জলবায়ুর নাজুক অবস্থা থেকে উত্তরণে চাই সমন্বিত পরিকল্পনা

জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের উপকূলসহ সামগ্রিক পরিবেশেই ক্ষতিকর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। সর্বোপরি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এ অঞ্চলের পরিবেশের ভারসাম্যতা। বিগত কয়েক বছরের জলবায়ুর গতি-প্রকৃতি পর্যালোচনার ফলাফল তুলে ধরে বক্তারা বলেন, সমুদ্র-উপকূল অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কমছে। নদীর উচ্চতা বাড়ছে, বাড়ছে পানিতে লবণাক্ততা। বাড়ছে ঝড়-জলোচ্ছ্বাস। তারা বলেন, এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে এ অঞ্চলের মানুষকে নাজুক অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য দক্ষ করে তুলতে হবে। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এন্ড ভালনারেলিবিটি স্টাডিজ’ আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. সহিদ আকতার হুসাইন। সভাপতিত্ব করেন ভালনারেলিবিটি স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরীন। সেমিনারে গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের লক হাভেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোঃ খালেকুজ্জামান, ইথিওপিয়ার ফাও-এর টিম লিডার ড. মাহমুদুল ইসলাম, বিআইআইএসএস-এর সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. মাহফুজ কবীর, জাপানের ইন্সটিটিউট অব গ্লোবাল এনভায়রনমেন্টাল স্ট্রাটিজিসের পরিচালক ড. হেনরি স্কেউবেনস, সিরডাপের পাইলট প্রকল্প পরিচালক হোসেন শাহবাজ, সিজিআইএস-এর পরিচালক মালিক ফিদা এ খান, বুয়েটের আইডব্লিউএফএমের অধ্যাপক ড. রেজাউর রহমান, উগান্ডার এন্থনি ক্রিস টুইনোমুগিসা। অধ্যাপক ড. সহিদ আকতার হুসাইন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগের ফলে দক্ষিণ এশিয়ার মানুষের জনজীবন অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় পড়েছে। সর্বোপরি এই নাজুক অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আমাদের দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজন। অধ্যাপক ড. মো. খালেকুজ্জামান বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দক্ষিণ এশিয়ার পানি সম্পদ ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এই পানি সম্পদকে রক্ষার জন্য আমাদেরকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে এবং পানি সম্পদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানুষের আচরণ পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করতে হবে। ড. মাহমুদুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি থেকে উত্তরণের জন্য জলবায়ু বৈচিত্র্য সহনশীল খাদ্যশস্য উত্পাদনের জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গবেষণা প্রয়োজন। ড. মাহফুজ কবীর বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ঝুঁকিপূর্ণ জনগণের জন্য ক্ষুদ্র ঋণ সেবা এবং ঝুঁকি বীমা প্রবর্তন করা যেতে পারে। ড. হেনরী স্কেউভেনস তার প্রবন্ধে জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমন ও অভিযোজনের জন্য বনায়ন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরীন বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবেলায় ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজ মানুষের সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে একটি বিজ্ঞানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও কাজ করবে।