কেশবপুরে অজানা আতঙ্কে শঙ্কিত জনগণ! রাত জেগে পাহারা

যশোরের কেশবপুরের জনগণ অজানা আতঙ্কে শঙ্কিত হয়ে পড়েছে। একটি কুচক্রীমহল সুপরিকল্পিতভাবে মহিলাদের মাধ্যমে গোটা উপজেলাব্যাপী গুজব ছড়াচ্ছে। তারা বলছে, দুটি মাইক্রোবাসে করে একটি বোরকা পরিহিত বাহিনী এলাকায় ঢুকে বাড়ির সকলকে জিম্মি করে মহিলাদের সম্ভ্রমহানিসহ অর্থ সম্পদ লুটে নিয়ে যাচ্ছে।

এ ঘটনায় স্থানীয়রা রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন বলেও খবর রটানো হচ্ছে। বাস্তবে এর কোন ভিত না থাকলেও গত এক সপ্তাহ ধরে এ গুজব গোটা উপজেলাব্যাপী ছড়িয়ে পড়ায় ছাত্রী, মহিলাসহ অভিভাবকরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

জানা গেছে, অতীত থেকে শান্তিপ্রিয় এলাকা হিসেবে কেশবপুরের পরিচিতি রয়েছে। এখানকার জনগণ ঝামেলা ছাড়াই চলাচল করতে অভ্যস্ত। শান্ত কেশবপুরকে হঠাৎ অশান্ত করতে দীর্ঘদিন গা ঢেকে থাকা স্বাধীনতা বিরোধীরা আবারও মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে। এলাকায় গুজব রটাতে ওই মহলটি বোরকা পরিহিত বাহিনীকে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ আতঙ্কে গ্রামাঞ্চলের মহিলারা সন্ধ্যার সঙ্গে সঙ্গে ঘরের মধ্যে ঢুকে দরোজা, জানালা বন্ধ করে দিচ্ছে। এসব এলাকার পুরুষেরা মহিলাদের সম্ভ্রম ও সম্পদ রক্ষায় সন্ধ্যার পর পরই গ্রাম পাহারা দিচ্ছে। উপজেলাব্যাপী জনগণের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করতে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে। 

উপজেলার লহ্মীনাথকাটি গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা জিয়াউর রহমান জানান, মঙ্গলবার শিকারপুর গ্রামের জনৈক গৃহবধূ বোরকা বাহিনীর হাতে ধর্ষণের শিকার হয়েছে এমন গুজব প্রচার হওয়ার পর থেকে এলাকায় আতংক ছড়িয়ে পড়ে। এলাকার মহিলাদের সম্ভ্রম ও ধন সম্পদ রক্ষায় গত ১ মে থেকে গ্রামে পাহারা দেওয়া শুরু হয়েছে। 

মির্জাপুর গ্রামের তুহিন বলেন, ‘শুনেছি বিভিন্ন এলাকায় নাকি ওই ধরনের ঘটনা ঘটছে। এ কারণে তার মহল্লায় মিটিং করে একে অপরের কাছে মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়েছে। কোথাও এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে মোবাইলের মাধ্যমে সবাই একত্রিত হয়ে প্রতিরোধ করা হবে।’

শ্রীফলা গ্রামের আব্দুল খালেক বলেন, ‘তার গ্রামে গত ১ সপ্তাহ ধরে অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। এখনও পাহারা দেওয়া শুরু না করলেও এ ব্যাপারে জনগণ যথেষ্ট সচেতন রয়েছে।’

এ ব্যাপারে শিকারপুর গ্রামের মেম্বার মনিরুজ্জামান মনি বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে এলাকায় গুজব রটে যায় শিকারপুর গ্রামের জনৈক গৃহবধূর হাত ধরে কারা টানাটানি করেছে। পরের দিন সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে এর কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। এমনকি থানা পুলিশও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।’

সরেজমিনে মজিদপুর, হাসানপুর, বিদ্যানন্দকাটি, মঙ্গলকোট ও সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন ঘুরে বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা শুধু গুজবের কথা শুনেছেন। বাস্তবে কোন মহিলার সম্ভ্রমহাহি বা ডাকাতি হয়েছে এর কোন সঠিক তথ্য কেউ দিতে পারছে না। তবে এ ধরনের অপপ্রচার কারা রটাচ্ছে তাও কেউ বলতে পারছে না। 

মজিদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী গোলাম সরোয়ার বলেন, ‘স্বাধীনতা বিরোধীরা দীর্ঘদিন ভোট বর্জন করার পর গত উপজেলা নির্বাচনে ভোটের মাঠে নেমেছিল। এ ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে তারা এলাকায় আবারও সংঘবদ্ধ হয়ে আন্দোলনের সূত্রপাত করছে। তার মজিদপুর ইউনিয়নবাসিকে অশান্ত করতে পরিকল্পিতভাবে ৩/৪ গ্রামে এ ধরনের অপপ্রচার চালিয়েছে।’

কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিন বলেন, ‘বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের ঘটনা শুনে সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। একটি মহল এলাকাকে অস্থিতিশীল করে পুলিশকে ব্যাকফুটে নেওয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ওই অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি ও ভীতি দূর করতে উঠান বৈঠক, সভা, সমাবেশ করা হচ্ছে। এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বার এবং গ্রাম পুলিশের পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদের ঈমাম, মন্দিরের পুরহিত, গন্যমাণ্যরাও একই কাজ করে যাচ্ছেন।’

আরও পড়ুনঃ ঈশ্বরদীতে গণধর্ষণ মামলার ২ আসামি গ্রেফতার

তিনি আরও বলেন, ‘যারা এর সঙ্গে জড়িত অচিরেই তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’

ইত্তেফাক/নূহু