রাশিয়ার অর্থনীতি এবং ঢাকা-মস্কো সম্পর্কে নতুন গতি

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বে মেরুকরণ শুরু হয়। কোনো কোনো দেশ পুঁজিবাদী অর্থনীতির প্রবক্তা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে গড়ে উঠা বলয়ভুক্ত হয়। আবার কেউ সমাজতান্ত্রিক ধ্যান-ধারণার পথিকৃত্ সোভিয়েট ইউনিয়নের আওতাভুক্ত হয়। এভাবে গড়ে উঠে দ্বি-মেরুর বিশ্ব। একদিকে সিআইএ, অপরদিকে কেজিবি’র গুপ্তচরবৃত্তির জালে বিশ্ব আটকা ছিল প্রায় ৪০ বছর। পুরো সময় ধরেই দুই মেরুর মধ্যে টানটান উত্তেজনা ছিল। বিশ্বে শক্তির একটা ভারসাম্য বজায় ছিল। এই ভারসাম্যের মধ্যেও কোথায় যেন ছন্দপতন ঘটে। ১৯৮৬ সালে সোভিয়েট ইউনিয়নে ‘পেরেসট্র্রইকা’ বা সংস্কার শুরু হয়। তত্কালীন সোভিয়েট রাষ্ট্রনায়ক মিখাইল গরভাচেভের ‘গ্লাসনস্ট’ বা উন্মুক্তকরণ ১৯৮৯ সালে বিপ্লবে রূপ নেয়। যার ফলশ্রুতিতে ১৯৯১ সালে সোভিয়েট ইউনিয়নে কম্যুনিস্ট সরকারের পতন হয়। সোভিয়েট ইউনিয়ন ভেঙ্গে ১৫টি স্বাধীন রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। এর একটি হচ্ছে রাশিয়া। বিশ্ব এক মেরুতে পরিণত হয়। কিন্তু এ অবস্থা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। কারণ অর্থনীতি। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর অদম্য প্রতিযোগিতা এবং বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর বিশ্ব অর্থনীতিতে চালকের আসনে উপবিষ্ট হওয়ার কূটকৌশলের তোড়ে বিশ্ব এখন বহু মেরুতে পরিণত হয়েছে। সবারই মূল লক্ষ্য বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়ানোর মাধ্যমে নিজস্ব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) সৃষ্টি হয়। এখন ২৭ জাতির ইইউ’র ভিতরেই ১৭ জাতির ইউরোগ্রুপ সৃষ্টি হয়েছে। জার্মানী, ফ্রান্স, ইটালি, স্পেনসহ ইউরোপের শক্তিশালী দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র ব্রিটেন ছাড়া প্রায় সবাই এ একক মুদ্রা গ্রুপের সদস্য। অর্থনৈতিক ও সামরিক শক্তিধর আটটি দেশের জোট জি-এইট, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০ দেশের জোট আসিয়ান, উত্তর আমেরিকার তিন দেশের জোট নাফটা, এশিয়া-প্যাসিফিক তীরবর্তী ২১ দেশের গ্রুপ অ্যাপেক, উন্নয়নশীল বিশ্বের ২০টি উদীয়মান অর্থনীতি জি-টুয়েন্টি, ৩৪টি ধনী দেশের সংস্থা ওইসিডি, এশিয়া ও ইউরোপের ৫১টি দেশের জোট আসেম, দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের সংস্থা সার্ক, ল্যাটিন আমেরিকার ৬টি দেশের জোট মারকোসোর, আফ্রিকার ৫৩টি দেশের অর্গানাইজেশন অব আফ্রিকান ইউনিটি, উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর সংস্থা জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ আটটি দেশের জোট ডিভালাপিং-এইট, মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি দেশের জোট জিসিসি, ১২টি জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশের জোট ওপেক, মুসলিম দেশগুলোর জোট ওআইসিসহ তিন শতাধিক জোট আছে। এর মধ্যে পারস্পরিক অনাস্থা ও অবিশ্বাসের কারণে সার্কের মতো কিছু দন্তহীন জোট আছে। কিছু বিলুপ্তপ্রায় জোটও আছে। আবার ইইউ, নাফটা, আসিয়ানের মতো দ্রুত বর্ধনশীল জোটও আছে। যারা নিজেদের মধ্যে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্পর্ক বৃদ্ধিতে অত্যন্ত আন্তরিক। এ লক্ষ্যে জোটভুক্ত দেশগুলো একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে। সম্পদ ও সামর্থ্যের আদান-প্রদান করে। তাই বলে বহু মেরুর এ বিশ্বে প্রতিরক্ষা ব্যয় এখনো কমেনি। যুক্তরাষ্ট্র এখনো তাদের জিডিপি’র ৪ দশমিক ৩ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করছে। ইইউ প্রতিরক্ষা ব্যয় ২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ১ দশমিক ৫ শতাংশে কমিয়ে আনলেও ন্যাটো জোটের চাহিদা পূরণে পিছপা হয় না। চীন, রাশিয়া, জাপান, উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ অনেক দেশই তাদের জিডিপি’র প্রায় ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করছে। প্রতিটি দেশের জিডিপিই প্রতি বছর বাড়ছে। ফলে প্রতিরক্ষা খাতে দেশগুলোর ব্যয়ও বাড়ছে। এর ফলে কল্যাণকর্মে ব্যয় প্রত্যাশা অনুযায়ী হচ্ছে না। দেশে দেশে ধনী-গরিব বৈষম্য বাড়ছে। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণী উন্নত বিশ্বেও জীবনযাপনে হিমশিম খাচ্ছে। সব দেশেই ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি তীব্র হচ্ছে। বেসরকারিকরণের দাপটে সরকার ছোট হয়ে আসছে। জনগণকে নাগরিক সেবা পেতে বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে। শ্রমজীবী মানুষের কাছে রাষ্ট্র পরিচালকরা কর্পোরেট সরকার হিসেবে পরিচিত। রাষ্ট্র যার সাথে সম্পর্ক গড়লে লাভবান হবে তার সাথেই জোট বাঁধছে। অনেক ক্ষেত্রেই সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি জোট বাঁধার ক্ষেত্রে প্রণোদনা যোগাচ্ছে। অন্যদের জোট বাঁধতে প্রলুব্ধ করছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরপর যা করতে নিজ মেরুর দেশগুলোকে বাধ্য করা হতো। বিশ্ব এখন স্বেচ্ছায় সেসব নীতি অনুরসণ করছে। কয়েকটি ব্যতিক্রমও আছে। সোভিয়েট ইউনিয়ন এখন অতীত হলেও এর মূল চেতনা এখনো ধরে রেখেছে রাশিয়া। ১৯৯১-এর পর রাশিয়ার অর্থনীতি বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। প্রথমে বরিস ইয়েলতসিন এবং ১৯৯৯ সাল থেকে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দেশটিকে আবার বিশ্বের অন্যতম সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত করায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ১৯৯০’র দশক থেকে দেশটি কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তে বাজারমুখী অর্থনৈতিক নীতি গ্রহণ করে। নিজেদেরকে বিশ্ব অর্থনীতির সাথে সম্পৃক্ত করতে উদ্যোগী হয়। অর্থনৈতিক সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। শিল্প ও কৃষিখাতকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়। ফলে প্রাথমিক ধকল কাটিয়ে দেশটি নতুন শতাব্দীর শুরু থেকেই অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হতে থাকে। ২০০০ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত গড়ে ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে। সেই বছরই দেশটির জিডিপি ১৯৯০ সালে সোভিয়েট ইউনিয়নের জিডিপিকে ছাড়িয়ে যায়। ১৯৯০ দশকের শুরুতে মূল্যস্ফীতির প্রকট চাপও ২০০০ সালের মধ্যে সহনীয় পর্যায়ে চলে আসে। আন্তর্জাতিক অর্থনীতিবিদগণ রাশিয়াকে ২০০৫ সালে বিশ্বের চার সেরা উদীয়মান অর্থনীতির গ্রুপ “ব্রিক”ভুক্ত করে। ব্রাজিল, ভারত ও চীনের মতো রাশিয়াও দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করে। ২০০৮ সালে ইউরোপে আর্থিক সঙ্কটের নেতিবাচক প্রভাব রাশিয়ার ওপরও পড়ে। ২০০৯ সালে ৭ দশমিক ৮২ শতাংশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধি হয়। ২০১০ সাল থেকে দেশটি আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। ২০১০ ও ২০১১ সালে ৪ দশমিক ৩৪ শাতংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে। ২০১২ সালে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে বলে বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে। দেশটি এখন বিশ্বের নবম বৃহত্ অর্থনীতি। প্রাকৃতিক গ্যাস, জ্বালানি তেল, কয়লা, মূল্যবান ধাতু, কৃষি, শিল্পসহ সব ক্ষেত্রেই বিশ্বের অন্যতম সম্পদশালী দেশ রাশিয়া। প্রতিরক্ষা শিল্পে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই রাশিয়ার প্রতিপক্ষ। টেক্সটাইল, ইলেকট্রনিক্স, মেডিক্যাল ও সায়েন্টিফিক যন্ত্রপাতি, বিদ্যুত্ উত্পাদন ও বিতরণ যন্ত্রপাতি, পারমাণবিক বিদ্যুত্ উত্পাদনসহ উচ্চ প্রযুক্তিজাত শিল্পেও দেশটি বেশ এগিয়ে। এমন একটি উদীয়মান অর্থনীতির সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক গভীরতর হওয়ার সকল ক্ষেত্র এখন প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৪ জানুয়ারি তিনদিনের সরকারি সফরে রাশিয়া যান। আর এর মধ্য দিয়ে ঢাকা-মস্কো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন যুগ স্থায়ী রূপ লাভ করতে যাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই রাশিয়া বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু। মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও চীন পাকিস্তানকে নৈতিক সমর্থন দিয়ে আসছিল। তখন ভারতের সাথে তত্কালীন সোভিয়েট ইউনিয়নের অর্থনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতা সম্পর্ক খুব ভালো ছিল। যেমনটা ছিল পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে। দুই মেরুর বিশ্বে চির বৈরিভাবাপন্ন ভারত ও পাকিস্তানের ভূরাজনৈতিক অবস্থানের বিচারে দুই দেশ দুই বলয়ের আওতায় চলে যায়। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের শাসন, শোষণ ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাঙালি মুক্তিযুদ্ধ শুরু করে। ভারত মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের মিত্রশক্তি হিসেবে সবরকম সহযোগিতা দেয়। ভারতের মিত্র সোভিয়েট ইউনিয়ন স্বভাবতই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সমর্থন দেয়। সোভিয়েট জনগণও বাঙালির ওপর পাকিস্তানি বাহিনীর হত্যা, অত্যাচার, নির্যাতন মেনে নিতে পারেনি। তাই সোভিয়েট সরকার মুক্তিযুদ্ধে আন্তরিক সমর্থন যুগিয়েছিল। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে রাজনৈতিক ও বৈষয়িক সহায়তা দেয়। এর বড় নিদর্শন ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের শুরুতে। যুক্তরাষ্ট্রের নিক্সন সরকার বঙ্গোপসাগরে সপ্তম নৌবহর পাঠায়। এর প্রত্যুত্তরে সোভিয়েট নৌবাহিনীও পারমাণবিক অস্ত্রশস্ত্র সজ্জিত যুদ্ধজাহাজ ভারত মহাসাগরে পাঠায়। এতে পাকিস্তানি সৈন্যদের নৈতিক মনোবল হ্রাস পায়। এদিকে রসদ ঘাটতিও তাদের মধ্যে দুশ্চিন্তার উদ্রেগ করে। মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা হামলা, মিত্রশক্তির সমুচিত জবাবে নাস্তানাবুদ পাকবাহিনীকে বাধ্য করে ১৬ ডিসেম্বর আত্মসমর্পণ করতে। সোভিয়েট ইউনিয়ন প্রকৃত বন্ধুর পরিচয় দেয় স্বাধীনতা-উত্তর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনের কর্মযজ্ঞে অংশগ্রহণ করে। ডুবন্ত জাহাজ আর মাইনের কারণে চট্টগ্রাম বন্দর অচল অবস্থায় ছিল। সোভিয়েট ইউনিয়ন ছাড়া খুব কম দেশেরই তখন এ জঞ্জাল পরিষ্কার করার কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সামর্থ্য ছিল। সোভিয়েট সরকার শুধু বন্দর সচল নয়, আশুগঞ্জ বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলো মেরামত করা, নতুন বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ, ব্রিজ মেরামত, বন্ধ হয়ে থাকা শিল্প-কল-কারখানা চালু করা, বার্টার চুক্তির মাধ্যমে সরকারি পর্যায়ে পণ্য আমদানি-রফতানি করা থেকে শুরু করে সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিকাশেও আগ্রহী ভূমিকা পালন করে। চট্টগ্রাম ও চালনা বন্দরে মাইন অপসারণ করতে গিয়ে রাশিয়ার ছয়জন নাবিক মারা যায়। ১৯৭৫-এ জাতির পিতাকে হত্যার সাথে সাথে বাংলাদেশের রাজনীতিতেও আমূল পরিবর্তন আসে। দেশ পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকে পড়ে। আশির দশকে উভয় দেশের মধ্যে কূটনীতিক বহিষ্কারের ঘটনাও ঘটে। নব্বইয়ের দশক থেকে রাশিয়ার সাথে আবার সম্পর্কের উন্নতি হতে থাকে। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর জন্য চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি রাশিয়া থেকেও মিগ-২৯সহ আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র সংগ্রহ করে। কিন্তু বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে তেমন উল্লেখযোগ্য সাহায্য পায়নি। বাংলাদেশ রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় পাবনার রূপপুরে এক হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে সমঝোতা চুক্তি করেছে। প্রধানমন্ত্রীর এবার সফরে আর্থিক চুক্তি হয়। এছাড়া কারিগরি বিষয়ে একটি ও নির্মাণ-পূর্ববর্তী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পৃথক তিনটি চুক্তি সই হয়। সবকিছু ঠিকভাবে এগুলে ২০১৮-এর মধ্যে বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ সম্পন্ন হবে। বাংলাদেশ সামরিক সরঞ্জাম ছাড়াও যন্ত্রপাতি আমদানি করে। বাংলাদেশ রাশিয়াতে প্রধানত নিট ও ওভেন পোশাক, পাট ও পাটজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য ও কৃষিপণ্য রফতানি করে। প্লাস্টিক, সিরামিকস্্, ঔষধ, তৈরি পোশাক, পাটজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য, চামড়াজাত পণ্য প্রভৃতি রফতানির সুযোগ থাকে। রাশিয়া সমাজতান্ত্রিক ধ্যান-ধারণা থেকে বেরিয়ে এসেছে, অভ্যন্তরীণ বাজার বিদেশিদের জন্য উন্মুক্ত করেছে এটি নিশ্চিত না হওয়ায় দেশটির বাণিজ্য-বিনিয়োগ বৃদ্ধি এতদিন অবারিত ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্ব বাণিজ্যে বড় বড় প্লেয়ারদের সাথে লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি না হওয়ায় রাশিয়াকে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্য হতে ডব্লিউটিও প্রতিষ্ঠার পরও ১৭ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। বড় বড় অর্থনীতির সাথে আলোচনা করে সমঝোতায় পৌঁছতে হয়েছে। গত আগস্টে রাশিয়া ডব্লিউটিও’র ১৫৬তম সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর ফলে রাশিয়ার পণ্যও বিশ্ব প্রতিযোগিতায় সমানভাবে অংশ নিতে পারবে। একইভাবে রাশিয়ার বাজারও বিশ্বের জন্য উন্মুুক্ত হয়েছে। বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রেও রাশিয়া আর কোনো বাধার মুখে পড়বে না। রাশিয়ার অর্থনৈতিক শক্তি আরো বাড়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে রাশিয়ায় বাংলাদেশের রফতানি বৃদ্ধির নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ডব্লিউটিও’র নীতি অনুযায়ী স্বল্পোন্নত দেশগুলো রাশিয়ায় শুল্কমুক্ত রফতানি সুবিধা পাবে। বাংলাদেশ তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেলে রফতানি দ্রুত বাড়াতে পারবে। পাশাপাশি রাশিয়ান বিনিয়োগ আকর্ষণও সহজ হবে। প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরে বাণিজ্য-বিনিয়োগ বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে - এটাই সবার প্রত্যাশা। বাংলাদেশের সাথে রাশিয়ার বাণিজ্য সম্পর্ক আশানুরূপ নয়। রাশিয়া থেকে আমদানি কিছু হলেও রফতানি একেবারেই কম। তবে গত দুই বছরে এ অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। সারণীতে তাই দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ-রাশিয়া বাণিজ্য সম্পর্ক (কোটি ডলারে) বাংলাদেশ ২০০৭-০৮ ২০০৮-০৯ ২০০৯-১০ ২০১০-১১ ২০১১-১২ আমদানি ২৪.৮৮ ৩০.৩১ ১৪.৫১ ১৫.৩০ ৩৩.৭৯ রফতানি ৬.৬১ ৪.৩৬ ৫.৩৪ ৯.৭০ ১৩.৩৩