শিল্পের কাঁঁচামাল আমদানি কমেছে
প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:০৪
চলতি (২০১২-২০১৩) অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাস শেষে (জুলাই-নভেম্বর) আমদানি দ্রব্যের ঋণপত্র নিষ্পত্তি আগের তুলনায় কমেছে। এসময়কালে নিষ্পত্তি হয়েছে এক হাজার ৩৩৪ কোটি ৫৪ লাখ মার্কিন ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল এক হাজার ৫৩৭ কোটি ৭৩ লাখ ডলার। নিষ্পত্তি কমেছে ২০৩ কোটি ১৯ লাখ মার্কিন ডলার বা ১৩ দশমিক ২১ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খাদ্যদ্রব্যসহ শিল্পখাতে ব্যবহার উপযোগী কাঁচামাল, গার্মেন্টস শিল্পের জন্য কাঁচা সুতা, ইয়ার্ন, ফেব্রিক্স এবং এক্সেসরিজ আমদানি তুলনামূলক কমেছে। অর্থবছরের পাঁচ মাস শেষে এসব দ্রব্য আমদানি কমে যাওয়ায় উত্পাদনশীল খাতে বিনিয়োগও কমে গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত আমদানিতে ঋণপত্র খোলা হয়েছে এক হাজার ৪২০ কোটি ডলার। যা এর আগের অর্থবছরে একই সময়ে ছিল এক হাজার ৫৭১ কোটি ৬৪ লাখ ডলার। এতে পাঁচ মাসে আমদানিতে ঋণপত্র খোলার হার কমেছে ৯ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এ সময় ভোগ্যপণ্য আমদানিতে ঋণপত্র তুলনামূলক হারে কমেছে। অর্থবছরের নভেম্বর পর্যন্ত গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ভোগ্যপণ্য আমদানি কমেছে ২৯ দশমিক ৪২ শতাংশ।
এরমধ্যে চাল আমদানিতে ৮৬ দশমিক ৮৮ শতাংশ, চিনি আমদানিতে ৬৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ, পিঁয়াজ আমদানিতে ৩৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ এবং দুধ আমদানিতে ২৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ ঋণপত্র খোলা কমেছে। তবে ডাল ও গম আমদানিতে ঋণপত্র খোলার হার বেড়ে যথাক্রমে ৩৩ দশমিক ১০ শতাংশ এবং ১৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ফেব্রিক্স, এক্সেসরিজ ও ইয়ার্ন আমদানি কম হয়েছে। এ সময় পর্যন্ত ভোজ্যতেল আমদানিতে ৬২ কোটি ৩১ লাখ ডলার, কেমিক্যালস ও কেমিক্যালস পণ্যে ১২৬ কোটি ২৩ লাখ ডলার, জ্বালানি তেল আমদানিতে ১৭৪ কোটি ৯৪ লাখ ডলার, মূলধনী যন্ত্রাংশে ৯২ কোটি ৯১ লাখ ডলার, শিল্পে ব্যবহূত কাঁচামালে ১৪৯ কোটি ৯৮ লাখ ডলারের সমান ঋণপত্র খোলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, বিশ্বব্যাপী মার্কিন ডলারের বিনিময় হার এবং স্বর্ণমূল্যের অস্থিতিশীলতার কারণে বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে কিছুটা অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে।
আমদানি ঃ সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী গত নভেম্বর মাসে আমদানি ব্যয় আগের বছরের নভেম্বরের তুলনায় ৭.৩৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং জুলাই-নভেম্বর ২০১২-১৩ সময়ে আমদানি ব্যয় ৬.৮৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে যা ২০১১-১২ অর্থবছরের একই সময়ে ২১.৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। জুলাই-নভেম্বর, ২০১২ সময়ে পূর্ববর্তী বছরের একই সময়ের তুলনায় ঋণপত্র স্থাপনা ভিত্তিক এবং ঋণপত্র নিষ্পত্তি ভিত্তিক আমদানি যথাক্রমে ৯ দশমকি ৬৫ শতাংশ ও ১৩ দশমকি ২১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আলোচ্য সময়ে খাতওয়ারী ঋণপত্র স্থাপনার তথ্য পর্যালোচনা থেকে দেখা যায় যে, মূলধন পণ্য আমদানি মূল্য ২ দশমিক ৪৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে, ভোগ্যপণ্য, পেট্রোলিয়াম এবং শিল্পের কাঁচামালের আমদানি মূল্য যথাক্রমে ১০ দশমিক ৩৭ শতাংশ, ১৬ দশমকি ৭০ শতাংশ ও ৫ দশমিক ২৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। আলোচ্য সময়ে খাতওয়ারী ঋণপত্র নিষ্পত্তির তথ্য পর্যালোচনা থেকে দেখা যায় ভোগ্যপণ্য, মূলধন পণ্য, পেট্রোলিয়াম এবং শিল্পের কাঁচামালের আমদানি মূল্য যথাক্রমে ৩৭ দশমিক ৮৩ শতাংশ, ২৮ দশমকি শূন্য ২ শতাংশ, ১১ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং ৬ দশমিক ৩১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
রপ্তানি ঃ চলতি (২০১২-১৩) অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে রপ্তানি আয় পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৭ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১২ হাজার ৫৯৯ দশমিক ৭৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী রপ্তানি আয় ডিসেম্বর, ২০১২ মাসে পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ১৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।