কুমিল্লায় গণপিটুনিতে ৫ ডাকাত নিহত
কুমিল্লা প্রতিনিধি ও মনোহরগঞ্জ সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:০৩
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে মঙ্গলবার গভীর রাতে সংঘবদ্ধ ডাকাত দল আমেরিকা প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি করে নগদ ডলার ও স্বর্ণালংকারসহ কমপক্ষে ২০ লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয়। ডাকাতদের গুলিতে আরিফ হোসেন নামে মাদ্রাসা ছাত্র নিহত ও গৃহকর্তাসহ ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়। ফিরে যাওয়ার সময় উত্তেজিত জনতা ডাকাতদের ধাওয়া করে ৫ ডাকাতকে আটক করে এবং গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তারা নিহত হয়। এদিকে লুকিয়ে থাকা মামুন নামের আরো এক ডাকাতকে গতকাল বুধবার সকালে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে মারতে চাইলে পুলিশের সাথে বিক্ষুব্ধ জনতার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় অতিরিক্ত ৬ প্লাটুন পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও শর্টগানের গুলি ছোঁড়ে। উপজেলার লক্ষণপুর ইউনিয়নের ভাউপুর ও বাতাবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ডাকাত কবলিত বাড়ির লোকজন ও স্থানীয় অন্যান্য সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার ভাউপুর গ্রামে আমেরিকা প্রবাসী আবদুল মালেক মানিক ও তার ভাই বেলায়েত হোসেনের বাড়িতে ১৪/১৫ জনের সশস্ত্র ডাকাতদল হানা দেয়। ডাকাতরা এক সপ্তাহ আগে আমেরিকা থেকে আসা মানিক ও বেলায়েতসহ বাড়ির লোজনকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৩ লাখ টাকার ডলার, ২০ ভরি স্বর্ণালংকার, ৪টি মোবাইল সেট ও মূল্যবান অন্য মালামালসহ আনুমানিক ২০ লাখ টাকার মালামাল লুটে নেয়। ডাকাতরা চলে যাওয়ার সময় বাড়ির লোকজন চিত্কার শুরু করলে প্রতিবেশীরা বেরিয়ে আসেন। গ্রামের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ডাকাতদের আটকের জন্য সাহায্য চাওয়া হলে এলাকাবাসী মানিকের বাড়ির চারদিক ঘিরে ফেলেন। ডাকাতরা গ্রামবাসীকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করতে করতে পালানোর চেষ্টা চালায়। ডাকাতদের গুলিতে মনোহরগঞ্জের পাঁচরুই গ্রামের ইসমাইলের ছেলে মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার্থী আরিফ হোসেন (১৫) নিহত হয়। ডাকাতদের গুলিতে গৃহকর্তা মানিক (৪৫), স্থানীয় বাসিন্দা দেলোয়ার (৪০) ও আরমানসহ (৩৮) ১০ জন আহত হয়। তাদের আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রাতেই ভাউপুরসহ আশপাশের গ্রামের কয়েক হাজার বিক্ষুব্ধ মানুষ একত্রিত হয়ে ডাকাতদের ধাওয়া করে প্রথমে পার্শ্ববর্তী বাতাবাড়িয়া গ্রামের জলাশয় থেকে ২ ডাকাত, কেয়ারী গ্রামে ২ ডাকাত ও পাঁচরুই গ্রামের জলাশয় থেকে ১ ডাকাতসহ মোট ৫ ডাকাতকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। ডাকাতরা ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
গতকাল বুধবার সকালে বাতাবাড়িয়া গ্রামের জলাশয়ে লুকিয়ে থাকা মামুন হোসেন (২৫) নামের আরো এক ডাকাতকে জনতা আটক করে গণপিটুনি দিয়ে মারার চেষ্টা চালায়। কুমিল্লা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশ্রাফুল ইসলাম ভুঁইয়ার নেতৃত্বে ৬ প্লাটুন পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে ডাকাত মামুনকে উদ্ধার করতে গেলে পুলিশের সাথে জনতার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত জনতা পুলিশকে অবরুদ্ধ করলে পুলিশ ২০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ও ২৫ রাউন্ড টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে। ডাকাত মামুনকে উদ্ধার করে পুলিশ বিকাল সাড়ে ৩টায় থানায় নিয়ে আসে। গতকাল বুধবার বিকালে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত নিহত ডাকাতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। আটক ডাকাত মামুন মনোহরগঞ্জ উপজেলার বাতাবাড়িয়া গ্রামের গোলাম হোসেনের ছেলে। এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মনোহরগঞ্জ থানার ওসি জহিরুল আনোয়ার জানান, নিহত ১ মাদ্রাসা ছাত্র ও ৫ ডাকাতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা হয়নি।
গতকাল বুধবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, কুমিল্লার সহকারী পুলিশ সুপার, মনোহরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান। ঘটনায় ১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।