এনজিওর অবদান মাথায় রেখে নয়া আইন প্রণয়নের আহবান

এনজিও ব্যুরোকে ডিজিটাল করার কাজ দ্রুত শুরু হবে। এই কাজ শেষ হলে এনজিও কার্যক্রমের তদারকি, প্রকল্প অনুমোদন ও অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে। গতকাল রবিবার ‘সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এনজিওদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক আলোচনায় এ তথ্য দেয়া হয়েছে এনজিও ব্যুরো তরফে। এই আলোচনায় দেশের উন্নয়নে এনজিওদের অবদানের কথা মাথায় রেখে নতুন আইন প্রণয়নের আহবান জানানো হয়। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এনজিও বিষয়ক ব্যুরো আয়োজিত এই আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম। তিনি বলেন, সরকার ও এনজিও সমন্বয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। বর্তমান সরকারের জনকল্যাণমুখী কার্যক্রমের পাশাপাশি এনজিওদের নিরলস প্রচেষ্টা দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দেশ আজ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত। উন্নয়নের প্রায় সব সূচক কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সমাজের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখছে। সবার অংশগ্রহণে ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করা সম্ভব বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি এনজিওগুলোকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল আলোচনায় অংশ নিয়ে এনজিও কার্যক্রমে স্বচ্ছতার উপর জোর দেন। তিনি বলেন, আমরা যদি নিজেরা স্বচ্ছ থাকি তাহলে আমাদের কার্যক্রমে তার ছাপ পড়বে। আর কাজের মধ্যে স্বচ্ছতা না থাকলে কাজের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যাবে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব শেখ ওয়াহিদ উজ জামান বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, এনজিও কার্যক্রমকে আরো গতিশীল ও সুচারুরূপে পরিচালিত করার জন্য সরকার ইতিমধ্যে একটি যুগোপযোগী সমন্বিত আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। ব্র্যাকের সিনিয়র ডিরেক্টর আসিফ সালেহ এ ধরনের আলোচনার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দেশের উন্নয়নে সরকার এনজিওদের সম্পূরক ভূমিকাকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য এরকম আলোচনা অব্যাহত রাখতে হবে। এনজিওদের জন্য একটি আইন হচ্ছে। দেশের উন্নয়নে এনজিওদের ভূমিকার কথা মাথায় রেখে এ আইন প্রণয়ন করার জন্য তিনি আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে এনজিওরা কাজের সুযোগ পায়। আর এ কারণেই গত কয়েক দশকে বেশ কিছু উদ্ভাবনী ধারণা দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছে। এনজিও ব্যুরো মহাপরিচালক নুরুন নবী তালুকদার বলেন, এনজিওদের কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান সরকারের এনজিও সহায়ক ভূমিকার কারণে এ খাতে বৈদেশিক সহায়তার পরিমাণ অনেক বেড়েছে। আলোচনায় অন্যদের মধ্যে অংশ নেন মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী শাহীন আনাম, সেভ দ্য চিলড্রেন ফান্ডের কান্ট্রি ডিরেক্টর মাইকেল ম্যাকগ্রাথ, রাশেদা কে চৌধুরী প্রমুখ। আলোচনায় মূল নিবন্ধ উপস্থাপন করেন এনজিও ব্যুরোর পরিচালক রওনক মাহমুদ। সারা দেশ থেকে এনজিও প্রতিনিধিরা আলোচনায় অংশ নেন।