অবশেষে হারল ‘অপরাজেয়’ বার্সা

সেই ২০১২ সালের ২১ এপ্রিল সর্বশেষ লা লিগায় কোনো ম্যাচ হেরেছিল বার্সেলোনা; তখন ছিল পেপ গার্দিওলার যুগ। তার টিটো ভিলানোভার যুগ শুরু হয়েছে, শুরু হয়েছে নতুন মৌসুম। কিন্তু বার্সেলোনাকে লিগে আর পরাজয়ের মুখ দেখতে হয়নি। একটা সময় মনে হচ্ছিল বার্সেলোনা বুঝি হারতেই ভুলে গেছে। অবশেষে বার্সেলোনাও যে এই পৃথিবীর দল, তাদেরও যে হারতে হয়; সেটাই মনে করিয়ে দিল ‘পুচকে’ দল রিয়াল সোসিয়েদাদ। পয়েন্ট টেবিলের নয় নম্বরে থাকা এই দলটিই নিজেদের মাঠে ইনজুরি টাইমে করা গোলে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে দিল দশজনের বার্সেলোনাকে। আর এই পরাজয়ে শেষ হল বার্সেলোনার অবিশ্বাস্য এক অপরাজেয় যাত্রা। এই ম্যাচটা ছিল দু’ দলেরই রেকর্ড ধরে রাখার লড়াই। একদিকে বার্সেলোনার এই রূপকথার যাত্রা; আরেকদিনে সোসিদেয়াদের এক বিস্ময়কর রেকর্ড। এই ক্লাবটি তিন মৌসুম ধরে নিজের মাঠে হারেনি অন্তত। সেই যাত্রা তারা এবারও ধরে রাখল। অথচ বার্সেলোনা মৌসুমের বাকী ম্যাচগুলোর মতোই দুরন্তভাবে শুরু করেছিল। প্রথমার্ধে শতকরা ৭৫ ভাগ বলের দখল ছিল তাদের হাতে। ফল হিসেবে ম্যাচের ২৫ মিনিটেই ২-০ গোলের লিড নিয়ে নিয়ে বার্সেলোনা। ৭ মিনিটে মেসি ও ২৫ মিনিটে পেদ্রো এগিয়ে দেন বার্সাকে। এর আগে ৫ মিনিটেই মেসি দারুণ সুযোগ মিস করেছিলেন। ৩৯ মিনিটে মেসি নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোল ভেবে উল্লাসও প্রায় শুরু করে দেন। কিন্তু তার চতুর চিপ গোল রক্ষককে ফাঁকি দিলেও বিস্ময়করভাবে পোস্টে লেগে লাইন চলে আসে এবং ক্লিয়ার করে দেন ডিফেন্ডার। তবে এরপরই আসলে কাউন্টার অ্যাটাকে সুযোগ তৈরি করতে থাকে সোসিয়েদাদ। ৪১ মিনিটে ক্যাস্ট্রোর গোলে ব্যবধান কমায় তারা। এরপর দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম দিকেই; ৫৬ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন জেরার্ড পিকে। এই ধাক্কা সামলে উঠতে পারেনি বার্সা। ৫ মিনিট পরই ক্যাস্টোর আরেকটি দুরন্ত শট থেকে সমতা আনে তারা। কিন্তু এই বল আসলে মাচেরানোর পায়ে লেগে ঢোকে জালে। তারপরও সোসিদেয়াদ ঠিক জয়ের জন্য খেলছিল না। তারা ড্রটা ধরে রাখতে আগ্রহী ছিল। কিন্তু ইনজুরি সময়ে এসে কাউন্টার অ্যাটাকে পেয়ে যায় তারা এক ঐতিহাসিক ম্যাচ জেতা গোল। এই পরাজয়ের ফলে যে কোনো ধরনের খেলা মিলিয়ে প্রায় তিন মাস পর পরাজয়ের স্বাদ পেল বার্সেলোনা। গত বছর নভেম্বরে চ্যাম্পিয়নস লিগের ফিরতি লেগে তারা হেরেছিল সেল্টিকের বিপক্ষে। তারপর আর কোনো ম্যাচে হারেনি। আর চলতি বছর লা লিগায় এর আগ পর্যন্ত ১৯ ম্যাচে কোনো পরাজয় তো নেই-ই। আগের মৌসুমের শেষ চার ম্যাচেও অপরাজিত ছিল বার্সা। ফলে শুধু লা লিগার হিসেবে এই ম্যাচের আগে বার্সা ২৩ ম্যাচ অপরাজিত ছিল। অবশ্য এই হারকে স্বাভাবিকভাবেই নিচ্ছেন বার্সেলোনার কোচ খেলোয়াড়রা। কোচ টিটো ভিলানোভা বলছেন, এই জয়ের জন্য অবশ্যই সোসিদেয়াদ প্রশংসা আশা করতে পারে, ‘তারা আজ জয় পাওয়ার মতোই খেলেছে। একটা দিন খারাপ যেতে পারে। আমাদের সেই দিনটা ছিল এদিন।’ তবে ভিলানোভা ক্ষুব্ধ পিকেকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখানোয়। তিনি বলছেন, এটা সেরকম ফাউল ছিল না, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই এটা ফাউল ছিল। কিন্তু এটাতে কার্ড দেখালে এই ম্যাচেই শত খানেক কার্ড দেখাতে হত। অবশ্য আমি পিকেকে বলেছিলাম, আরেকটু সতর্ক থাকতে।’ কোচ যাই বলুন, অধিনায়ক কার্লেস পুওল বলছেন, তাদের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়া উচিত ছিল, ‘প্রথমার্ধেই তো আমরা আরো বড় ব্যবধান তৈরি করতে পারতাম। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্যই আমাদের আরো ভালো খেলা উচিত ছিল। জয় নিয়ে মাঠ ছাড়া উচিত ছিল।’