দিনাজপুরে রোদের অভাবে ধান শুকানো যাচ্ছে না

দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বয়ে চলা শৈত্য প্রবাহে দিনাজপুরের বেশিরভাগ ধানের চাতালে উত্পাদন বন্ধ হয়ে গেছে। গত সাতদিনে সূর্যের মুখ সামান্যই দেখা গেছে। দুপুর ১২টা থেকে ১টার আগে সূর্যের দেখা না পাওয়ায় চাতালে ধান শুকানো যাচ্ছে না। এদিকে হাটবাজার ও আড়তগুলোতে চালের দাম কেজি প্রতি দুই থেকে তিন টাকা বেড়েছে। প্রকারভেদে বিভিন্ন চালের দাম বস্তাপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বেড়েছে। অন্যদিকে অতিরিক্ত শীতের কারণে হাটবাজারে কৃষকরা ধান আনতে না পারায় ধানের দামও বেড়েছে। গতকাল বুধবার দিনাজপুরের বাহাদুর বাজারের চাল বিক্রেতা রনজিত্ জানান, এক সপ্তাহ আগে বোরো ২৮ চাল প্রতিবস্তার (৮৪ কেজি) দর ছিল ২ হাজার ৪৫০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা। বর্তমানে প্রায় ৬০০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে প্রতিবস্তা ২৮ চাল বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৫০ থেকে ৩ হাজার ১০০ টাকা দরে। গুটি স্বর্ণা চাল প্রতিবস্তার দর ছিল ১ হাজার ৮০০ টাকা। বর্তমানে বাজারে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা দরে। সুমন (লাল) স্বর্ণা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৫০ টাকা। বর্তমানে ২ হাজার টাকা দরে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। বীরগঞ্জের কাশিপুর এলাকার চাল আড়তদার জানান, বৈরি আবহাওয়ার কারণে সরু ও মোটাসহ সবধরনের চালের দাম বেড়েছে। তিনি জানান, মঙ্গলবার ও গতকাল প্রতি ৫০ কেজির এক বস্তা নাজিরশাইল চাল ১৭৫০ টাকা, পায়জাম ২৪৫০ টাকা এবং মিনিকেট ২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে প্রতিবস্তা নাজিরশাইল ১৬০০, পায়জাম ২ হাজার ৩০০ এবং মিনিকেট ১ হাজার ৯০০ টাকা দরে কেনাবেচা হয়েছে। বিরলের ধান-চাল আড়তদার ও ব্যবসায়ী জানান, আমন চালের চেয়ে পুরাতন বোরো চালের দাম বেশি বেড়েছে। প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন পরপর হাসকিং মিলে ধান শুকাচ্ছে। এ কারণে বাজারে চালের স্বাভাবিক সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিরলে প্রতিমণ চালের মূল্য ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেড়েছে। মিল মালিকরা জানান, রোদের তীব্রতা কমে যাওয়ায় এবং মেঘে আকাশ ঢাকা থাকায় চাতালে ধান থেকে চাল তৈরি করতে দুদিনের স্থলে পাঁচ থেকে সাতদিন সময় লেগে যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা আরও জানান, অটোরাইস মিলের মালিকরা চড়া দামে ধান কিনে মজুদ করায় হাসকিং মিলের ছোট ছোট ধান-চাল ব্যবসায়ীরা অধিক দামে ধান কিনে তা থেকে চাল তৈরি করার পর বস্তাপ্রতি চালের দর বেড়ে যাওয়াতে তারা বেশি দামে চাল বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।