বিসিবি থেকে সুজনের পদত্যাগ

বিসিবির কোনো কর্মকর্তা বিপিএলে (বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে) কোনো দলের হয়ে কাজ করতে পারবেন না। এই আইনের জন্যই কি না, বিপিএল কাছে আসতেই একটা পর একটা পদত্যাগ-কাণ্ড চলছে। আগেরদিন বিকালে পদত্যাগ করেছেন আহবায়ক কমিটির সদস্য, সাবেক জাতীয় দল অধিনায়ক খালেদ মাহমুদ। গতকাল নিশ্চিত হল পদত্যাগ করেছেন বিসিবির সহকারী ম্যানেজার (অপারেশন্স) সাব্বির খান। অবশ্য মুখে কেউই পদত্যাগের কারণ হিসেবে বিপিএলের কথা উল্লেখ করছেন না। সুজন বলছেন, কোচিং মিস করার কথা। খেলা ছাড়ার পর থেকে কোচিংয়েই ছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সময় তাকে নিয়ে নেয়া হয় ক্রিকেট বোর্ডে। ফলে খালেক মাহমুদ সুজন কোচিংটা করাতে পারছিলেন না। খালেদ মাহমুদ তাই বললেন, ‘বেসিক্যালি কোচিং আমার পেশা। বোর্ড পরিচালক আমার ক্যারিয়ার নয়। যেহেতু বোর্ডে থেকে কোচ হওয়া সম্ভব নয়। তাই সরে দাঁড়িয়েছি। আমার ক্যারিয়ার, আমার জন্যই আমি পদত্যাগ করেছি। আমি বোর্ড সভাপতির সঙ্গে কথা বলেছি। উনি মেনে নিয়েছেন।’ সাব্বির খান বললেন, তার ব্যক্তিগত বিষয়ই পদত্যাগের কারণ। তিনি নাকি গত বছর নভেম্বরই পদত্যাগ করেছিলেন। সেটা কার্যকর হল এই সময়ে। কারণ হিসেবে সাব্বির বলছিলেন, ‘আমি সহকারী ম্যানেজার হিসেবে আড়াই বছর ধরে অপারেশন্সের ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজারের কাজ করছি। সেখান থেকে আমার বেতন ও প্রাপ্তি সন্তোষজনক নয়। তাই নিজের কথা ভেবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে বিসিবির প্রতি এবং একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমার ভালোবাসা এখনও আছে। তাই পরে কোনো সুযোগ পেলে আবার বিসিবির কাজ করার স্বপ্ন আছে।’ বিসিবির প্রতি একইরকম ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার কথা জানালেন সুজনও, ‘বোর্ড সভাপতিকে ধন্যবাদ অ্যাডহক কমিটিতে আমাকে রাখার জন্য। এটাও একটা অভিজ্ঞতা হয়েছে। আগেই আলোচনা করেছিলাম। বোর্ডে থেকে কোচ হওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করেই পদত্যাগ করেছি। আসলে আমার ক্যারিয়ারের জন্যই আমি কোচের কাজটাকে বেছে নিয়েছি। বোর্ড পরিচালক থেকে সরে দাঁড়ালাম।’ এ পর্যন্ত তাদের মুখের কথা গেল। তবে এটাও ঠিক যে এই পদত্যাগের পরপরই সাব্বির বরিশালের হয়ে এবং সুজন চট্টগ্রাম কিংসের হয়ে কাজ করছেন। দুই জনই নেপথ্যে এই দুই দলের হয়ে কাজ করছিলেন বলেও গুঞ্জন আছে।