বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ

পিরোজপুরের ৫৪৭ চাকরিপ্রার্থী বিপাকে

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার ইসরাত জাহান ও নাজিয়া। তারা দু’জন ২০১০ সালের রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নির্বাচিত হন। কিন্তু পদায়ন না হওয়ায় তারা বিদ্যালয়ে যোগদান করতে পারেননি। গত ৯ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জাতীয়করণের ঘোষণা লাখো শিক্ষকের মুখে হাসি ফোটালেও তাদের হূদয়ে কাঁটা হয়ে বিঁধেছে। সরকারি এই ঘোষণার ফলে তাদের শিক্ষক হিসেবে যোগদান অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। শুধু ইসরাত জাহান ও নাজিয়া নন, পিরোজপুরের রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে উত্তীর্ণ ৫৪৭ জন প্রার্থীর একই অবস্থা। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, পিরোজপুরে ৩৪৫টি রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ২০১০ সালের রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার লিখিত ও মৌখিকের ফলাফল প্রকাশ করা হয় গত বছরের ৯ এপ্রিল। ফলাফলে পিরোজপুর জেলার ৬৯৫ জন প্রার্থী নিয়োগের জন্য নির্বাচিত হন। তাদের মধ্যে কাউখালী ৬জন, নাজিরপুরে ৪১, পিরোজপুর সদরে ১৯, ভান্ডারিয়ায় ২১, নেছারাবাদে ২৬, মঠবাড়িয়ায় ২০, জিয়ানগরে ১৫, মোট ১৪৮ জনকে মেধাক্রম ভঙ্গ করে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু বাকি ৫৪৭ জনকে এখনো বিদ্যালয়ে পদায়ন করা হয়নি। সূত্র আরো জানায়, জাতীয়করণের ফলে রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ প্যানেলের অস্তিত্ব শেষ হয়ে গেছে। এর ফলে পদায়ন না হওয়ায় নির্বাচিতদের সরকারি বিদ্যালয়ে যোগদানের সুযোগ নেই। এখন তাদের ভবিষ্যত্ নির্ভর করছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর।