ডিজিটাল বাংলাদেশের কৃষি সফটওয়ার

ডিজিটাল বাংলাদেশের জন্য সকল তথ্য বিশেষ করে কৃষিপণ্য পরিমাপের এককগুলো সফটওয়ার ফরমেটে নিতে হবে। তাই এখানে কৃষিপণ্য পরিমাপের স্থানীয় একক ও মেট্রিক এককের বিশেষ বিশেষ দিক পর্যালোচনা করে কিছু সুপারিশ উল্লেখ করা হল- অতি প্রাচীনকাল থেকেই সামাজিক জনজীবনে মানুষ তার শরীরের অঙ্গ প্রত্যক্ষ যেমন হাত, আঙুল, পা ব্যবহার করে পরিমাপ কাজ সম্পাদন করত। হাজার হাজার বছর পর এখনো আমরা পরিমাপ করে যাচ্ছি তবে ভিন্ন অংক ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে। এর মাঝে হাজারো বিবর্তন ঘটেছে এই পরিমাপ খাতে। মানুষের পেশায় সহজতা ও সঠিকতা আনার জন্য এসব পরিবর্তন সংঘটিত হয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে গ্রামীণ ও কৃষি জীবনে পরিমাপ এককের বৈচিত্র্য সবচেয়ে বেশি, যার জন্য এসআই বা আন্তর্জাতিক পদ্ধতির পরিমাপ চালু। এর ধারাবাহিকতায় আশির দশকে এদেশে মেট্রিক পদ্ধতির হিসাব সরকারিভাবে চালু করা হয়। কিন্তু বিগত তিন দশকেও মেট্রিক পদ্ধতি সফলভাবে প্রচলিত না হওয়ার কারণ হিসাবে দেখা গেছে এদেশে কৃষিভিত্তিক পণ্য ব্যবসা ও জমি পরিমাপে সীমাহীন বৈচিত্র্য। জমি, ওজন, আয়তনসহ সকল পরিমাপের স্থানীয় ভিত্তিক অসংখ্য একক যা রূপান্তরকরণ একটি জটিলতম কাজ। এই সমস্যা সমাধানে এগিয়ে যাওয়ার জন্য দেশে প্রধান প্রধান এককগুলো সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হয়। যেমন- জমি পরিমাপের জন্য কানি, হেক্টর, একর, বিঘা (৪ প্রকার) পানি, কাঠা (৪ প্রকার) কড়া, গ্লা, তিল, আরা, পুরা, শতক, কুটি প্রভৃতি। দৈর্ঘ্য মাপের মধ্যে আছে হাত, আঙুল, ফুট, গজ, মুডুম, গিঁরা, নল, ছাতা, ফুট, ইঞ্চি, মাইল, ক্রোশ, কিলোমিটার, মিটার, সেন্টিমিটার, পা, পদক্ষেপ, বিঘাত প্রভৃতি। ওজনের মধ্যে আছে সের, মণ, কেজি, টন, পাউন্ড, গ্রাম, তোলা, আউন্স, ভরি, কাঠা, কুচি। এভাবে কৃষিপণ্য পরিমাপের জন্য সারাদেশে স্থানীয়ভাবে অসংখ্য একক চালু আছে। দেশের অশিক্ষিত কৃষকের মধ্যে কেবল স্থানীয় মাপগুলো ব্যবহার করে বলে এসব একক সময় ও শ্রমসাধ্য রূপান্তর করে জাতীয় হিসেবে তৈরি করতে হয়। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে বাংলাদেশে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করতে হলে প্রথমেই এসব গুরুত্বপূর্ণ একককে ডিজিটাইজ করে সফটওয়ার তৈরি করতে হবে। আজকের কম্পিউটার যুগে দুনিয়ার সব দেশে ইউনিট কনভারসন সফটওয়ার তৈরি হয়েছে। কম্পিউটারের ওয়েবসাইটে সার্চ দিলেই তার প্রমাণ পাওয়া যাবে। কিন্তু এসব সফটওয়ারে বাংলাদেশের স্থানীয় ইউনিটগুলো নেই। আছে প্রত্যেকের দেশীয় ইউনিট রূপান্তর প্রক্রিয়া। তাই বাংলাদেশে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করার জন্য করণীয় কয়েকটি সুপারিশ উল্লেখ করা হল- এজন্য প্রথমত জমির পরিমাপ, দৈর্ঘ্য, ওজন, আয়তন, ইত্যাদি একক সংগ্রহ করে তালিকা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, উপরে বর্ণিত প্রতিটি সেক্টরের ১০ থেকে ১৫টি প্রধান একক নির্বাচন করে তা প্রধানত মেট্রিক পদ্ধতির এককে মেট্রিক্স তৈরি করে স্ট্যান্ডার্ডাইজ করতে হবে। যেমন এক ধরনের বিঘা, এক ধরনের কাঠা ইত্যাদি। এরপর স্ট্যান্ডার্ড ইউনিটগুলো কম্পিউটার ভাষায় (এমনকি জাভা দ্বারাও সম্ভব) সফটওয়ার তৈরি করে সহজেই তা ব্যবহার করা যায়। এ ব্যবস্থার দ্বারা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে কৃষক, উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা, কৃষি ব্যবসায়ীসহ সকল ব্যবসায়ী এবং সকল স্তরের পরিকল্পনাকারী ও শিক্ষক/শিক্ষার্থী। লেখক:প্রফেসর, ময়মনসিংহ পলিটেকনিক কলেজ, ময়মনসিংহ