আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পেট্রোল পাম্পে ধর্মঘট
প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০১৩, ২২:২৬
আজ রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংক লরি মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট। সেই অনুযায়ী আজ থেকে জ্বালানি তেল উত্তোলন, বিপণন বা পরিবহন বন্ধ থাকবে। গতকাল শনিবার রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানের পাম্প স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। বেশ কয়েকটি পাম্পই তাদের মজুদ ফুরিয়ে গেছে বলে দাবি করেছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরে বিক্রেতাদের কমিশন বাড়ানোসহ ৮ দফা দাবিতে এই ধর্মঘটের ডাক দেয়া হয়েছে। রাতে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়নি।
পরিষদের সমন্বয়কারী মোহাম্মদ নাজমুল হক ইত্তেফাককে জানান, বিপিসির পক্ষ থেকে রবিবারের পরে আলোচনায় বসার জন্য বলা হয়েছিল। আমাদের এই দাবি নতুন নয়। এক সপ্তাহ আগে সাংবাদিক সম্মেলন করে ধর্মঘটের কথা বলা হয়েছে। আরো এক মাস আগে চিঠি দিয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার আলোচনায় বসার কোন উদ্যোগ নেয়নি।
বিদ্যুত্ জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ইত্তেফাককে বলেছেন, তাদের দাবি অযৌক্তিক। তারপরও আমরা তাদের সঙ্গে আগামীকাল সোমবার আলোচনায় বসবো।
কমিশন বাড়ানো ছাড়া অন্য দাবির মধ্যে- ট্যাংকলরির ভাড়া বাড়ানো, শ্রমিকদের দুর্ঘটনা বীমা পাঁচ লাখ টাকা করা, তেল ডিপোর টার্মিনাল সংস্কার, ভেজাল রোধে বিএসটিআই’র টলারেন্স মাত্রা যৌক্তিক পর্যায়ে নির্ধারণ করা অন্যতম।
ডিজেলে কমিশন বাড়িয়ে তিন দশমিক চার শতাংশ এবং পেট্রোল ও অকটেনে চার শতাংশ করার দাবি জানানো হয়েছে। বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি করে পাম্প মালিকরা দুই দশমিক ৪৫ শতাংশ, পেট্রোলে তিন দশমিক ২৭ শতাংশ এবং অকটেনে তিন দশমিক ৩০ শতাংশ হারে কমিশন পান।
নাজমুল হক বলেন, গত ২০১০ সালের জুন মাসে সরকার কমিশন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেও আজও তা বাস্তাবায়ন করা হয়নি। এ পর্যন্ত কয়েক দফা জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু তেলের কমিশন বাড়ানো হয়নি। এতে পেট্রোল পাম্প মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ২০১০ সালের সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আরো এক সপ্তাহ সময় দিয়ে আমরা আজ থেকে লাগাতার ধর্মঘটে যাব। ধর্মঘটের সময় দেশে প্রায় নয় হাজার পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংক লরির মাধ্যমে জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর কারণে প্রতি লরিতে (নয় হাজার লিটারে) ডিজেল পরিবহনে বাড়তি ৬৩ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। পেট্রোল ও অকটেনেও সমপরিমাণ খরচ হচ্ছে।