের মূল সংগঠক নরিন্দর বাত্রা নয়াদিল্লীতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিশেষ পরিস্থিতির কারণে পাকিস্তানের নয় খেলোয়াড়কে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। খেলোয়াড়দের স্বার্থ সংরক্ষণের পাশাপাশি সবাইকে পুরো পারিশ্রমিক দেয়া হবে। আমাদের এবং পাকিস্তান হকি ফেডারেশনের মধ্যকার পারস্পরিক বোঝাপড়ার মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মূলত ভারতের পাঁচটি শহরভিত্তিক দল দিল্লী ওয়েভরাইডার্স, জয়পি পাঞ্জাব ওয়ারিয়র্স, উত্তর প্রদেশ উইজার্ডস, মুম্বাই ম্যাজিশিয়ানস ও রাচি রাইনোসকে নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিতে আয়োজিত হচ্ছে ৩৪ ম্যাচের এ লিগ। এতে বিশ্ব হকির শীর্ষস্থানীয় খেলোয়াড়দের দেখা যাবে। ১০ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে এ প্রতিযোগিতা।
এ অঘটনের সূত্রপাত হয় যখন গেল রবিবার মুম্বাইয়ের দলটি উগ্র ডানপন্থী শিবসেনার প্রতিবাদের মুখে অনুশীলন স্থগিত করতে বাধ্য হয়। বাধ্য হয়ে দলটি নয়াদিল্লী চলে যায়। ২০ জানুয়ারি তাদের প্রথম খেলায় মাঠে নামার কথা। এখন তাদের জন্য বরাদ্দ খেলা ছয়টি আয়োজন নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।
এ অঘটনের সূত্রপাত হয় যখন গেল রবিবার মুম্বাইয়ের দলটি উগ্র ডানপন্থি শিবসেনার প্রতিবাদের মুখে অনুশীলন স্থগিত করতে বাধ্য হয়। বাধ্য হয়ে দলটি নয়াদিল্লী চলে যায়। ২০ জানুয়ারি তাদের প্রথম খেলায় মাঠে নামার কথা। এখন তাদের জন্য বরাদ্দ খেলা ছয়টি আয়োজন নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে মুম্বাই হকি এসোসিয়েশনের কর্মকর্তা রাম সিং এএফপিকে বলেন, ‘আমি ধারণা করতে পারছি না কি ঘটবে। তবে পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা থাকলে মুম্বাইয়ে ম্যাচ আয়োজন সহজ হবে না।
পরিস্থিতি যখন এ রকম সেসময়ে মেয়েদের বিশ্বকাপ ক্রিকেটেও পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আট দেশের এ টুর্নামেন্টে প্রাথমিক পর্বে পাকিস্তানের তিনটি খেলায় অংশ নেয়ার কথা। দ্বিতীয় রাউন্ডে আরো চারটি খেলায় অংশ নিতে হবে তাদের। ভারতের জি নিউজ জানায়, সংগঠকরা মুম্বাইয়ের পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের নিয়ে উত্তেজনার প্রেক্ষিতে বিশ্বকাপের খেলাগুলো সেখান থেকে সরিয়ে আহমেদাবাদে নেয়ার কথা ভাবছে। এ নিয়ে আইসিসিকে চিঠি দিয়ে পরিস্থিতি জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় বোর্ড। আইসিসি অবশ্য এ ব্যাপারে এখনো কোন কিছু জানায়নি।