খাগড়াছড়িতে মং-সার্কেলের
রাজপুণ্যাহ সম্পন্ন
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:৫৯
জেলা সদরের মহালছড়ার মং-রাজবাড়িতে আনন্দঘন অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে গতকাল শুক্রবার চতুর্থবারের মতো মং-সার্কেলের ঐতিহ্যবাহী রাজস্ব আদায় উত্সব রাজপুণ্যাহ-২০১৩ সম্পন্ন হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাজভবনে পঞ্চশীলগ্রহণ ও মঙ্গলসূত্র দেশনার মধ্য দিয়ে রাজপুণ্যাহর প্রথম দিন শুরু হয়।
গতকাল বেলা ১১টায় গার্ড অব অনারের মাধ্যমে রাজ সিপাহির একটি চৌকশ দল মং-রাজা সাচিং প্রু চৌধুরীকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করে। অনুষ্ঠানের শুরুতে রাজা সাচিং প্রু চৌধুরীকে তলোয়ার উপহার দেয়া হয়। পরে মং-সার্কেলের অষ্ঠম রাজা সাচিং প্রু চৌধুরী এলাকার কার্বারি ও হেডম্যানদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জুমচাষের খাজনা আদায়ের মধ্য দিয়ে ‘রাজপুণ্যাহ’র আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেন। রাজপুণ্যাহ উত্সবে জেলার ৮৮ জন হেডম্যান এবং ৮০০ জন কার্বারি রাজার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জুমচাষের খাজনা প্রদান করেন। খাজনার ৪২ শতাংশ রাজা, ৩৮ শতাংশ হেডম্যান এবং ২০ শতাংশ সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়ে থাকে।
গতকাল রাজপুণ্যাহর শেষ দিনে মং-সার্কেলের রাজা সাচিং প্রু চৌধুরীর সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন—প্রধান অতিথি হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান বীর বাহাদুর উশ্যেচিং এমপি, বিশেষ অতিথি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ির রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী শামসুল ইসলাম, পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা, ভাইস চেয়ারম্যান তরুণ কান্তি ঘোষ, খাগড়াছড়ি সদর জোন কমান্ডার লে. কর্নেল শহীদ, খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মাসুদ করিম, পুলিশ সুপার শেখ মিজানুর রহমান, রাজমাতা মাধবী লতা চৌধুরী, কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি রনি ত্রিপুরা প্রমুখ।