ঠাকুরগাঁও কারাগারে নানা অনিয়ম

ঠাকুরগাঁওয়ের শতবর্ষী জেলা কারাগারে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি ভর করেছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বন্দিদের বসবাস ও প্রশাসনিক কাজ চলছে। যে কোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে এটি। ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগার নিয়ে অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদনের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে পাওয়া গেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এখানে যার কাছে বিড়ি-সিগারেট থাকে, সে কারাগারের রাজা, শেষ হয়ে গেলেই তিনি আবার প্রজা। যার যত বেশি প্রভাব, সে তত বেশি প্রভাবশালী। আর যাদের প্রভাব নেই তাদের হতে হয় সাজাপ্রাপ্তদের নির্যাতনের শিকার। জেলখানায় খাবারের মান খুবই নিম্নমানের বলে জানিয়েছেন একাধিক হাজতি। তবে কারা কর্তৃপক্ষ দাবি করেছেন, বন্দিদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। জেলার কিশোর কুমার নাগ জানান, বন্দিদের সকালে রুটি ও গুড়, দুপুরে সবজি-ডাল-ভাত এবং রাতে সবজি-ডাল-ভাত-মাছ বা মাংস খেতে দেয়া হয়। বন্দিদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করতে আসা স্বজনরা সবচেয়ে বেশি হয়রানির শিকার হন দেখার ঘরে। সেখানে ভালোভাবে কথা শোনা যায় না। কারারক্ষীদের সাহায্য চাইলে তারা আইনের বিভিন্ন অজুহাত তুলে ধরেন। কিন্তু পকেটে ৫০ টাকার নোট ঢুকিয়ে দিতেই তিনি সব আইনের কথা ভুলে যান। পরে দ্বিতীয়বার দেখা করার ব্যবস্থা করে দেন তারা। কারাগারের অভ্যন্তরেও ফেন্সিডিল বা ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি হচ্ছে। বাইরে থেকে এমন খবর শোনা গেলেও অনুসন্ধানে এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে কারাগারে মাদক যে বিক্রি হচ্ছে না তাও ঠিক নয়। কারাগারে বিক্রি হওয়া মাদকের মধ্যে রয়েছে গাঁজা এবং ঘুমের ট্যাবলেট। কারা অভ্যন্তরে কারারক্ষীরা নিজেরাই এসব মাদকদ্রব্য সরবরাহ করছে বলে বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে। মাত্র ১৬৮ জন ধারণ ক্ষমতার ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারে বর্তমানে বন্দি রয়েছেন ২৬৪ জন। এদের মধ্যে বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত আসামি রয়েছেন ৯১ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ২৫৫ ও মহিলা ৯ জন। হাজতি রয়েছেন (বিচারাধীন) ১৭৩ জন। জেল সুপার, জেলার, চিকিত্সকসহ ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারের প্রায় ৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। এছাড়া এখানে প্রধান কারারক্ষীর পদ হলো ২৪টি। এ ব্যাপারে জেলার কিশোর কুমার নাগ বলেন, “ঠাকুরগাঁও জেলা কারাগারে যে জনবল রয়েছে তা ১শ’ বন্দির জন্য। তাই এখানকার নিরাপত্তা জোরদার করতে আরও দ্বিগুণ কারারক্ষী প্রয়োজন।” কারাগারের জেলার কিশোর কুমার নাগ বলেন, কারাবিধি অনুযায়ী একজন বন্দির জন্য ৩৬ বর্গফুট আয়তন, ফাঁসির আসামির জন্য ৫৪ বর্গফুটের সেল এবং বিভিন্ন মেয়াদে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি ও হাজতির জন্য ২৪ বর্গফুট স্থান বরাদ্দ দেয়ার কথা। কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকায় আবাসন সংকট এখানে চরম আকার ধারণ করেছে।