বরিশালে পরিবহন ধর্মঘটের হুমকি
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:০২
ভারত থেকে আমদানিকৃত আলফা-মাহেন্দ নামের যানবাহন চলাচল বন্ধের জন্য যখন নগরীর বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ আন্দোলন করছে তখন নতুন করে আরো দু’শ অটোরিকশার লাইসেন্স প্রদান করায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নগরী। আলফা-মাহেন্দ দুর্ঘটনায় গত দু’ বছরে নগরীতে ১১ জন নিহত হয়েছে। সর্বশেষ গত ১০ জানুয়ারি দুর্ঘটনায় নিহত হয় গণমাধ্যম কর্মী মো: রোকন। পরদিন আলফা-মাহেন্দ চলাচল বন্ধের দাবিতে বরিশাল বাস মালিক সমিতি ও বরিশাল প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে আল্টিমেটাম দেয়া হয়। ১৪ জানুয়ারি নগরীতে এ যানবাহন চলাচল বন্ধের দাবিতে সংবাদপত্র প্রতিনিধি পরিষদ মানববন্ধন করে। তার একদিন পরই বিআরটিএ’র আঞ্চলিক কমিটি নতুন করে আরো দু’শ আলফা-মাহেন্দ , পিয়াজা, এপিও এবং জেএস নামের যানবাহনের নতুন লাইসেন্স প্রদান করে। সংশ্লিষ্ট অফিসের ঊর্ধ্বতন কতিপয় কর্মকর্তা অর্ধকোটি টাকার উেকাচের বিনিময়ে এ লাইসেন্স প্রদান করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। লাইসেন্স পাওয়ার জন্য ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত এক শ্রমিক নেতা হাতিয়ে নিয়ে আঞ্চলিক কমিটির সাথে রফা করেছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। লাইসেন্সপ্রাপ্ত কয়েকজন আলফা-মাহেন্দ মালিক মোটা অংকের টাকা এক শ্রমিক নেতাকে দেয়ার কথা স্বীকার করে জানান, টাকা ছাড়া এখন কেউই লাইসেন্স পান না। শুধু তাই নয় আফলা-মাহেন্দ কে ঘিরে যে অটো শ্রমিক ইউনিয়ন গড়ে উঠেছে সে সংগঠনে দৈনিক তারা দু’শ করে টাকা দেন। এ টাকার অর্ধেক ট্রাফিক পুলিশ ও অর্ধেক সংগঠনের কাজে খরচ হয় বলে তারা জানান। দ্রুতগতির এ যানটি যারা চালায় তাদের সিংহভাগই অদক্ষ। ড্রাইভিং লাইসেন্স তো দূরের কথা সড়ক বাতি বা সংকেত পর্যন্ত চেনে না। যারা এক সময় রিকশা, অটো বা টেম্পো চালাতো তারাই এখন এ আলফা-মাহেন্দ চালাচ্ছে।
বিআরটিএ’র হিসাবে জেলায় লাইসেন্সধারী অটোর সংখ্যা সহস্রাধিক। বেসরকারি হিসাবে এর সংখ্যা আরো অনেক বেশি। যানবাহন চালকরা জানায়, বরিশাল ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ঝালকাঠী, পিরোজপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ থেকে লাইসেন্স নেয়া আলফা-মাহেন্দ বরিশালের সীমানায় অবাধে চলাচল করছে। তারা কোন রুট পারমিট ছাড়াই বানারীপাড়া, স্বরূপকাঠী, নতুল্লাবাদ, নতুন বাজার, রুপাতলী, লঞ্চঘাট, দপদপিয়া ও কালিজিরা এলাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় চলাচল করছে। এসব যানবাহন চলাচল বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলনের মুখে উল্টো আরো দু’শ লাইসেন্স প্রদানের খবরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এখানকার পরিস্থিতি। লাইসেন্স প্রদানের খবরটি গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় একটি দৈনিকে প্রকাশিত হয়। ঐদিন রাতেই মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিনের নেতৃত্বে নগরীতে মিছিল বের হয়। গত শুক্রবার বরিশাল বাস মালিক সমিতি জরুরি সভা করে নতুন লাইসেন্স দেয়া যানবাহন রাস্তায় নামার সাথে সাথে অনির্দিষ্টকালের জন্য পরিবহন ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বরিশাল প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে আল্টিমেটাম উপেক্ষা করে নতুন লাইসেন্স দেয়ায় আজ অশ্বনী কুমার হলের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশের এসি গোলাম বেনজীর জানান, আলফা-মাহেন্দ বিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সার্জেন্টদের অবৈধ যানবাহন আটকের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিআরটিএ’র অফিসের কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে নতুন দু’শ লাইসেন্স প্রদানের কথা স্বীকার করেছেন। এ ব্যাপারে সিটি মেয়র শওকত হোসেন হিরন জানান, আলফা-মাহেন্দ সহ অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধের জন্য যোগাযোগ মন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করেছি। চলমান আন্দোলনকে তিনি যৌক্তিক বলে জানান, আলফা-মাহেন্দ বেপরোয়াভাবে চলাচলের কারণেই দুর্ঘটনা বাড়ছে। এটা বন্ধ হওয়া দরকার।