চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন আবদুশ শাকুর
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:১৪
সর্বস্তরের মানুষের পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন শেষে চির নিদ্রায় শায়িত হলেন কথাশিল্পী ও সঙ্গীতজ্ঞ আবদুশ শাকুর। গতকাল শুক্রবার বাদ আছর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে স্ত্রীর পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। এর আগে বারডেম হাসপাতালের হিমাগার থেকে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ধানমন্ডির বায়তুল আমান জামে মসজিদে। সেখানে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে তার মরদেহ সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের উদ্দেশ্যে নিয়ে আসা হয় বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণে।
উল্লেখ্য, বরেণ্য কথাশিল্পী ও গবেষক আবদুশ শাকুর গত ১৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা পৌনে ৫টায় হূদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
একাডেমী প্রাঙ্গণে প্রথমেই এই গুণীজনের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। শ্রদ্ধা জানান শিক্ষা সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, বাংলা একাডেমীর মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, কালি ও কলম সম্পাদক আবুল হাসনাতসহ অনেকে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করে বাংলা একাডেমী, দৈনিক সমকাল ও শুদ্ধস্বর। এছাড়াও সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ গুণী এই ব্যক্তির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘ঘটনাক্রমে আবদুশ শাকুর আমার ছাত্র হলেও সম্পর্কটা বন্ধুর মতো ছিল। বহুমুখী প্রতিভার একজন মানুষ ছিলেন তিনি। ছোটগল্প লেখার মাধ্যমেই সাহিত্যে তার আবির্ভাব। প্রবন্ধ লেখার ক্ষেত্রেও তিনি গল্প লেখার মতো করে ভাষা ব্যবহার করতেন। আর সে ভাষাটি ছিল একেবারেই তার নিজস্ব। রবীন্দ নাথের জীবনী নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন শাকুর। পুরো কাজটা সমাপ্ত করতে পারলেন না। তবে লেখালেখির ক্ষেত্রে পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের কারণে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন তিনি।’
শামসুজ্জামান খান বলেন, ‘তিনটি বিশেষ দিকে অসাধারণ কৃতী পুরুষ ছিলেন আবদুশ শাকুর। এই তিনটি বিষয় হলো সাহিত্য, সঙ্গীত ও গবেষণা। এছাড়াও বহুমাত্রিক বিষয়ে তার জ্ঞান ছিলো। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নানা বিষয়ে তিনি নিরলসভাবে লিখে যাচ্ছিলেন। একই সাথে তিনি গবেষণা করছিলেন। সঙ্গীত ও গোলাপ সংক্রান্ত গবেষণার ক্ষেত্রে বাংলা ভাষাভাষী অঞ্চলে অসামান্য গুণীজন ছিলেন তিনি। প্রবন্ধ, গল্প ও রম্য রচনার ক্ষেত্রেও ছিলো বিরল দক্ষতা। বাংলা একাডেমীর অনুরোধে চারখণ্ডের রবীন্দ জীবনী লেখা শুরু করেছিলেন আবদুশ শাকুর। ইতোমধ্যে ৯৫০ পৃষ্ঠার দুই খণ্ডের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি দুই খণ্ড তার আকষ্মিক প্রয়াণের কারণে অসমাপ্ত রয়ে গেলো। এটা আমাদের জন্য এক নিদারুণ দুঃসংবাদ।’
রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘কর্মজীবনের শেষদিকে লেখালেখিতে তার আত্মপ্রকাশ ছিলো বিষ্ময়কর। সঙ্গীত, রবীন্দ জীবনী, রম্যরচনা, গোলাপ বিষয়ক গবেষণাসহ নানামুখী বিষয়ে তিনি লিখেছেন। যখন তিনি প্রস্ফুটিত হচ্ছিলেন তখনই চলে গেলেন। সাহিত্যের ভুবনে আরো কিছুকাল তার বেঁচে থাকাটা প্রয়োজন ছিল।’