অটিস্টিক শিশুদের জন্য বিশেষজ্ঞদের আশার বাণী

শিশুদের অটিজম বা অটিস্টিক শিশুদের সম্পর্কে বিশেষজ্ঞগণ নতুন আশার বাণী শুনিয়েছেন। এতদিন বিশেষজ্ঞগণ বলে আসছিলেন শিশুদের অটিজম সমস্যা সারা জীবন বহন করতে হয়। কিন্তু নতুন গবেষণায় বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, যে সমস্ত অটিস্টিক শিশুদের সিগনেসার সিম্পটমস বা লেখার সমস্যা বা স্বাক্ষরদানের সমস্যাজনিত উপসর্গ প্রতীয়মান হয়েছে তারা সম্পূর্ণভাবে সেরে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞগণ আরও মনে করছেন বিজ্ঞানী ও অভিভাবকগণ অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে যে ধারণা এতদিন পোষণ করতেন তা নতুন গবেষণা ফলাফলে পরিবর্তেনের সূচনা করবে। পাশাপাশি বিশেষজ্ঞগণ এটাও সতর্ক করে দিয়েছেন অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে যেন কেউ মিথ্যা আশা না দেন। বিশেষজ্ঞগণের অভিমত: তথাকথিত অটিজম স্পেক্ট্রামে আক্রান্তদের উল্লেখযোগ্য একটি অংশের আচরণগত উন্নতি হয় যা আশাপ্রদ। কিন্তু বেশিরভাগ শিশুদের থেরাপি দেয়ার পরও উন্নতি হয় অতি সামান্যই। বিশেষজ্ঞগণ আরও বলছেন, বিহেবিয়োরাল থেরাপির পর কোন শিশুদের অধিক উন্নতি হবে, কাদের কম উন্নতি হবে তা চিকিত্সকদের অনুমান করার কোন পদ্ধতি নেই। বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, অতীতে ১ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ক্ষেত্রে শিশুদের অটিজম ডায়াগনোসিস পরবর্তীতে অনেকটাই ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞগণ আরও বলছেন, গত দু’দশক ধরে অনেক ক্ষেত্রে অটিজম নির্ণয়ে যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি। অটিস্টিক শিশুরা স্বাভাবিক হতে পারবে কিনা এ ধরনের একটি প্রশ্ন প্রসঙ্গে অভিমত দিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইন্ড ইনস্টিটিউটের গবেষক সালি ওজোনফ। এই গবেষকের মতে অনেকেই অটিজম সম্পর্কে অবলীলায় নিরাময়ের কথা বলে থাকেন, যেটা অবৈজ্ঞানিক। কিন্তু অটিজম নিয়ে বর্তমান গবেষণার আলোকে তিনি এবং অন্য গবেষকগণ নিশ্চয়ই অটিজমের প্রাথমিক পর্যায়ে ডায়াগনোসিস ও চিকিত্সা সম্পর্কে আশান্বিত হতে পারেন। অন্তত: নতুন গবেষণা রিপোর্টের তথ্যে সে রকমই বলা হয়েছে। অটিজম নিয়ে এই নতুন গবেষণার প্রধান কানেকটিকাট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ ড. দেবোরা ফেইন বলেন, ৫ বছর বয়সের আগে অটিজম ডায়াগনোসিস করা হয় এমন ৩৪ জনকে অন্তর্ভূক্ত করা হয় গবেষণায় এবং যাদের বর্তমানে অটিজমের কোন উপসর্গ নেই। ড. ফেইন ও তার গবেষকদল অন্য ৩৪ জনকে গবেষণায় অন্তর্ভূক্ত করেন যাদের অটিজম ডায়াগনোসিস হয়নি। ফলাফলে উভয় গ্রুপের মধ্যে কোন পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়নি।