পদার্থবিজ্ঞান
সাধারণত প্রয়োগমূলক প্রশ্ন অংক নির্ভর হয়ে থাকে
টাইমুর-আল-মোবারক প্রভাষক (পদার্থবিজ্ঞান), ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুল ও কলেজ,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০১৩, ১৭:৫৪
সুপ্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা “পদার্থবিজ্ঞান”-এর উপর পরামর্শ প্রদান করবো, যা তোমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করি।
সৃজনশীল অংশঃ
পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ে সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তরের জন্য ৪০ নম্বর বরাদ্দ থাকে। প্রশ্নের শুরুতে থাকে একটি উদ্দীপক এবং এর অধীনে বিভিন্ন দক্ষতাস্তরভিত্তিক ৪টি প্রশ্ন থাকে, যথা-
ক. জ্ঞানমূলক- ১ নম্বর,
খ. অনুধাবনমূলক- ২ নম্বর,
গ. প্রয়োগমূলক- ৩ নম্বর
এবং ঘ. উচ্চতর চিন্তন দক্ষতামূলক- ৪ নম্বর।
এভাবে প্রতিটি প্রশ্নের মোট মান থাকে (১+২+৩+৪) = ১০। মোট ৬টি প্রশ্ন থাকে, তন্মধ্যে ৪টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয় (৪x১০ = ৪০ নম্বর)। এই অংশে ভালো করতে হলে একজন শিক্ষার্থীকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো গুরুত্ব সহকারে মনে রাখতে হবে-
প্রথমেই প্রদত্ত উদ্দীপকটি খুব মনোযোগ সহকারে পড়বে এবং সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলো ভালো করে বুঝে নেবে। জ্ঞানমূলক প্রশ্নের উত্তর যথাসম্ভব অল্পকথায় শেষ করবে। হতে পারে তা এক বা দুই লাইনে, এমনকি এক বা দুই কথায়। সঠিক উত্তরে পূর্ণ ১ নম্বরই পাবে, উত্তরের আকার যাই হোক না কেন। তবে এই প্রশ্নের উত্তর হুবহু বই থেকেই পাওয়া যাবে এবং বইতে যেভাবে আছে সেভাবেই লেখার চেষ্টা করবে। অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তরে উদ্দীপক হতে বিষয়টি সম্পর্কে যে ধারণা হয় তা বুঝে নিয়ে নিজের মতো করে লিখবে। এক্ষেত্রে কোন মুখস্থ বিদ্যা স্মরণ করে হুবহু লেখার প্রয়োজন নেই, শুধু মূল বিষয়টি যেন ঠিক থাকে সেদিকে দৃষ্টি রাখবে। প্রয়োগমূলক প্রশ্ন যদি বর্ণনামূলক তথা তত্ত্ব নির্ভর হয়, তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই প্রয়োজনীয় চিত্র সংযোজন করতে হবে (যদি বইতে দেয়া থাকে)। কারণ, এই প্রশ্নের উত্তরে ৩ নম্বর থাকে।
সাধারণত প্রয়োগমূলক প্রশ্ন অংক নির্ভর হয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে উদ্দীপক হতে উপাত্ত সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় সূত্র লিখে উপাত্তের মানগুলো সঠিক প্রতীকে বসিয়ে বিশ্লেষণ করে অংক শেষ করবে। যেহেতু এক্ষেত্রে ৩ নম্বর থাকে, তাই বেশি সংক্ষেপ করে অংক করবে না। অংক শেষে আলাদা করে উত্তর লিখবে।
উচ্চতর চিন্তন দক্ষতামূলক প্রশ্নের উত্তরে অবশ্যই প্রয়োজনীয় চিত্র দিতে হবে। এক্ষেত্রে প্রশ্নে যা করতে বলা হবে অর্থাত্ বিশ্লেষণ, সংশ্লেষণ, মূল্যায়ন কিংবা যথার্থতা যাচাই, তা সঠিকভাবে সম্পন্ন করবে। প্রতিটি অংশের উত্তর প্রদানের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখা বাঞ্চনীয়। অপ্রাসঙ্গিক অংশ, সেটা যত ভালো করেই লেখা হোক না কেন, তা পরীক্ষকের বিরক্তির উদ্রেক করে। তাই, যথাসম্ভব অপ্রাসঙ্গিকতা ছেড়ে সতর্কতার সাথে উত্তর প্রদান করবে। প্রশ্নের চাহিদা অনুসারে উত্তরের আকার হবে, নম্বর অনুসারে নয়। মনে রাখতে হবে, উত্তরের আকার বড় হলেই বেশি নম্বর পাওয়া যাবে না, যদি না তা প্রশ্নের চাহিদা যথাযথভাবে পূরণে সক্ষম হয়। প্রশ্নানুসারে উত্তর সম্পন্ন করতে যতটুকু লেখার প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই লিখবে, তাতে উত্তরের আকার যাই হোক না কেন। প্রতিটি সৃজনশীল প্রশ্নের ৪টি অংশের উত্তর ধারাবাহিকভাবে দেয়ার চেষ্টা করবে, অর্থাত্ প্রথমে ‘ক’, তারপর ‘খ’, তারপর... এভাবে। তা না হলে অনেক সময় নম্বর কম পাওয়া যায়, এমনকি নিজেও কোন একটি অংশের উত্তর করতে ভুলে যেতে পার।