রাশিয়া থেকে অস্ত্র কেনার বিষয়ে মন্ত্রী পরিষদে আলোচনা হয়নি

ফরিদপুরে বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, রাশিয়া থেকে ভারি অস্ত্র কেনার বিষয়টি আগে মন্ত্রিপরিষদে আলোচনা করা হয়নি। তিনি অনুষ্ঠান সঞ্চালকের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, অস্ত্র কেনার বিষয়টি বহুল আলোচিত, এ প্রসঙ্গে কারো দ্বিমত থাকতেই পারে। কিন্তু বিশ্বে শান্তি রক্ষায় সুনাম অর্জনকারী আমাদের সেনা বাহিনীকে আধুনিক ও শক্তিশালী করতে সরকার অস্ত্র কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেনা বাহিনীকে আধুনিক করা না হলে বর্তমান বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা সম্ভব হবে না। ফরিদপুর শহরের অম্বিকা ময়দানে শনিবার বিকালে বিবিসির আয়োজনে বিবিসি বাংলাদেশ সংলাপ অনুষ্ঠান মঞ্চে সংলাপে অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্নের উত্তর দেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ও ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, বিএনপির কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য ও ফরিদপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শাহ মো. আবু জাফর, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা নিজেরা করি’র কো-অর্ডিনেটর খুশি কবির ও ফরিদপুর ডায়াবেটিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর শেখ আব্দুস সামাদ। বিবিসির পক্ষে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আকবর হোসেন। ১৫০ জন নির্ধারিত নাগরিকের সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ের উপরে করা প্রশ্নের জবাব দেন অতিথিরা। সংলাপে ঋণ করে রাশিয়া থেকে অস্ত্র আমদানি, আন্দোলনরত শিক্ষকদের উপর পেপার স্প্রে করা, প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করাসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গে আলোচনা করা হয়। খন্দকার মোশাররফ হোসেন আরো বলেন, পদ্ম সেতু আর অস্ত্র কেনা এক কথা নয়। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝিতে সরকার নির্ধারণ করবে কাদের সহায়তায় পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে। বিদেশে আমাদের শ্রমিকদের দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলে সেই পরিবারের সদস্যদের কেউ বিদেশে যেতে চাইলে অগ্রাধিকার দেয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী। আন্দোলনরতদের উপর পেপার স্প্রে করা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর করা ‘ফুলের মালা নিয়ে আন্দোলন ঠেকানো যায় না’ মন্তব্য প্রসঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, ‘‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়তো আবেগ প্রবণ হয়ে কথা প্রসঙ্গে ফুলের মালার কথা বলেছেন। সরকার জনগণের উপর এমন কোন অস্ত্র প্রয়োগ করবে না যার কারণে দীর্ঘ মেয়াদী ক্ষতি হতে পারে।’’ এসময় সহিংস পথ পরিহার করে আন্দোলন করার প্রতি জন্য আন্দোলনকারীদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান। শাহ মো. আবু জাফর ঋণ করে ভারি অস্ত্র কেনার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, বিরোধীদলের আন্দোলন দমন করার জন্যই সরকার রাশিয়া থেকে ভারি সমরাস্ত্র আমদানি করছে। অস্ত্র কেনা প্রসঙ্গে তিনি আরো বলেন, সেনাবাহিনীকে খুশি করতে সরকার এ কাজ করছে। দেশে নাম মাত্র গণতন্ত্র আছে উল্লেখ করে শাহ জাফর বলেন, বৈধ অধিকার আদায়ে আন্দোলনে নামা শিক্ষকদের উপর জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর পেপার স্প্রে করা হয়েছে। এতে দুই শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে অভিযোগ করে তিনি সরকারের দমন নিপীড়ন নীতির সমালোচনা করেন। খুুশি কবির সর্বাগ্রে এদেশের মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে বলেন, এ মুহূর্তে ঋণ করে বিদেশ থেকে ভারি অস্ত্র কেনার কোন যুক্তি নেই। তিনি দুর্ঘটনা ও অপমৃত্যুর শিকার প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক লোনসহ অন্যান্য ঋণ মওকুফ করা ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তা করার জন্য সরকারকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।