বাকৃবিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে মারামারি
প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:১৯
পূর্বের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) গতকাল বৃহস্পতিবার ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে মারামারি ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ নেতা-কর্মী আহত হয়েছে। বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কায় ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পূর্বশত্রুতার জের ধরে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে করিম ভবন এলাকায় সাধারণ সম্পাদক রফিকুজ্জামান ইমন নিয়ন্ত্রিত গ্রুপের ২০-৩০ নেতা-কর্মী সভাপতি শামছুদ্দিন আল আজাদ নিয়ন্ত্রিত বঙ্গবন্ধু হলের কৃষি অনুষদের ২য় বর্ষের নিবিড় নামের এক শিক্ষার্থীকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। এ ঘটনা ক্যাম্পাসে জানাজানি হলে ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উভয় গ্রুপের নেতা-কর্মীদের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে উভয় গ্রুপের নেতা-কর্মীরা রামদা, হকিস্টিক, লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে মহড়া দিতে থাকে।
এ সময় প্রতিশোধ নিতে সভাপতি গ্রুপের নেতা-কর্মীরা সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রানাকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এদিকে সভাপতি গ্রুপের নেতা-কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর দিয়ে যাওয়া ঢাকা-ময়মনসিংহ রেললাইনের পশ্চিম পাশে এবং সাধারণ সম্পাদকের গ্রুপের ছাত্রলীগ কর্মীরা শহীদ শামসুল হক হলের সামনের বকুলতলায় সশস্ত্র অবস্থান নেয়। পরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং উভয় গ্রুপের নেতা-কর্মীরা নিজেদের হলে ফিরে যায়। তবে ক্যাম্পাসে যেকোন সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
গত বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কামাল-রণজিত (কে.আর.) মার্কেটে সভপতি নিয়ন্ত্রিত বঙ্গবন্ধু হলের ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা শো-ডাউনে আসা সাধারণ সম্পাদক নিয়ন্ত্রিত ঈশা খাঁ হলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা করে। এতে ঈশা খাঁ হলের মুনতাকা, অরিন, তুহিন, মাসুদ, জোবায়ের, নয়নসহ ৮ ছাত্রলীগ কর্মী আহত হয়। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের হেলথ কেয়ার সেন্টারে প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাত্স্যবিজ্ঞান অনুষদের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী ইমরান ঈশা খাঁ হলের সিনিয়র ছাত্রলীগ কর্মীদের সাথে বেয়াদবি করায় তাকে বেশ কিছুদিন পূর্বে ঈশা খাঁ হল থেকে বের করে দেয়। পরে সে বঙ্গবন্ধু হলে উঠে। এ ঘটনার জের ধরে গত বুধবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কে. আর. মার্কেটে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে বাকৃবি প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত)) মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন জানান, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে এসব ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে।