ঝিনাইদহে বিএসএফ’র হাতে নিহতদের পরিবারে দুর্দিন

ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার সীমান্তে বিভিন্ন সময়ে বিএসএফ’র গুলিতে নিহতদের পরিবারগুলো চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছে।। এখনো চোখের পানি ঝরছে তাদের। ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার বিজিবি’র ৮টি বিওপি’র অধীন প্রায় ৫০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। সীমান্তের গ্রামগুলোতে বসবাসকারী গরু ব্যবসায়ীরা ভারতে মাঝে-মধ্যে গরু আনতে যায়। গরু আনতে গিয়ে অনেকে বিএসএফ’র গুলিতে নিহত হয়। আবার কেউ ঘাস কাটতে গিয়ে বিএসএফ’র গুলির শিকার হয়ে থাকে। প্রতি বছরই এ উপজেলার সীমান্তে বিএসএফ’র গুলিতে নিহতের ঘটনা ঘটে আসছে। গত বছর মহেশপুর সীমান্তে ৪ জন গরু ব্যবসায়ী গরু আনতে গিয়ে বিএসএফ’র গুলিতে নিহত হয়েছে। শ্যামকুড়, মাঠপাড়া ও লড়াইঘাটা গ্রামে কয়েক বছরের ব্যবধানে বিএসএফ’র গুলিতে ১০ জন বাংলাদেশি নিহত হয়েছে। আহত হয়ে কয়েকজন ফিরে এসেছে। তারা পঙ্গু হয়ে গেছে। এদের মধ্যে একজন ছাত্র ভারত থেকে খেলার সামগ্রী কিনে ফেরার পথে বিএসএফ’র গুলিতে নিহত হয়। নিহত যুবক ছেলেরা ছিল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাদের মৃত্যুতে বৃদ্ধ মা-বাবা, ছেলে-মেয়ে ও স্ত্রী চরম দুরবস্থায় আছে। কারো স্ত্রী অভাবের তাড়নায় বৃদ্ধ শ্বশুরের কাঁধে সন্তান ফেলে নতুন করে সংসার বেঁধেছে। আবার কেউ স্বামীর বাড়ি আঁকড়ে পড়ে আছে শাশুড়ি ও সন্তানদের নিয়ে। অন্যের জমিতে কামলা খেটে সংসার চালাচ্ছে। এব্যাপারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গরুর আসল ব্যবসায়ীরা ওপারে গরু আনতে যায় না। রাখালদের গরু আনতে পাঠায়। কাঁটা তারের বেড়ার এপার থেকে আনলে গরু প্রতি ৫শ টাকা পায় রাখাল। কাঁটা তারের বেড়া পার হয়ে ওপার থেকে এপারে গরু পার করে দিলে গরু প্রতি এক হাজার টাকা পায় রাখাল। লড়াইঘাটা গ্রামের জামাল হোসেন গরু আনতে গিয়ে ২০০৯ সালে ফতেপুর ক্যাম্পের বিএসএফ’র গুলিতে নিহত হয়। তার স্ত্রী হামিদা খাতুন ৩টি সন্তান ও বৃদ্ধা শাশুড়িকে নিয়ে অন্যের জমিতে কামলা খেটে সংসার চালায়। শ্যামকুড় মাঠপাড়া গ্রামের রবিউল গত অক্টোবর মাসে গরু আনতে গিয়ে বিএসএফ’র গুলিতে নিহত হয়। তার স্ত্রী আইমন নেছা বৃদ্ধা শাশুড়ি ও ছেলে-মেয়ে নিয়ে কষ্টে আছে। পরিবারে আর কেউ উপার্জনক্ষম ব্যক্তি নেই। বিজিবি’র চুয়াডাঙ্গা ৩৫ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেঃ কর্নেল গাজী মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, তারা স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী গ্রামের লোকদের জিরো লাইন ডিঙ্গিয়ে ওপারে না যাওয়ার জন্য মোটিভেশন করছেন। আর বিএসএফ’র সাথে বৈঠককালে কেউ ভুল করে সীমান্ত ক্রস করলে গুলি না করার জন্য বলে থাকেন।