এক বছরে ঈশ্বরদীতে ২২ হত্যাকাণ্ড
ঈশ্বরদী (পাবনা) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:১৪
বিগত একবছরে ঈশ্বরদীতে ২২টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে বছরের শুরুতে জানুয়ারি মাসে ৭টি এবং মে মাসে ৪টি। বিগত ২০১২ সালের শুরুতে পাকশী ইউনিয়নের যুক্তিতলা গ্রামে সানজিদা খাতুনকে তার স্বামী রেজা কর্তৃক হত্যার অভিযোগ পাওয়া যায়। পরদিন ৯ জানুয়ারি সাঁড়া ইউনিয়নের আড়মবাড়িয়া বাজারে ব্যবসায়ী শাহদত হোসেনকে এলাকার সন্ত্রাসী টনিক প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করে। ওইদিনই পাকশীর রূপপুরের নলগাড়ি এলাকায় বস্তাবন্দি অবস্থায় ভেড়ামারার মাইক্রো ড্রাইভার আমিরুলের লাশ পুলিশ উদ্ধার করে। ১১ জানুয়ারি শহরের আমবাগান এলাকায় বাক প্রতিবন্ধী বাচ্চুকে দুর্বৃত্তরা শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রাখে। জংশন স্টেশনের পাশে ১৫ জানুয়ারি পুলিশ এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে। ১৬ জানুয়ারি পাকশীর রূপপুরে আহাদ আলী নামে এক ব্যক্তির লাশ আমগাছের মগডাল হতে পুলিশ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে। ছাত্রলীগের অন্তর্দ্বন্দ্বের জের ধরে ২১ জানুয়ারি হাসপাতাল রোডে কলেজ ছাত্র মোস্তফা কামাল শান্তকে প্রকাশ্যে প্রতিপক্ষ ছুরিকাঘাত করে খুন করে। ২৩ মার্চ পাকশী লালন শাহ সেতুর নিচ হতে পুলিশ শাহ আলম নামের এক ট্রাক ড্রাইভারের লাশ উদ্ধার করে। সন্ত্রাসীরা শাহ আলমকে হত্যার পর সেতুর উপর হতে পদ্মা নদীতে ফেলে দেয় বলে পুলিশের ধারণা। পদ্মা নদীর সাঁড়া ঘাট এলাকায় ১০ এপ্রিল নদীতে ভাসমান অবস্থায় এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির লাশ পুলিশ উদ্ধার করে। যৌতুকের জন্য ১৪ মে বাঘইল গ্রামে স্বামী শামীম সরদার তার স্ত্রী মিনি খাতুনকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। মুলাডুলি ইউনিয়নের ঢুলটি গ্রামে ১৭ মে করিম ফকিরের পুত্র লিটন যৌতুকের কারণেই স্ত্রী কাকলী খাতুনকে হত্যা করে। ২১ মে দাশুড়িয়া ইউনিয়নে রাস্তার পাশে পলাশ নামের এক যুবকের লাশ পুলিশ উদ্ধার করে। জয়নগর গ্রামের অটোরিকশা চালক এমরানকে গত ২৯ মে দুর্বৃত্তরা হত্যা করে পাবনার মালিগাছা গ্রামে লাশ ফেলে রেখে যায়। পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় ২৬ জুন আটঘড়িয়ার বেনদহ গ্রামের আরশেদ আলীর পুত্র আসাদুলকে তার বন্ধুরা হত্যা করে। মুলাডুলির শ্রীপুর গ্রামে ১৬ জুলাই আনিস আপন ভাইদের হাতে নির্মমভাবে খুন হয়। জাকির হোসেন নামের এক সন্ত্রাসী গত ১৯ জুলাই রূপপুর গ্রামের অটোরিকশা চালক স্বপনকে পিটিয়ে হত্যা করে। সাঁড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী মিষ্টি খাতুনকে গত ৩ আগষ্ট একই এলাকার মুক্তার নামের এক বখাটে ধর্ষণের পর খুন করে। শহরের রহিমপুর এলাকায় ২০ সেপ্টেম্বর রেলের বাসা বিক্রির টাকার ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে সহযোগীরা মাসুদ নামের এক যুবদল কর্মীকে হত্যা করে। যৌতুকের দাবিতে মুলাডুলি সেতু সিনেমা হলের পাশে গত ৩০ অক্টোবর গৃহবধূ আকলিমা খাতুনকে তার স্বামী কামাল হোসেন পিটিয়ে হত্যা করে। লক্ষ্মীকুন্ডা ইউনিয়নের বিলকেদার গ্রামে গত ১২ নভেম্বর ক্ষত-বিক্ষত অবস্থায় অজ্ঞাতনামা এক তরুণীর লাশ পুলিশ উদ্ধার করে। সলিমপুর ইউনিয়নের কোলেরকান্দি গ্রামের বটতলায় ২১ নভেম্বর লিচু গাছের সাথে অজ্ঞাতনামা এক বৃদ্ধের লাশ পুলিশ উদ্ধার করে। মিরকামারী গ্রামের মুন্নার মোড় এলাকার এয়ারটেল টাওয়ারের নিরাপত্তা কর্মী মাহাবুলের লাশ পাশের একটি বাগান হতে উদ্ধার করা হয়।
এসব হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে ঈশ্বরদী থানার অফিসার-ইন-চার্জ আকবর হোসেন জানান, সবক’টি মামলারই তদন্ত এখনও চলছে। চার্জশীট এখনও দাখিল করা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযুক্ত কয়েকজন আসামীকে ইতিমধ্যে গ্রেফতারও করা হয়েছে। আরও আসামী গ্রেফতারের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।