অভিযোগ :গ্রামীণ ব্যাংক কমিশন পূর্ণাঙ্গ নয়

অভিযোগ উঠেছে গ্রামীণ ব্যাংক ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে ভবিষ্যত্ করণীয় নির্ধারণের জন্যে গঠিত কমিশন পূর্ণাঙ্গ নয়। কিন্তু তারপরও সরকারের একটি প্রভাবশালী মহল এই কমিশন থেকেই তড়িঘড়ি একটি প্রতিবেদন পাওয়ার জন্যে অনবরত চাপ দিয়ে যাচ্ছে। এই অভিযোগের সূত্র ধরে একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কমিশন সম্পর্কে কোন মন্তব্য করতে রাজী হননি। তবে জানিয়েছেন, কমিশন একটি রিপোর্ট প্রস্তুত করেছে। সহসাই এটি সরকারের কাছে পেশ করা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে জানা গেছে, কমিশনের সদস্য সচিব পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমীর মহাপরিচালক ড. এম এ কামাল পদত্যাগ করেছেন। কমিশনের অন্য সদস্য মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ এফসিএ অসুস্থ অবস্থায় আছেন এবং তিনি কমিশন সভায় যোগ দেননি। এই অবস্থার প্রেক্ষাপটেই দাবি করা হয়েছে, গঠিত এই কমিশন পূর্ণাঙ্গ নয়। সুতরাং তাদের করা রিপোর্ট অহেতুক নানা বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। সেটি একতরফা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও থেকে যায়। যদি রিপোর্ট করতেই হয় তাহলে নতুন লোক নিয়োগ দিয়ে প্রথমে কমিশনকে কার্যকর করতে হবে। তারপর সেখান থেকে রিপোর্ট এলে সেটি মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কিউসিও এই কমিশনের একজন সদস্য। গতকাল রাতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে—এ বিষয়ে কথা বলবেন কমিশনের চেয়ারম্যান সাবেক সচিব মোঃ মামুনুর রশিদ। কিন্তু পরে অনেক চেষ্টা করেও কমিশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কমিশনের কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত অন্য একটি সূত্র জানিয়েছেন, কমিশনের বৈঠক হয়েছে। রিপোর্ট প্রণয়নের কাজ প্রায় শেষ। উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ মে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সাবেক সচিব মামুনুর রশিদকে চেয়ারম্যান করে চার সদস্যের এই কমিশন গঠন করে। কার্যপরিধি অনুযায়ী এই কমিশনের প্রতিষ্ঠান হিসাবে গ্রামীণ ব্যাংকের সক্ষমতা, দুর্বলতা খতিয়ে দেখার কথা। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় কিভাবে সুশাসন নিশ্চিত করা যায় সে বিষয়েও কমিশনের সুপারিশ করার কথা রয়েছে।