মতলব উত্তরে এক বছরে ১৬
খুন, অপমৃত্যু ২৬
মতলব উত্তর (চাঁদপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:০৪
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় গত ১ বছরে খুন হয়েছে ১৬ জন, নারী নির্যাতন ৩৮ আর অপমৃত্যু ২৬টি। এছাড়াও ডাকাতি ৩টি ও ১টি অস্ত্র মামলা হয়েছে। ১৬ খুনের মধ্যে ২০১২ সালের জানুয়ারিতে ৩টি, এপ্রিলে ২টি, মেতে ১টি, জুনে ১টি, আগস্টে ৩টি, অক্টোবরে ১টি, নভেম্বরে ৪টি ও ডিসেম্বর মাসে ১টি খুন সংঘটিত হয়েছে। ১২ জানুয়ারি উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার বালুচর গ্রামের নবীর হোসেন (৩০) ভাড়াটিয়া মোটরসাইকেল চালক খুন হন। ১৩ জানুয়ারি দিনে উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামে নবীর হোসেনের লাশ পাওয়া যায়। খুনিদের চিহ্নিত করতে না পাড়ায় এই মামলার কোন অগ্রগতি নাই। ২৩ জানুয়ারি উপজেলার সাদুল্যাপুর গ্রামের রাশিদা বেগম (৩২) নামে এক গৃহবধূ যৌতুকের বলি হন। পরদিন ২৪ জানুয়ারি গজরা ইউপি’র মৈষাদী গ্রামে লিপি আক্তার (৩২) নামে আরেক গৃহবধূ যৌতুকের কারণে পাষণ্ড স্বামী কর্তৃক খুন হন। ৬ এপ্রিল ষাটনল ইউপি’র ষাটনল গ্রামের বাবুরবাজার সংলগ্ন এলাকায় অজ্ঞাত (৩০) নামে এক যুবকের লাশ পাওয়া যায়।
১৬ এপ্রিল ফতেপুর পূর্ব ইউপি’র ভাটি রসুলপুর গ্রামে পরকীয়া প্রেমের জের ধরে রুমা (৩০) নামে এক গৃহবধূ খুন হন। ৯ মে রাত সাড়ে নয়টার দিকে এনায়েতনগর বাজারে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী লিয়াকত (৫০) খুন হন। উক্ত মামলাটি সিআইডিতে যাওয়ায় বিচার নিয়ে শংকায় রয়েছে বাদীপক্ষ। ৩ জুন সাড়ে পাঁচানী গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে খুন হন মজিবুর রহমান। ২৬ আগস্ট ফতেপুর পশ্চিম ইউপি’র পূর্ব নাউরীতে মজিবুর রহমান ঢালী (৫০) নামে একজন তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে খুন হন। ২৭ আগস্ট ফরাজীকান্দি ইউপি’র নয়াকান্দিতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শাহ আলম (২৫) নামে এক যুবক খুন হন। একইদিন উপজেলার এখলাছপুরে অজ্ঞাত পুরুষের লাশ পুলিশ উদ্ধার করে। ৭ অক্টোবর সুলতানাবাদ ইউপি’র ফরিদকান্দিতে চুরি করতে এসে দুর্বৃত্তরা গৃহকর্মী অহিদুন্নেছাকে খুন করে। ৮ নভেম্বর ষাটনল লঞ্চঘাট হতে অজ্ঞাত এক যুবকের লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। ২৫ নভেম্বর রাতে উপজেলার কালিপুরে ভাড়াটিয়া মোটরসাইকেল চালক কবিরের লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ। কবিরের বাড়ি উপজেলার পশ্চিম জীবগাঁও গ্রামে।
কেশাইরকান্দি মাদ্রাসার পাশে মাদ্রাসার ছাত্র মাছুম বিল্লা রাব্বানীর (১০) লাশ পাওয়া যায় নিখোঁজের ৪ দিন পর। ৯ ডিসেম্বর মোহনপুর গ্রামের নুরুল ইসলামকে (৩০) হত্যা করে তার ভাড়াটিয়া মোটরসাইকেল নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এই ১৬টি হত্যা মামলার বেশিরভাগ মামলারই নেই উল্লেখযোগ্য কোন অগ্রগতি। তবে ১৬টি হত্যা ছাড়াও নারী নির্যাতন ঘটনায় মতলব উত্তর থানায় মামলা হয়েছে ৩৮টি, অপমৃত্যু ২৬টি, ডাকাতি ৩টি এবং অস্ত্র মামলা ১টি। উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার কয়েকজনের সাথে কথা হলে তারা জানান, মতলব উত্তর উপজেলার আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। আর এখানকার আইন-শৃংখলার অবনতির কারণেই হত্যা, নারী নির্যাতন, চুরি, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা মনে করেন, যদি আইন-শৃংখলার উন্নতি না ঘটে তবে ভবিষ্যতে আরো অপরাধ বৃদ্ধি পেতে পারে। এ ব্যাপারে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ খান মো. এরফান বলেন, আমি মতলব উত্তর থানায় সদ্য যোগদান করেছি। সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সহযোগিতা পেলে মতলব উত্তরে আইন- শৃংখলার উন্নতি অবশ্যই হবে।