ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিম্নমুখী
তানোরে বোরোর পরিবর্তে
গমের চাষ বাড়ছে
আনিসুজ্জামান, রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৫৭
চলতি বছর তানোর উপজেলায় বোরোর জমিতে গমের চাষাবাদ হয়েছে। ফলে গত বছরের তুলনায় প্রায় পাঁচগুণ জমিতে গমের চাষ হয়েছে। এ বছর উপজেলায় গম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ১১শ’ হেক্টর হলেও, আবাদ হয়েছে ৩ হাজার ৫৬০ হেক্টর জমিতে। স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ জানিয়েছে, এ থেকে প্রায় ২ হাজার ৬শ’ কোটি টাকা কৃষকদের আয় হবে।
খরাপ্রবণ তানোরে একসময় বোরো ধানের চাষাবাদও প্রায় অসম্ভব ছিল। ভূ-গর্ভের পানি উত্তোলনের সুব্যবস্থা না থাকায় কৃষকদের জন্য চাষাবাদ কঠিন হয়ে পড়েছিল। এ কারণে উপজেলার কলমা, বাঁধাইড় পাঁচন্দর ইউনিয়ন ও মুন্ডুমালা পৌর এলাকায় পুকুরের সংরক্ষিত পানি ব্যবহার করে গমের চাষাবাদ করা হত। নব্বই দশকের দিকে হাতেগোনা কিছু জোতদার নিজস্ব জমিতে শ্যালো মেশিন স্থাপন করে বোরো চাষ শুরু করে। তখন সেচের অভাবে হাজার হাজার বিঘা জমি অনাবাদি অবস্থায় থাকত। ১৯৯৮ সালের দিকে সরকার নিয়ন্ত্রিত বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ তানোরে গভীর নলকূপের সঙ্গে আশার আলো নিয়ে হাজির হয়। বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় স্থাপিত হয় গভীর নলকূপ। পনের বছর আগে পানির স্তর উপরের অংশে থাকায় সর্বোচ্চ ১৩০ ফিট গভীরতায় স্থাপন করা হয়েছিল গভীর নলকূপ। বর্তমানে ভূ-গর্ভ পানির নিচে নেমে যাওয়ায় অধিকাংশ নলকূপ বন্ধের উপক্রম হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নলকূপগুলো পুন:সংস্কারও করতে পারছে না।
বাঁধাইড় ইউপি’র নারায়ণপুর গ্রামের কৃষক শিশির মোড়ল জানান, তাদের গ্রামে স্থাপিত গভীর নলকূপের আওতায় ২৫০ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করা হত। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এ বছর কৃষকরা কম পানি ব্যবহার করে গভীর নলকূপের এলাকায় গমের আবাদ করেছেন। কলমা ইউনিয়নের দিব্যস্থল গ্রামের কৃষক আব্দুল খালেক জানান, বোরো চাষে সার কীটনাশক, শ্রমিক ও পানিসহ বিভিন্ন উত্পাদন খরচের তুলনায় গম চাষ লাভজনক। এ কারণে গভীর নলকূপের স্কীমের কৃষকরা বোরোর পরিবর্তে গমের আবাদ করেছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার ড. হাসানুল কবীর কামারী জানান, উপজেলার বেশ কয়েকটি খরাপ্রবণ এলাকা ঘুরে কৃষকদের বোরোর পরিবর্তে গম আবাদের পরামর্শ দেয়া হয়। তাই পাঁচগুণ বেশি জমিতে গমের আবাদ হয়েছে। কৃষকরা ইতিমধ্যে সাফল্য পেতে শুরু করেছে।
বিএমডিএ’র তানোর জোনের সহকারী প্রকৌশলী সৈয়দ জিল্লুর বারী জানান, বরেন্দ্র অঞ্চলের রুক্ষ লাল মাটিতে পর্যায়ক্রমে ৫২০টি গভীর নলকূপ স্থাপিত হয়। তখন পানির স্তর উপরে থাকায় নলকূপের গভীরতা দেয়া হয়েছিল ১৩০ ফুট। বর্তমানে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর আগের তুলনায় আরো প্রায় ১২০-১৪০ ফুট নিচে নেমে গেছে। আইনি জটিলতা ছাড়াও প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ওইসব গভীর নলকূপ সংস্কার সম্ভব হচ্ছে না। ইতিমধ্যে নতুন প্রকল্প চেয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা কলমা, বাঁধাইড় ও পাঁচন্দর ইউনিয়ন এবং মুন্ডুমালা পৌর এলাকার গভীর নলকূপের আওতায় বোরোর পরিবর্তে বিকল্প ফসল হিসাবে গমের আবাদ হয়েছে।