বাজার কারসাজি :১৭ কোম্পানির বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্তের সময় বাড়লো

পুঁজিবাজারে কারসাজি, অনিয়মসহ বিভিন্ন ধরনের আইন লঙ্ঘনের দায়ে ১৭ কোম্পানির বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার সময় আড়াই মাস বাড়ানো হয়েছে। গত ১৫ জানুয়ারির মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় নির্ধারিত থাকলেও এখন তা বাড়িয়ে ৩১ মার্চ পর্যন্ত করা হয়েছে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষিতেই এ সময় বাড়ানো হয়েছে বলে সূত্র জানায়। জানা গেছে, ২০১০ সালে পুঁজিবাজারে ভয়াবহ ধসের প্রেক্ষিতে কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে কেস স্টাডি হিসেবে ১৭টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে অস্বাভাবিকতা, তালিকাভুক্তিতে অনিয়ম, সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন, লোকসানি প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক কোম্পানি হিসেবে দেখানোসহ নানা ধরনের অনিয়মের চিত্র তুলে ধরা হয়। এসব অনিয়মে দায়ীদের চিহ্নিত করার সুপারিশ করা হয়েছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য একটি একশন কমিটি গঠনেরও সুপারিশ করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে। আর ওই প্রতিবেদনের সুপারিশের প্রেক্ষিতে ১৭টি কোম্পানির বিষয়ে অধিকতর তদন্তে গত ডিসেম্বরে বিএসইসির দুই কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ডিসেম্বরে বিএসইসি ১৭টি কোম্পানির তদন্তের কর্মপদ্ধতি ও পরিধিসহ অধিকতর তদন্তের বিষয়ে আদেশ জারি করে। আর ১৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলে সময় বেঁধে দেয়া হয়। কিন্তু তদন্তে তেমন কোনো অগ্রগতি হয়নি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করতেই কমিটিকে অনেক সময় ব্যয় করতে হয়েছে। এখনও অনেক তথ্য সংগ্রহই করা হয়নি। ফলে অধিকতর তদন্তের বিষয়টি এখনও অনেকটা প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এসব বিবেচনা করেই কমিটির মেয়াদ ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। যে ১৭টি কোম্পানির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে সেগুলো হলো- বিডি থাই এলুমিনিয়াম ও জেম গ্লোবাল, খুলনা পাওয়ার কোম্পানি (কেপিসিএল), জিএমজি এয়ারলাইন্স, চিটাগং ভেজিটেবলস, বিচ হ্যাচারি, বাংলাদেশ ওয়েল্ডিং ইলেকট্রোডস, সিএমসি কামাল, মেঘনা সিমেন্ট মিলস, মালেক স্পিনিং মিলস, একটিভ ফাইন কেমিক্যালস, মবিল যমুনা লুব্রিকেন্টস, বারাকাত উল্লাহ ইলেকট্রো ডায়ানমিকস, সালভো কেমিক্যালস, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ, বীকন ফার্মাসিউটিক্যালস, এম আই সিমেন্ট এবং ফু-ওয়াং সিরামিকস।