আমিও হিন্দি ছবির পক্ষে নই

কলকাতায় এই সময়ের দুই শীর্ষ নায়কের একজন জিত্। জিত্-এর ছবি মানেই গল্পে, অ্যাকশনে আর গানে অন্যরকম ভিন্নতা। শুধু কলকাতাতেই নয়, বাংলাদেশেও জিত্ অনেক জনপ্রিয়। দুই বাংলার দর্শকই তার নতুন ছবির জন্য অপেক্ষা করেন। সম্প্রতি প্রথমবারের মতো ঢাকায় এসেছিলেন দুই বাংলার সিনেমা কুশলীদের সম্মিলনে। দুই বাংলার চলচ্চিত্র নিয়ে তার ভাবনার কথা জানতেই মুখোমুখি হন ইত্তেফাক বিনোদন প্রতিদিন-এর। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন অভি মঈনুদ্দীন। বেশ কয়েকমাস বিরতির পর আপনার নতুন ছবি মুক্তি পেল, প্রথম দিনে রেসপন্স কেমন পাচ্ছেন? রবি দা সবসময়ই অসাধারণ ছবি নির্মাণ করেন। এর কিছুদিন আগে তারই নির্দেশনায় আমি কাজ করেছি ‘আওয়ারা’ ছবিতে। এই ছবিটিও বেশ ভালো ব্যবসা করেছিল। মাত্রতো একদিন অতিবাহিত হলো, তারপরও যে রেসপন্স পেয়েছি তা আমার আগের ছবিগুলোর চেয়েও অনেক ভালো। পুরো সপ্তাহ পার হওয়ার আগেই ছবিটির আরও অনেক ভালো ফলাফল পাব। কারণ ছবিটির গল্প যেমন চমত্কার, গান এবং লোকেশনও অসাধারণ। কিছু দিন আগে ঢাকায় এসেছিলেন, কেমন লাগল ঢাকা? ওখানকার অনেক পরিচালক এবং প্রযোজকের সাথে এর আগেও আমার কলকাতায় বসে কথা হয়েছে বিভিন্ন চলচ্চিত্রে কাজ করার ব্যাপারে। যেমন নারগিস আক্তার, মঈন বিশ্বাসসহ আরও বেশ কয়েকজন। কিন্তু সবকিছু মিলিয়ে ব্যাটে বলে আসলে হয়ে উঠেনি বলে বাংলাদেশে আসার সুযোগ হয়নি। তবে ইচ্ছে ছিল এ দেশে আসার। কারণ আমি জানি যে এ দেশে আমার অনেক ভক্ত আছেন। আর থাকাটাই স্বাভাবিক, কারণ কলকাতা আর বাংলাদেশের ভাষাতো এক। তো নিজের ভাষার প্রতি, নিজের ভাষার নায়কের প্রতি দর্শকের একটা আলাদা টান থাকবেই। কলকাতায় আমার জন্ম হলেও আমি কিন্তু মনেপ্রাণে বাঙালি। তাই যে দেশে এই বাংলার সৃষ্টি, যে দেশে এই বাংলাকে নিজের ভাষা করে রাখার যুদ্ধ হয়েছে সেই দেশটার মানুষকে দেখার খুব ইচ্ছে ছিল আমার। আমার সেই আশা পূরণ হয়েছে। খুব ভালো লেগেছে ঢাকা শহরকে দেখে, এখানকার মানুষকে দেখে। সবাই এতো আন্তরিক, ভাবাই যায় না। আপনিতো ঢাকায় এসেছিলেন একজন প্রযোজক হিসেবে— হ্যাঁ, ঢাকায় এসেছিলাম আমি মূলত একজন প্রযোজক হিসেবে। আমি কলকাতার চলচ্চিত্রে একজন নায়ক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি একজন প্রযোজকও বটে। সর্বশেষ আমি ‘হান্ড্রেড পারসেন্ট লাভ’ ছবিটি প্রযোজনা করেছিলাম। এবার আপনারা ঢাকায় মূলত কী কী বিষয়ে আলোচনা করতে এসেছিলেন? আমরা কলকাতা থেকে এসেছিলাম মূলত ‘ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’-এর আওতাধীনে। এর চেয়ারম্যান আমাদের গৌতম দা (গৌতম ঘোষ)-এর আহ্বায়ক হিসেবে আছেন প্রসেনজিত্ দা। সাথে ছিলেন আরও অনেকেই। সবাই মূলত ছবি প্রযোজনার সাথেই জড়িত। তো এর আগে কিছুদিন আগে এখানকার তথ্যমন্ত্রী কলকাতায় এসেছিলেন। তখন আমরা দুই বাংলা এক হয়ে ছবি প্রযোজনার কথা বলেছিলাম। সেটা নিয়েই মূলত আলাপ করতে এবার ঢাকায় গিয়েছিলাম। প্রাথমিক আলোচনায় কী মনে হলো? প্রাথমিক আলোচনায় তো মনে হচ্ছে যে উভয় পক্ষই ছবি প্রযোজনা করতে রাজি। অর্থাত্ একসাথে ছবি প্রযোজনা করব আমরা। একসাথে দুই বাংলাতেই ছবি মুক্তি পাবে। কারণ, এখন বিশ্বে প্রায় ত্রিশ কোটি বাংলা ভাষাভাষী মানুষ আছেন। সে অর্থে আমাদের বিশাল একটা মার্কেট আছে। এই মার্কেট যদি আমরা ধরতে চাই এবং ভালো ব্যবসা করতে চাই তাহলে আমার মনে হয় একসাথে ছবি প্রযোজনা করেই নির্মাণ করা উচিত্। তাতে যিনি প্রযোজনা করবেন তিনি বেশ লাভবান হবেন বলেই আমরা মনেকরি। কারণ দুই বাংলাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছবিটি তখন চলবে। তবে এখানে ঢাকা থেকে ছোট্ট একটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে যেটা পরিচালক সমিতির পক্ষ থেকেই মূলত সমিতির সভাপতি এবং সেক্রেটারি বলেছিলেন যে, প্রাথমিকভাবে কলকাতায় যেন বাংলাদেশের কয়েকটি চ্যানেল প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়। সেই চেষ্টাই চলছে এখন। কিন্তু আমদের দেশের কয়েকজন পরিচালক আশংকা করছেন যে, এই সূত্র ধরে হিন্দি ছবিও ঢুকে যেতে পারে। কারণ এর আগে হিন্দি চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর চেষ্টা চালানো হয়েছিল। না এটা কোনোভাবেই হবে না। আর দেখুন হিন্দি ছবি চললে তো আমাদেরও লাভ হচ্ছে না। তাই আমরাও এর বিপক্ষে। কলকাতাতেও হিন্দি ছবির সাথে আমাদের কঠিন লড়াই করে টিকে থাকতে হচ্ছে। তাই আমিও হিন্দি ছবির পক্ষে নই। বাংলা ভাষার ছবি একযোগে মুক্তি দিয়ে আমরা একচ্ছত্রভাবে বাংলা ছবির প্রতিষ্ঠা করতে চাই। এবং আমরা খুব দ্রুত নিজেদের চলচ্চিত্র প্রতিষ্ঠা করতে সফল হব। দুই বাংলার এক হয়ে ছবি প্রযোজনার ক্ষেত্রে একটি কমিটি গঠন করারও জরুরি? অবশ্যই। আমাদের আলোচনা ফলপ্রসু হয়েছে। খুব শিগগিরই কলকাতায় বাংলাদেশ থেকে অনেকেই আসবেন। আমরা নিমন্ত্রণ জানিয়ে এসেছি। এখানে বসেই মূলত কমিটি গঠন করা হবে। আশা করা যায় ফেব্রুয়ারি মাস নাগাদই কমিটি গঠন হয়ে যাবে। যদি তাই হয় তাহলে সব উদ্দেশ্য দ্রুতই বাস্তবায়ন হবে। এবার আপনার চলচ্চিত্র প্রসঙ্গে আসি, কোয়েল মল্লিক ও শ্রাবন্তীর সাথেই এখন আপনাকে সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে? এই দু’জনের সাথেই দেখতে দর্শক বেশি পছন্দ করেন বলেই প্রযোজকরা আমাকে তাদের বিপরীতেই বেশি কাস্ট করেন। তারপরও কিন্তু আমি নতুন অনেকের সাথেই ছবিতে অভিনয় করছি। তাছাড়া আমি যার বিপরীতেই অভিনয় করিনা কেন প্রতিটি ছবিই কিন্তু দর্শক নন্দিত হয়। যেমন এর আগে ‘হান্ড্রেড পারসেন্ট লাভ’ বা ‘আওয়ারা’ বেশ ব্যবসা সফল হয়েছে। প্রথমটিতে কোয়েল মল্লিক থাকলেও দ্বিতীয়টিতে কিন্তু সায়ন্তিকা অভিনয় করেছিলেন। তাকেও দর্শক বেশ ভালোভাবে গ্রহণ করেছেন।