ভাঙ্গা স্কুলে মেঝেতে লেখাপড়া
নান্দাইল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০১৩, ২১:১৮
ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের ১০২ নং রায়পাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ সাত বছর ধরে মেঝেতে বসে পাঠ নিচ্ছে। বিদ্যালয়ের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছে মাত্র ৭টি বেঞ্চ। দরজা-জানালাবিহীন জরাজীর্ণ একটি ভবনে নিরানন্দ পরিবেশে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে যাচ্ছে। অথচ এমনটি কথা ছিল না। কয়েক বছর আগে স্কুলের নতুন ভবন আংশিক নির্মাণ হলেও প্রশাসনিক জটিলতায় ভবনের কাজ আজও সমাপ্ত হয়নি। ফলে পুরনো ভাঙ্গা ভবনেই ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনা করে যেতে হচ্ছে।
নান্দাইল উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে রায়পাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির অবস্থান। ১৯৩৮ সালে এ বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। এলাকার ৭টি গ্রামের শিশুরা এ বিদ্যালয়ে শিক্ষা গ্রহণ করে আসছে। বর্তমানে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। বিদ্যালয়ের ৭ জন শিক্ষকের মধ্যে আছেন ৫ জন।
বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, শিশু শ্রেণি থেকে চর্তুথ শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীরা পুরাতন পরিত্যক্ত ভবনের মেঝেতে বসে পাঠ নিচ্ছে। চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী খোশনাহার জানায়, সে শিশু শ্রেণি থেকে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। বরাবরই মেঝেতে বসে ক্লাস করে আসছে। তার সহপাঠী মিজানুর রহমান, সাইমা আক্তার, রোমন মিয়া একই কথা জানায়।
তৃতীয় শ্রেণির এ ক্লাসের শিক্ষার্থী রায়হান, ঋতু, সুমাইয়া আক্তার জানায়, এভাবে বসে ক্লাস করতে তাদের ভালো লাগে না। বিদ্যালয়ে লেখাপড়ায় আনন্দ পাই না।
বিভিন্ন ক্লাসে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা মাটিতে বসে আবার কেউ কেউ দাঁড়িয়ে পাঠ নিচ্ছে। শিক্ষার্থী রেখা, রিজবী, পান্না ও রুবেল বলে ‘এই ভাঙ্গা স্কুলে পড়তে আর ভালা লাগে না।’
বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও উপজেলা কৃষকলীগের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক রোকন উদ্দিন জানান, বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনটি কর্তৃপক্ষ ১০ বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে। পরে আধুনিক অবকাঠামোতে ২০০৮-২০০৯ অর্থ বছরে পিডিপির অর্থায়নে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি নতুন ভবনের নিচতলা নির্মাণ করা হয়। এই ভবনের এক অংশে শিক্ষকদের অফিস ও অন্য কক্ষে ৫ম শ্রেণির ক্লাস হয়। এ দিকে ২০০৯-১০ অর্থ-বছরে দ্বিতীয় তলা নির্মাণের জন্য ২৩ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স লিটন সাহা এন্টারপ্রাইজ।
অপর একটি সূত্রে জানা যায়, ভবনের নির্মাণকাজ অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়ায় কর্তৃপক্ষ ঠিকাদারকে কারণ দর্শানের নোটিস দেয় ও দেখভালের দায়িত্বে থাকা এলজিইডি’র উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। সেই সাথে পুনরায় সঠিকভাবে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়।
নান্দাইল উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয় থেকে জানা যায়, নভেম্বর ২০১১ সালে পুনরায় নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর এলজিইডির প্রধান কার্যালয় থেকে জামালপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী কাজী গোলাম মোস্তফাকে তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনেও তিনি এ কাজের তদারকি না করেই বদলি হন এলজিইডি প্রধান কার্যালয়ে। ফলে নতুন দ্বি-তল ভবনটি প্রশাসনিক এই জটিলতায় খুলে না দেয়ায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করা পুরাতন ভবনেই ক্লাস চলছে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের।