জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি

জলঢাকার কৃষক বোরো চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে

ইরি-বোরো মওসুমের শুরুতে নতুন করে ডিজেলের মূল্য আরও এক দফা বাড়ানোর ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছে এলাকার বোরো চাষীরা। বিগত চার বছরে বিদ্যুতের দাম প্রায় আড়াইগুণ, ডিজেলের দাম প্রায় দ্বিগুণ এবং ইউরিয়া সারের দাম তিনগুণ বাড়ানো হয়। এমনিতে হাড় কাঁপানো ঠান্ডা আর শৈত্যপ্রবাহের কারণে কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে বোরো বীজতলা নষ্ট হওয়ায় আবাদে চরম সঙ্কটের আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘা। গত দু’বছর ধরে সারাদেশের মতো এ এলাকায়ও সব ধরনের ধানের মূল্য কমতে থাকায় লোকসানের মুখে পড়ে বিগত কয়েক বছরের চেয়ে এবার বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রাও কমে গেছে। এর সঙ্গে ডিজেলে ভর্তুকি বন্ধ করে দেয়ায় জলঢাকায় ইরি-বোরো আবাদে সংকট আরও বেড়েছে। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত বছর সেচ মওসুমের শুরুতে আগের বছরের তুলনায় ইউরিয়ার দাম প্রায় দ্বিগুণ, ডিজেলের দাম আগের দু’বছরের তুলনায় প্রায় ৩৯ শতাংশ ও বিদ্যুতের দাম প্রায় ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। ফলে ইরি-বোরো আবাদে উত্পাদন ব্যয়ও প্রায় ৪০/৫০ ভাগ বৃদ্ধি পায়। চলতি বছর উপজেলায় মোট ১৩ হাজার ৪’শ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমির সেচের পানি নির্ধারিত মূল্যের বিনিময়ে তিস্তা সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে সরবরাহ করার কথা থাকলেও প্রতি বছর সেচ মওসুমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় কিছু টাউট প্রকৃতির লোক কৃষকদের জিম্মি করে সেচের পানি সরবরাহের নামে ইচ্ছামত টাকা আদায় করে থাকে। এ নিয়ে অতীতে বহুবার কৃষকদের সাথে পাউবো’র দালালদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া সেচ প্রকল্প এলাকার বাইরের কৃষকরা ইরি-বোরো আবাদের জন্য ডিজেলচালিত সেচযন্ত্রের উপর নির্ভর করে। এসব কারণে উত্পাদন ব্যয়ও সব সময় বেশি হয়। সূত্র মতে, বিদ্যুত্চালিত সেচযন্ত্রে সরকার ২০০৩ সাল থেকে ২৫% ভর্তুকি দিয়ে আসলেও ডিজেলে সেচ ব্যয় প্রায় ৩৫% বেশি হওয়ার পরও তাতে কোন ভর্তুকি দেয়া হয়নি। পরবর্তীতে ২০০৫-০৬ সালে সরকার সেচযন্ত্রে ডিজেল ব্যবহারে কৃষকদের সরাসরি নগদ ভর্তুকি দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ২০০৭-০৮ সালে যেসব জমিতে ডিজেলচালিত যন্ত্রের সাহায্যে সেচ দেয়া হয়েছে সেসব কৃষকদের শতাংশ প্রতি আড়াইশ’ টাকা করে নগদ ভর্তুকি প্রদান করা হয়েছিল। কিন্তু পরের বছর থেকেই সে ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়। গত ৩ জানুয়ারি ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে চলতি বোরো মওসুমে প্রতিমণ ধানের উত্পাদন ব্যয় ৭’শ টাকার উপরে উঠে যাবে বলে মনে করছেন কৃষকরা। ফলে এবার জলঢাকা উপজেলায় ইরি-বোরো আবাদে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা।