গোদাগাড়ীতে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা
গোদাগাড়ী (রাজশাহী), সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:০২
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে চলতি মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে সরিষাচাষ হয়েছে। সরিষার ফুলে ফলে মাঠ ভরে উঠেছে হলুদ ও সবুজ রঙের সমারোহে। সরিষার ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করছেন মধুচাষিরা। উপজেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৪ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমিতে টরি-৭, বারি-৯, ১১, ১৪, ১৫, বিএডিসি-১ ও স্থানীয় জাতের সরিষাচাষ হয়েছে। চলতি বছর ৩ হাজার ৭শ হেক্টর জমিতে সরিষা চায়ের লক্স্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে অতিরিক্ত ১ হাজার ৭৫ হেক্টর বেশি জমিতে সরিষাচাষ হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরো জানায়, গত মৌসুমে ৩ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে সরিষা উত্পাদন হয় ৫ হাজার ৬৩৪ মেট্রিক টন। জমিতে সরিষার ফুল আসায় যেমন হলুদ রঙের বাহার দেখা যাচ্ছে, তেমনি মৌমাছির আগমনও ঘটেছে প্রচুর। ইতোমদ্যে মধু সংগ্রহ করতে মধু চাষিরা সরিষার জমিতে বসিয়েছেন এক ধরনের কাঠের বাক্স ও নেটজাল। গত কয়েক বছর ধরে সরিষাচাষ করে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ায় এ আবাদের দিকে ঝুঁকেছেন তারা। কৃষকরা জানান, বোরো ধান চাষের আগেই সরিষা উঠে যায়। পারিজা ধান কেটেই সরিষাছাষে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তারা। সেচ ও রাসায়নিক দ্রব্য কম লাগায় বিঘাপ্রতি খরচ হয় মাত্র দুই হাজার টাকা। আর এক বিঘা জমিতে জাত অনুযায়ী সরিষা উত্পাদন হয় তিন থেকে সাত মণ পর্যন্ত। এছাড়া সরিষার পাতা জমিতে পড়ে সবুজ সার তৈরি হয়। যা বোরোচাষে জৈব সারের চাহিদা মেটায়।
উপজেলা কৃষি অফিসার ড,সাইফুল আলম বলেন, সরিষাচাষ করতে যে পরিমাণ সার জমিতে প্রয়োগ করা হয় তার মধ্যে ৫০ ভাগ সার জমিতে থেকে যায়। যা বোরোচাষের সময় কাজে লাগে। এদিকে, গত কয়েক দিন ধরে ঘন কুয়াশা ও শৈতপ্রবাহের কারণে সরিষা ক্ষেত্রের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ছত্রানাশক রোগ সরিষা ক্ষেতে দেখা দেয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য বালাইনাশক সেপ্র করার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কৃষি সমপ্রসারণ অধিদফতর।