দুদকের অবস্থান পছন্দ করছেন না অনেক সরকারি কর্মকর্তা

পদ্মা সেতুর দুর্নীতির ষড়যন্ত্র নিয়ে সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশারফ হোসেন ভুঁইয়া ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী মো. ফেরদৌসকে গ্রেফতার করায় এ প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট অনেক সরকারি কর্মকর্তা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। তারা দুদকের অবস্থান পছন্দ করছেন না। বিশেষ করে সেতু বিভাগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তাদের অনেকেই বদলির জন্য সরকারের উচ্চপর্যায়ে মৌখিক তদবির শুরু করেছেন। প্রশাসনের অন্যত্রও এর প্রভাব পড়ছে। প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেছেন, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির বিষয়টি দুদক যেভাবে সামলাচ্ছে তাতে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের ভীতির সঞ্চার হয়েছে। অনেকেই বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারছেন না। প্রায় এটি নিয়ে বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলাপ আলোচনাও হচ্ছে। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করলে তারা বলেন, এভাবে চলতে থাকলে কর্মকর্তাদের পক্ষে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিয়ে যাওয়া কঠিন হবে। তারা রীতিমতো ভয় পাচ্ছেন। সরকারি কোন কর্মকর্তা দুর্নীতি করলে যথাযথ বিচারের মাধ্যমে তার শাস্তি হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই কাজটি সুনির্দিষ্ট কাগজপত্র, নথি বা প্রমাণের ভিত্তিতেই হওয়া উচিত। কে কোথায় কি বলল বা লিখে রাখল তার ভিত্তিতে যদি সবকিছু হয় তাহলেতো কেউ কিছু করতে সাহস পাবে না। পদ্মা সেতুর দুর্নীতির তদন্ত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ২৬ ডিসেম্বর সেতু বিভাগের সাবেক সচিব মোশারফ হেসেন ভুঁইয়া ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী কাজী মো. ফেরদৌসকে গ্রেফতার করে দুদক। তাদের ৭ দিনের রিমান্ডে রাখা হয়। পরে ঢাকা সিএমএম আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের জেলে পাঠিয়ে দেন। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, অন্যভাবেও তাদের জেরা করা যেত। যেভাবে আগে অনেককে জেরা করা হয়েছে। তার মতে, এই দু’জনকে গ্রেফতারের মাধ্যমে দুদক বিশ্বব্যাংক বিশেষজ্ঞ দলের কাছে ইতিবাচক বার্তা পাঠাতে চাইছিল। তবে সে প্রচেষ্টাটি কাজে লাগেনি। কারণ বিশ্বব্যাংক বিশেষজ্ঞ দল সমপ্রতি যে চিঠি পাঠিয়েছে তাতে বাংলাদেশের ক্রয়সংক্রান্ত আইন (পিপিএ ২০০৬) অনুযায়ী কেনাকাটার ক্ষেত্রে বিভিন্ন স্তরের সরকারি কর্মকর্তাদের দায়-দায়িত্ব ও ক্ষমতার কথা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ রক্ষা করে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। গত বৃহস্পতিবার এই বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার সময় কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, পদ্মা সেতুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক কর্মকর্তাই সামগ্রিকভাবে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিমর্ষ। ইতিমধ্যে কেউ কেউ অন্য ডেস্কে চলে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এ বিষয়ে দুদকের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান ইত্তেফাককে বলেছেন, ১৬ কোটি মানুষের দেশ। প্রত্যেকেই নিজের মতো করে ভাবতে পারেন। কিন্তু আমরা যা করেছি তা ঠিক করেছি। আইন অনুযায়ী যা প্রয়োজন ছিল তাই করেছি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের উত্কণ্ঠা থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে আমি একে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখি। দেখতে হবে শেষ পর্যন্ত পরিণতি কি হয়। এ ব্যাপারে আগাম মন্তব্য করা ঠিক হবে না।