খেপুপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভেঙ্গে পড়ার আশংকায়

কলাপাড়া পৌর শহরের মডেল খেপুপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দেড় সহস্রাধিক ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকরা প্রতিদিন মৃত্যু ঝুঁকির মধ্যে ক্লাস করছে। ৫১ বছর আগে নির্মিত বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবনটির বিভিন্ন কক্ষের ছাদের প্লাস্টার খসে পড়া ছাড়াও ভবনের মূল পিলার ভেঙ্গে যাওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস করতে হচ্ছে। আন্দারমানিক নদীর তীর ঘেঁষে ১৯৩০ সালে এম ই স্কুল হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ১৯৪৪ সালে উচ্চ ইংরেজী স্কুল হিসাবে খেপুপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৯৬০-৬১ সালে এ দ্বিতল ভবনটি নির্মাণ করা হলেও বর্তমানে তা ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ইতিমধ্যে ভবনের ১২টি কক্ষের অধিকাংশ কক্ষের ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ে প্রতিদিন ক্লাস চলাকালীন ছাত্র-ছাত্রীদের মাথায় ইটের টুকরা, বালু খসে পড়ছে। ভবনের প্রটেকশন পিলারগুলোর এক তৃতীয়াংশ ভেঙ্গে গেছে। ভবনের প্ল¬াস্টার খসে রড বের হয়ে গেছে। বর্তমানে বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মানবিক, বিজ্ঞান, ব্যবসা শিক্ষা, এস এস সি ভোকেশনাল ৪টি ট্রের্ড-এ এক হাজার সাতশ’ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে। এ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র হামিম জানায়, আমরা ক্লাসে যত না শিক্ষক ও বইয়ের দিকে না তাকাই তার চেয়ে বেশি তাকাই ছাদের দিকে। ক্লাসে বসলেই ছাদ থেকে বালু পড়ে জামা-প্যান্ট নষ্ট হয়ে যায়। খাতায় লিখতে শুরু করলে বালুর কারণে কলম নষ্ট হয়ে যায়। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক কে এম রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত (স্মারক নং মাউশি/৩০৬মডেল বিবিধ/০১/১৭৯) চিঠিতে জানা য়ায়, খেপুপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে মডেল স্কুলের আওতায় নেয়া হয়েছে। কিন্তু এর কার্যক্রম গত এক বছরেও শুরু না হওয়ায় ভগ্নদশা এ ভবনে ছাত্র-ছাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাদাত হোসেন বিশ্বাস জানান, বিদ্যালয় ভবনের যে অবস্থা তাতে ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে নিয়মিত ক্লাস করা ও শিক্ষক-অভিভাবকদের নিয়ে মিটিং করা সত্যিই বিপজ্জনক হয়ে গেছে। প্রতিদিনই কোন না কোন ক্লাসের ছাদ থেকে প্লাস্টার ধসে পড়ার ঘটনা ঘটছে।