সরকারি ব্যবস্থাপনায় মালয়েশিয়া গমন

বরিশালে লটারিতে বিজয়ী ৬১১ সুযোগ পাবেন না সবাই

মালয়েশিয়াগামী প্রার্থীদের মধ্যে লটারিতে বিজয়ী এ বিভাগের দেড় হাজার কর্মী বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠলেও নানা প্রক্রিয়ায় সকল প্রার্থী সুযোগ পাচ্ছেন না। লটারিতে বিজয়ী প্রার্থীদের মৌখিক সাক্ষাত্কার ও প্রশিক্ষণের পর চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হবে বলে প্রবাসী শ্রমিক কল্যাণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক খান মোঃ রেজাউল করিম ইত্তেফাককে জানান। তিনি জানান, লটারি প্রত্যেক জেলায় হলেও বরিশাল বিভাগের মৌখিক পরীক্ষা বিভাগীয় সদর দপ্তর নগরীর টিসিসি (টিচার্স ট্রেনিং কলেজে) অনুষ্ঠিত হবে। মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের ১০ দিনের প্রশিক্ষণ শেষে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হবে। এ বিভাগের ৬ জেলায় ৭৩ হাজার ১৭২ জন নিবন্ধন করলেও লটারিতে বিজয়ী হয়েছেন দেড় হাজার কর্মী। এরমধ্যে বরিশাল জেলায় ৬১১ জন লটারিতে বিজয়ী হয়েছেন। ৩ দিনের নিবন্ধন শেষে বুধবার বিকেল ৫টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে লটারির ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়ীদের এসএমএস’র মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়। এসএমএস পেয়েই খুশীতে দিশেহারা বেকার যুবক ও তাদের পরিবারের লোকজন। বিজয়ী প্রার্থীদের মধ্যে সাইফুল নামের এক যুবক জানান, বিদেশ যাওয়ার জন্য লাখ লাখ টাকা যোগাড় করা তার পরিবারের পক্ষে সম্ভব ছিলো না। তার উপর দালাল-বাটপাড়দের খপ্পরে পড়ার আশংকায় সে কখনোই বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেনি। এবার মাত্র ৪০ হাজার টাকায় বিদেশ যাওয়ার ঘোষণার পর সে নাম নিবন্ধন করে। গতকাল রাতে তার মোবাইল স্কিনে ভেসে উঠে লটারিতে বিজয়ী হওয়ার সু-সংবাদ। সাথে সাথেই পরিবার আনন্দের জোয়ারে ভেসে বেড়ায়। সাইফুলসহ তার পরিবারের চোখে এখন শুধুই স্বপ্ন মাত্র ৪০ হাজার টাকায় মালয়েশিয়া গিয়ে ২০/২৫ হাজার টাকা বেতন পাওয়া। সাইফুলের মতই লটারিতে বিজয়ী রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের দরিদ্র কৃষক মোঃ আব্দুল সালাম হাওলাদার লটারি বিজয়ী হয়ে খুশীতে আত্মহারা। সালাম জানায় জীবনে কোনদিন সে বিদেশ যাওয়ার কল্পনাও করেনি। গ্রামের কৃষি কাজ করেই তার অভাব-অনটনের জীবন চলছিল। বিদেশ যাওয়ার জন্য লাখ লাখ টাকা যোগাড় করার কথা সে কখনো ভাবতেও পারেনি। নিজের জমিতে কৃষি কাজের পাশাপাশি অন্যের জমিতে দৈনিক মজুরীতে সে কাজ করে সংসারের খরচ বহন করেছে। ইউনিয়ন তথ্য কেন্দ্রে অনেকটা ভাগ্য পরীক্ষার জন্যই সে গিয়েছিল। লটারিতে তার বিজয়ী নাম শোনার পর এখন শুধুই স্বপ্ন মাত্র ৪০ হাজার টাকায় বিমানে চরে মালয়েশিয়া পাড়ি দেয়া। একই রকম স্বপ্ন নিয়ে ঘুরছেন আগৈলঝড়ার রিপন বাড়ৈ, নিখিল বাড়ৈ, ওপেন সাহা ও দীপংকর হালদারসহ অনেকেই। কিন্তু মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য যারা লটারিতে বিজয়ী হয়েছেন তারা সকলেই যে মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না সেকথা বিজয়ী বা বাদপড়া প্রার্থীদের ভাবনায় নেই। জেলা প্রশাসক শহীদুল আলম জানান, মাত্র ৪০ হাজার টাকায় সরকারিভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হওয়ায় বরিশালের মানুষ উত্ফুল্ল। হাজার হাজার মানুষের মধ্য থেকে লটারিতে বিজয়ী হওয়ায় নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছেন অনেকে। পরিবারসহ আত্মীয়-স্বজনরা এখন বাকি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিদেশ যাওয়ার অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষার প্রহর গুনছে। তবে মৌখিক পরীক্ষা, প্রশিক্ষণ ও স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরই মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হতে হবে এ বিষয়টি বিজয়ীদের মাথায় রাখতে হবে।