বিদেশিদের দেখা নেই

শেরবাংলা নগরে জমে ওঠা মাসব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় বিদেশিদের তেমন দেখা মিলছে না। নামে আন্তর্জাতিক মেলা হলেও এবারে মেলায় বিদেশিরা খুব একটা আসছেন না। বিদেশ থেকে মেলা দেখার উদ্দেশ্যে দর্শনার্থীরা আসেন না বললেই চলে। আবার বাংলাদেশে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদেরও তেমন দেখা যাচ্ছে না মেলা প্রাঙ্গণে। হাতেগোনা দু’-একজন বিদেশিকে মাঝে-মধ্যে দেখা যায় মেলার মাঠে। মেলায় অনেক বিদেশি প্যাভেলিয়ন রয়েছে। প্রতিবছরই বিদেশি ব্যবসায়ীরা মেলায় আসছেন পণ্য বিক্রি ও প্রচারণার লক্ষ্য নিয়ে। এবারও এসেছেন অনেকেই। রয়েছে পাকিস্তানি প্যাভেলিয়ন, ইরানি প্যাভেলিয়ন, থাই প্যাভেলিয়ন ইত্যাদি। এসব প্যাভেলিয়নে কর্মকর্তারাও প্রায় সবাই বাংলাদেশি। দু’-একজন পাকিস্তানি ও ইরানিকে দেখা যায় পাকিস্তান ও ইরানের স্টল ও প্যাভেলিয়নে। ভাঙ্গা ভাঙ্গা ইংরেজিতে কথা বলেন তারা দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের সাথে। হঠাত্ করে গতকাল মেলার মাঠে দেখা গেল একদল জাপানিকে। ৬ জনের এই দলটি ঘুরে বেড়াচ্ছিল মেলার এদিক-সেদিকে। স্টল থেকে প্যাভেলিয়নে। কম-বেশি পণ্যও কিনতে দেখা গেল। দলের সাথে ছিলেন দুই বাংলাদেশি। ৬ জনের দলটিতে ছিলেন জাপান-বাংলাদেশ জয়েন্ট ভেঞ্চার সেল লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান তাকাহাতা এবং তার সঙ্গীরা। তাদের মধ্যে একজন বললেন, কোম্পানির কাজে বাংলাদেশে আসা। বাংলাদেশে এসে জানতে পারলাম এখানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা হচ্ছে। তাই কাজের ফাঁকে একটু উপভোগ করতে চলে এলাম। মেলায় আসার আগে বুঝতে পারিনি যে, এত বড় মেলা এবং এত লোক মেলায় আসে। মেলার সমস্ত অঙ্গন ঘুরছি। ভালোই লাগছে। একসাথে এত লোকজন দেখে খুব আনন্দ লাগছে। মেলা থেকে কি কি ক্রয় করছেন? বললেন, বাংলাদেশে তৈরি কিছু খাবার কিনলাম। আমরা সবাই মিলে একটি রেস্টুরেন্টে অনেক কিছু খেলাম। খাবারগুলো খুবই সুস্বাদু। ঢাকার আরো কিছুদিন আছি। মেলায় আবারো আসবো। এবারে মেলায় বিদেশি ব্যবসায়ীদের ভালো কাটছে না। বিদেশি পণ্যেও দামও বেশি এবং পণ্যের উপর ছাড়ও খুবই সীমিত। তেমন ব্যবসা হচ্ছে না, এমনটাই জানালেন পাকিস্তানি প্যাভেলিয়নের কর্মকর্তা সিদ্দীকুর রহমান। তিনি জানান, প্যাভেলিয়নে লোকজন আসছেন, কিন্তু কিনছেন না। ঘুরে ঘুরে দেখছেন। অনেকে দর-দাম করছেন। এবার পণ্যের দাম গত বছরের চেয়ে একটু বেশি। কারণ যাতায়াত খরচ এবং পণ্য তৈরির উপকরণের দাম বেড়ে গেছে।