বিপিএল খেলতে না পেরে হতাশ পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) খেলতে না পেরে হতাশ পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা। টি-টোয়েন্টিভিত্তিক এই টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের ২৬ জন ক্রিকেটারের অংশ নেয়ার কথা ছিল। গতকাল শুক্রবার থেকে মাঠে গড়ানো এ টুর্নামেন্টে অংশ নেয়ার জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) তাদের ছাড়পত্র না দেয়ায় চরম হতাশ এই ক্রিকেটাররা। পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের মধ্যে অনেকেই প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহস না পেলেও তারা চরম ক্ষুব্ধ ও হতাশ। অনেকেই মনে করছেন এ টুর্নামেন্টে খেলার জন্য যেসব খেলোয়াড় চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন তাদের মধ্য থেকে অন্তত যারা জাতীয় দলের হয়ে খেলার সুযোগ পাচ্ছে না তাদের বাংলাদেশে খেলার জন্য পিসিবির অনুমতি দেয়া উচিত ছিল। হতাশ এক ক্রিকেটার টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেন, ‘বিসিবি পাকিস্তানে দল না পাঠানোর কারণে কেবলমাত্র আমাদের দেশের তারকা খেলোয়াড়দের সেখানে না পাঠিয়ে আটকে রেখে প্রতিবাদ জানাতে পারত পিসিবি। কিন্তু যেসব খেলোয়াড় কেবলমাত্র ঘরোয়া ক্রিকেট খেলে থাকে এবং এ লিগ থেকে ভাল পরিমাণ অর্থ পেতেন তাদের ছাড়া উচিত ছিল।’ টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে ঘরোয়া ক্রিকেটে যেসব দেশ খুব কম অর্থ দিয়ে থাকে পাকিস্তান তাদের মধ্যে একটি বলে উল্লেখ করেন ওই খেলোয়াড়। তিনি বলেন, ‘প্রায় ২০-২৫ জন খেলোয়াড়ের সেখানে যাওয়া ও ভাল পরিমাণ একটা অর্থ আয়ের সুযোগ ছিল। কিন্তু পিসিবি তা হতে দিল না।’ বিপিএল-এর ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো থেকে বি এবং সি শ্রেণীতে চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের মধ্যে রয়েছেন ফাওয়াদ আলম, মোহাম্মদ সামি, খুররম মনজুর, আয়াজ জিয়া, আজিম ঘুমন, শাহজাব হাসান, উমর আমিন, আসাদ আলী, জুলফিকার বাবর, সারজিল খান, আনোয়ার আলী, বাবর আজম, বিলাওয়াল ভাট্টি, হাম্মাদ আজম, খালিদ লতিফ, মনসুর আমজাদ, জুনায়েদ জিয়া, রেজা আলী, রাহাত আলী, আদিল মালিক, আলী খান, সাদ আনোয়ার, সামিউল্ল¬াহ নিয়াজি এবং শাকিল আনসার। এছাড়া ইমরান নাজির (২,৮০,০০০ ডলার), শহিদ আফ্রিদি (২,৬৫,০০০ ডলার), কামরান আকমল (৭৫,০০০ ডলার), শোয়েব মালিক (৮৫,০০০ ডলার), আবদুল রাজ্জাক (৯২,০০০ ডলার), ওয়াহাব রিয়াজ (৬৫,০০০ ডলার) সহ অন্যদের জন্য প্রায় ১০ লাখ ডলার খরচ করত দলগুলো। পাকিস্তান দলের সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফও পিসিবির সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন। লতিফ বলেন, ‘পিসিবি’র উচিত ছিল খেলোয়াড়দেরকে বিপিএলে খেলতে দেয়া। তাদের মধ্যে অনেকেই কেবলমাত্র ঘরোয়া ক্রিকেটে সুযোগ পেয়ে থাকে এবং এ পর্যায়ে তারা খুব বেশি অর্থ আয় করতে পারে না।’ তিনি বলেন, ‘যে সব খেলোয়াড় পাকিস্তান জাতীয় দলে খেলে তাদের আটকানো ঠিক আছে। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটাররা একই ব্যাপার নয়। এদের মধ্যে কাউকে কাউকে নিজেদের পরিবারকে সাহায্য করতে হয়। এ বিষয়টা পিসিবির উপলব্ধি করা উচিত ছিল।’ পাকিস্তান সফরের জন্য বিসিবিকে চাপ দেয়ার কোন কারণ পিসিবির ছিল না বলেও উল্লে¬খ করেন লতিফ। তিনি বলেন, ‘এমনকি বাংলাদেশ যদি পাকিস্তান সফরে আসত বা আসেও তাতেই বা পাকিস্তান ক্রিকেটে কি পরিবর্তন হতো? এমন অবস্থায় অন্য দেশগুলো কি বাংলাদেশকে অনুসরণ করতো?’ প্রতিশ্রুত পাকিস্তান সুপার লিগ আয়োজনে পিসিবি সফল হবে বলে আশাবাদী সাবেক উইকেটরক্ষক ও ব্যাটসম্যান লতিফ। তার মতে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলোয়াড়দের মোটামুটি ভাল অর্থ আয় করার একমাত্র জায়গা এটা। তিনি এও বলেন যে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে সহায়তা করার কথাটা বার বার বলাও পিসিবির ভাবমূর্তির জন্য সহায়ক নয়। লতিফের মতে, ‘অতীতে আমরা যদি কিছু করে থাকি সেটা ভুলে যান। কিন্তু পাকিস্তান সফরের জন্য বার বার বাংলাদেশকে চাপ সৃষ্টি করাটা ঠিক নয়।’ বাসস