চাকরি জাতীয়করণের দাবি স্পিকারকে
শিক্ষকদের স্মারকলিপি
প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:০৭
গতকাল বৃহস্পতিবার আন্দোলনের ১১তম দিনেও এমপিওবঞ্চিত শিক্ষকদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। অন্যদিকে চাকরি বা শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লাগাতার ধর্মঘটও চলছে। এ কর্মসূচিরও নবম দিন পার হয়েছে গতকাল।
সরকারি বেতনভাতা বা এমপিওবঞ্চিত শিক্ষকরা গতকাল তাদের দাবি আদায়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে স্মারকলিপি দেন। এর আগে সকাল থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনশন কর্মসূচি পালন করেন তারা। এসব শিক্ষক নন-এমপিও শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের ব্যানারে আন্দোলন করছেন।
সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ এশারত আলী জানান, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী তারা গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চে জড়ো হন। বিকাল ৩টা পর্যন্ত তারা সেখানে অনশন করেন। পরে বিকালে শিক্ষকদের পক্ষে স্পিকারকে স্মারকলিপি দেয়া হয়। স্পিকার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীকে অবহিত করবেন বলেও শিক্ষক নেতাদের আশ্বাস দেন।
এমপিওভুক্তির দাবিতে গত ৭ জানুয়ারি শিক্ষাভবন ঘেরাও কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শুরু হয় এসব শিক্ষক কর্মচারীর আন্দোলন। সবখানেই আইনি বাধা দেখিয়ে আর বিনা অনুমতির অজুহাতে শিক্ষকদের ধাওয়া করছে পুলিশ।
শিক্ষকরা গত বুধবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেননের সঙ্গে বৈঠক করেন। ঐক্যজোটের সভাপতি জানান, রাশেদ খান মেনন শিক্ষকদের দাবির বিষয়টি ২১ জানুয়ারি কমিটির সভা থেকে জোরালোভাবে সুপারিশ করবেন। ওইদিনের সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করেই তারা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।
এদিকে চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে সরকারপন্থী ও বিরোধী দুইটি বড় শিক্ষক মোর্চাসহ আরও কয়েকটি সংগঠনের ডাকে সারাদেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় লাগাতার ধর্মঘট চলছে। সরকারপন্থী একটি সংগঠনের ডাকে এ ধর্মঘট শুরু হয় ৯ ডিসেম্বর। চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে ১০ জানুয়ারি শুরু হয় সরকারবিরোধী বলে পরিচিত শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের ধর্মঘট। পরে ১২ জানুয়ারি সরকারপন্থী বড় মোর্চা শিক্ষক কর্মচারী ঐক্য পরিষদও শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবিতে ধর্মঘট ডাকে।সংগঠনগুলির নেতারা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।
এদিকে ধর্মঘটের পক্ষে শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোটের যশোর জেলা শাখার উদ্যোগে এক শিক্ষক সমাবেশ জেলার বাদশা ফয়সাল ইনষ্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট যশোর জেলা শাখার সভাপতি আছহাবুল গাজী এতে সভাপতিত্ব করেন। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি কাজী আব্দুর রাজ্জাক, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রিন্সিপাল রেজাউল করিম প্রমুখ এসময় উপস্থিত ছিলেন।