আদমপুর
নারীদের উঠান বৈঠক
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:৫১
পৌষের বিকেল। মিষ্টি রোদ। দুটি টিনের ঘর। সামনে ছোট্ট উঠান। সেই উঠান জুড়ে বসে আছে-নানা বয়সের অর্ধশতাধিক নারী। সঙ্গে আছে তাদের ছোট-ছোট ছেলে-মেয়েরা। আরও আছে কয়েকজন কিশোরী। আর তাদের সবার উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখছেন মাঝবয়সী একজন লোক। সবমিলিয়ে ছোট-খাটো আলোচনা সভার মতো। তবে এটা কোনো গতানুতিক আলোচনা সভা বা সেমিনার নয়। কিংবা কোনো ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও নয়। মূলত এটি একটি পরামর্শ সভা বা বৈঠক। আর এই বৈঠকের মূল বিষয়বস্তু ছিলো কিভাবে মায়েরা তাদের ছেলে-মেয়েদের লালন-পালন করবেন। কিংবা কিভাবে মায়েরা তাদের ছেলে-মেয়েদের শিক্ষা প্রদান করবেন। এছাড়া ছেলে-মেয়েদের প্রতি মা-বাবার দায়িত্ব ও কর্তব্য এবং মা-বাবার প্রতি ছেলে-মেয়েদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কেও এই বৈঠকে আলোচনা হয়।
উঠান বৈঠক নামে ব্যতিক্রমী এই বৈঠক বা পরামর্শ সভাটি বসে কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জ দক্ষিণ ইউনিয়নের আদমপুর মত্স্য গ্রামের শাহানাজ বেগম ও জাহানারা বেগমের বাড়ির উঠানে। সামাজিক সংগঠন বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন এই বৈঠকের আয়োজন করে। গত ২৩ ডিসেম্বর বিকেলে এটি অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষিত জাতি উন্নত দেশ, মা-বাবা একমত-গড়তে সন্তানের ভবিষ্যত্ শ্লোগানের এই বৈঠকে উপস্থিত মায়েদের পরামর্শ দেন বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা ও বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক অধ্যাপক মতিন সৈকত। তিনি বলেন, ‘ছেলে-মেয়েদের বেড়ে ওঠার জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করে আদর্শ মা-বাবা। বিশেষ করে মা। তাই ছোটবেলায় ছেলে-মেয়ে যা কিছু শিখে তা মায়ের কাছেই শিখে। বলা যায় মা-ই সন্তানের প্রথম শিক্ষকের ভূমিকা পালন করে। সেজন্য প্রত্যেক মা-বাবাকে, বিশেষ করে মাকে সন্তানের শুরু থেকে বেড়ে ওঠা কিংবা ভবিষ্যতের কথা ভাবা উচিত। আর শুরু থেকে সন্তানের প্রতি খেয়াল রাখলে বা যত্নবান হলে সন্তানের বিপদে যাওয়ার সম্ভাবনাও খুবই কম থাকে।’
বাংলাদেশ ফেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী পরিচালক এসএম মিজান বলেন, ‘সন্তান বড় হওয়ার পেছনে মায়ের ভূমিকা থাকে সবচেয়ে বেশি। তাই সন্তানকে গড়ে তোলার বিষয়ে যদি মায়েদের সচেতন করা যায়, তাহলে দেশের প্রতিটি ঘরে ঘরেই সু-সন্তান বেড়ে উঠবে। আর সেজন্যই মায়েদেরকে সচেতন করতে আমাদের এই আয়োজন। আশা করি এই আয়োজন আমরা নিয়মিত বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে করবো।’
উঠান বৈঠকে অংশগ্রহণকারী আদমপুর মত্স্য গ্রামের শাহানাজ বেগম ও জাহানারা বেগম বলেন, ‘এই বৈঠক সচেতন মায়েদের জন্য অনেক উপকারী। কারণ এই বৈঠকে একজন মা সন্তানকে কিভাবে বড় করে তুলবে, তা নিয়ে বিভিন্ন পরামর্শের কথা তুলে ধরা হয়েছে।’ বৈঠকে অংশ নেয়া ইলিয়টগঞ্জ রাবি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী কিশোরী আফসানা বললো, ‘মায়ের কাছে ছেলে-মেয়ে প্রাথমিক শিক্ষা-দীক্ষা পায়। তাই মায়েরও অনেক কিছু জানাশোনা প্রয়োজন।’
বৈঠকে সু-সন্তান গড়ে তোলার বিষয়ে মায়েদের বিভিন্ন পরামর্শ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, সন্তানদের বিদ্যালয়মুখী করা, শিশুদের দিয়ে পরিশ্রম না করানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া কাজের অবসরে মায়েরা বাড়ির আঙ্গিনায় শাক-সবজি চাষ, হাঁস-মুরগি পালন কিংবা নানা রকম হাতের কাজ করে বাড়তি আয় করতে পারেন, সে বিষয়েও আলোচনা করা হয়েছে।