আমি একজন শিল্পী হিসেবে এই বৈষম্যের প্রতিবাদ করবো। এই অবস্থা শুধু আমাদের সমাজে নয় সমগ্র বিশ্বের তাই সমগ্র নারী-পুরুষ মিলেই প্রতিরোধ করতে হবে। শিল্পী পথ খোঁজে উত্তরণের স্বাধীনতার। আমিও খুঁজে বেড়াই
দামিনীর জন্য প্রিয়রঞ্জিনী
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০১৩, ১৮:৫৩
দামিনীর যে কষ্ট ছিল, তা কিন্তু কোন অবস্থাইতে তার একার নয়। প্রতিনিয়তই আমরা প্রত্যেকটা মেয়ে শারীরিক আর মানসিক কষ্ট নিয়ে বেড়াই। এই কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে চাই আমরা। এই কষ্ট থেকে মুক্তি চাই আমি তাই আমি ধহ বঢ়রপ ড়ভ বসধহপরঢ়ধঃরড়হ বাংলায় অন্তর মুক্তি শিরোনামে প্রদর্শনী করতে যাচ্ছি। এই মুক্তিকে আমি উত্সর্গ করছি দামিনীর জন্য। এটি আমার পঞ্চম একক প্রদর্শনী, আমি দামিনীর জন্য উত্সর্গ করলাম। শিল্পী রাজেশ্বরী প্রিয়রঞ্জিনী ভারতের তিনটি স্থানে দিল্লী, চন্ডিগর, পাঞ্জাব তার প্রথম ভ্রাম্যমাণ চিত্র প্রদর্শনী করতে যাচ্ছেন। ভারতের ন্যাশনাল আর্ট সেন্টার আয়োজন করছে এই প্রদর্শনীর। যাওয়ার আগে শিল্পী তার ছবি, ভবনা, ভাললাগা কষ্টের কথা বলেছেন অকপটে। তিনি মনে করেন নারী যত ক্ষমতাধর হোক, যত বড় চাকরি করুক। তার মুক্তি নেই, নেই প্রজাপতির মতো স্বাধীনতা। ভেতরের চাওয়া জীবনকে উপলব্ধি করে চলে তার আনন্দ, ভালবাসাকে অন্বেষণ করা। তার ছবিগুলো নিয়ে জানতে চাইলে বলেন রঙ আমার ভাষা।
নীল বেদনা, লাল-সবুজ স্বাধীনতা, প্রজাপতি বাঁধনহীন, পাখি ইচ্ছে এভাবেই ভাবেন তিনি। তিনি মনে করেন শিল্পীর সার্থকতা মুক্তিতে। বেগম রোকেয়া, সুফিয়া কামাল যে সমাজের কথা বলে গেছেন, যার জন্য সংগ্রাম করেছেন আমরা আজও তার সন্ধান করতে পারিনি। তাই ধর্ষণের শিকার যেমন হচ্ছে নারী তেমন তার মানসিক অপমান হচ্ছে নিরন্তর। প্রেমিক করছে প্রতারণা, স্বামী দিচ্ছে প্রবঞ্চনা, বন্ধু ঠকাচ্ছে। এই যে কষ্ট তা দূর করতে প্রয়োজন ভালবাসা, সম্মান আর শ্রদ্ধাবোধকে শানিত করা। তিনি বলেন নারীর কিন্তু অনেক শক্তি। সেই শক্তির বলেই মালালা প্রতিবাদ করেছে। অসম্ভবকে সম্ভব নারীই করতে পেরেছে। মা ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীকে তার বিস্ময় মনে হয়। যে জায়গা থেকে তিনি আজকের অবস্থানে এসেছেন তা সত্যি এক মহাকাব্য, যা একজন নারীই পারে। তার আবেগকে অনেক নিবিড়ভাবে স্পর্শ করে আছে মুক্তিযুদ্ধ। সে সময়ের বীরাঙ্গনাদের সম্মানে বারবার মাথা নত হয়ে আসে। আরও নত হয়ে আসে এখনও তাদের যথাযথ সম্মাননা দিতে না পারার কষ্টে। এই কষ্টকেও তিনি ধারণ করেছেন ছবিতে। সবুজ শরীরে নারীর শারীরিক সৌন্দর্যের বিস্ময়কেও তিনি ছুঁতে চেয়েছেন বীরাঙ্গনা শিরোনামে। নারীর শক্তির বলে শিল্পী নিজেও বলিয়ান। তাইতো থাইরয়েড ক্যান্সার নিয়ে চলছে অবিরত ছুটেচলা। ভারতের প্রদর্শনী নিয়ে বলেন তিনটি জায়গা প্রদর্শনীর কথা জানান হয়েছে। আরও তিন জায়গায় প্রদর্শনী হবে। এখন এমন একসময় খবরের কাগজে প্রতিদিন নারীর সম্মান হননের খবর ছাপা হচ্ছে। আমরা প্রতিবাদ করছি রাস্তায় দাঁড়াচ্ছি। এক হচ্ছি তারপরও বৈষম্য নারীর জন্য। আমি একজন শিল্পী হিসেবে এই বৈষম্যের প্রতিবাদ করবো। এই অবস্থা শুধু আমাদের সমাজে নয় সমগ্র বিশ্বের তাই সমগ্র নারী-পুরুষ মিলেই প্রতিরোধ করতে হবে। শিল্পী পথ খোঁজে উত্তরণের স্বাধীনতার। আমিও খুঁজে বেড়াই।